
শেষ আপডেট: 19 October 2023 11:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সারা শরীরে গ্রেনেড বেঁধে বাড়িতে ঢুকে পড়েছিল হামাস যোদ্ধারা। বাড়িতে তখন বৃদ্ধা র্যাচেল এদ্রি ও তাঁর স্বামী ডেভিড। মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে বৃদ্ধ দম্পতিকে বন্দি বানিয়ে ফেলে হামাসরা। ২০ ঘণ্টার জন্য পণবন্দি করে রাখে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকে। তাঁদের খুন করারই পরিকল্পনা ছিল হামাসের কিন্তু র্যাচেলের উপস্থিত বুদ্ধিতে বেঁচে যান দু’জনেই। ধরা পড়ে আততায়ীরা। ইজরায়েল সফরকালে বৃদ্ধার মুখ থেকে হামাসদের জব্দ করার গল্প শুনে মুগ্ধ হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। জড়িয়ে ধরেন র্যাচেলকে।
কীভাবে বিপদ এসেছিল?
র্যাচেলের ছেলে ইজরায়েলি পুলিশ বাহিনীর অফিসার। ছেলে যখন বাড়িতে ছিল না তখন অতর্কিতেই ঢুকে পড়েন কয়েকজন হামাস যোদ্ধা। র্যাচেল জানাচ্ছেন, মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে একটি ঘরে ঢুকিয়ে দেন তাঁদের। ডেভিডের মাথায় বন্দুক তাক করে থাকেন একজন। অন্যজন তাঁদের সারা বাড়িতে গ্রেনেড বাঁধতে শুরু করে। গোটা বাড়ি উড়িয়ে দেওয়ারই পরিকল্পনা করেছিল তারা, কিন্তু র্যাচেল মাথা খাটিয়ে হামাসদের ব্যস্ত রাখার উপায় বের করেন।
বাইডেনের সঙ্গে সাক্ষাতে তাঁকে বৃদ্ধা বলেছেন কীভাবে তাঁরা শেষ পর্যস্ত রক্ষা পেয়েছেন। র্যাচেলের কথায়, হামাসরা যখন বাড়িতে গ্রেনেড বাঁধছে সেই সময় তিনি বার বার তাদের জিজ্ঞাসা করতে থাকেন যে খিদে পেয়েছে কিনা। নিজের হাতে কফি ও কুকিজ বানিয়ে খাওয়ান। একজন হামাসের মাথায় ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজও করে দেন।
প্রায় ২০ ঘণ্টা তাঁরা হামাসের হাতে বন্দি ছিলেন। গোটা সময়টাই তিনি জঙ্গিদের কখনও চা-বিস্কুট, কখনও অন্য কিছু খাবার দিয়ে ব্যাতিব্যস্ত করে রেখেছিলেন। বৃদ্ধার আতিথেয়তায় যখন মন গলছে হামাসদের, সেই সময়ই উদ্ধারে হাজির হয় ইজরায়েলি সেনা। হামাসদের কফি খাইয়ে ব্যস্ত রেখে নিজের ছেলেকে গোপনে সব কথা জানিয়েছিলেন বৃদ্ধা। পুলিশ অফিসার ছেলেই ইজরায়েলি বাহিনীকে খবর দেয়। সকলে মিলে গোটা বাড়ি ঘিরে ফেলে হামাসদের ধরে ফেলে।
এর পরের ঘটনাও চমকে দেওয়ার মতো। ইজরায়েলি সেনাকে দেখেই ডেভিডের মাথায় গ্রেনেড ধরে হামাসরা। ইজরায়েলি সেনা ও পুলিশের সঙ্গে দর কষাকষি শুরু হয়। তখনও হামাসদের কফি করে খাওয়ান র্যাচেল। তাদের খিদে পেয়েছে কিনা বারবার জিজ্ঞেস করতে থাকেন। র্যাচেল বলছেন, হামাসদের চোখে যে নৃশংসতা দেখেছিলেন তিনি, তা ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে। বৃদ্ধার কথায় মন গলতে থাকে তাদের। র্যাচেলের সঙ্গে কথা বলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তারা। আর সেই সুযোগেই হামাসদের গ্রেফতার করে ইজরায়েলি বাহিনী।
ডেভিডের কথায়, র্যাচেল হামাস জঙ্গিদের প্রশ্ন করে, বকবক করে পাগল করে দিচ্ছিলেন। হামাসদের রাগ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। ইজরায়েলি সেনা সূত্রেও জানা গিয়েছে, তাদের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল, বোমাবর্ষণ করে বাড়িটিকে উড়িয়ে দেওয়া। পরে তারা জানতে পারেন, তাদেরই এক সহকর্মীর বাড়ি সেটি। ওই আধিকারিকের মা-বাবা হামাসের হাতে বন্দি। এরপরই তারা হামাসের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বন্দিদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। সেই প্রচেষ্টা সফলও হয়। বৃদ্ধার মুখে এই গল্প শুনে মুগ্ধ হন জো বাইডেন। তাঁর বুদ্ধির প্রশংসা করে জড়িয়ে ধরেন।