হামলার পর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশ আসে, তেহরানে থাকা সব বাংলাদেশি নাগরিককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হবে। দূতাবাস কর্মকর্তারা দ্রুত নতুন নিরাপদ এলাকায় সরে যান। তবে হামলার আশঙ্কা বাড়তে থাকায় এখন প্রবাসীদের তেহরানের বাইরেও সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে।
তেহরানজুড়ে ইজরায়েলি বোমাবর্ষণ অব্যাহত থাকায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সেখানকার সাধারণ মানুষ। রাস্তায় শুরু হয়েছে ব্যাপক যানজট, আর পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি সংকট। বহু মানুষ গাড়ি নিয়ে শহর ছাড়ার চেষ্টা করলেও, তেলের অভাবে আটকে পড়ছেন রাস্তায়। এই অবস্থায় বাংলাদেশ দূতাবাসের হটলাইনে সাহায্য চেয়ে কান্নাকাটি করছেন অনেকে।
এর মধ্যে প্রায় ২০ জন বাংলাদেশি কিডনি প্রতিস্থাপন করাতে তেহরানে গিয়েছিলেন। দূতাবাস থেকে তাঁদের হাসপাতাল এলাকায় অবস্থান করতে বলা হয়েছিল, সবাই ভেবেছিলেন সেখানেই তাঁরা নিরাপদ থাকবেন। কিন্তু কয়েকদিন আগে হাসপাতালেও হামলা হয়, এতে তাঁরা আরও বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। বাংলাদেশি চিকিৎসক ডা. ইকরাম আর আজিজুর রহমান তাঁর ইরানি স্ত্রী-সহ মে মাসে ইরান ভ্রমণে গিয়েছিলেন। ১৫ জুন দেশে ফেরার কথা থাকলেও যুদ্ধ শুরু হওয়ায় তাঁরা আটকে পড়েছেন।
সব মিলিয়ে ইরানে বর্তমানে প্রায় দু'হাজার বাংলাদেশি অবস্থান করছেন, যাঁদের মধ্যে প্রায় চারশো জন রয়েছেন তেহরানে। তাঁদের সহায়তার জন্য দুটি হটলাইন চালু করা হয়েছে, একটি তেহরানে এবং অন্যটি ঢাকায়। ইতিমধ্যে শতাধিক ব্যক্তি নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দূতাবাসে যোগাযোগ করেছেন।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, আপাতত বাংলাদেশি নাগরিকদের তেহরানের ভেতরে ভারামিন শহরে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবস্থা করা হচ্ছে শহরের কাছাকাছি সাবেতে। তবে ভারামিনেও হামলার ঝুঁকি থেকেই যায়। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে প্রবাসীদের দেশে ফিরিয়ে আনার কথা ভাবা হচ্ছে।
কিন্তু বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিমান চলাচলের স্থগিতাদেশ। ফলে ফেরার সুযোগ কবে আসবে, এই প্রশ্নের এখনও কোনও উত্তর নেই। ফলে প্রতি মুহূর্তে আতঙ্কে কাটছে প্রবাসীদের দিন। তাঁরা এখন কেবল একটাই প্রার্থনা করছেন, যে করেই হোক, তাঁদের যেন দেশে ফেরানো হয়।