
প্রতীকী চিত্র
শেষ আপডেট: 5 April 2024 16:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের বিচারপতিদের মারণ রাসায়নিক মিশ্রিত খামবন্ধ চিঠি পাঠিয়ে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে নিজের ক্ষমতা জাহির করল কুখ্যাত চর সংস্থা আইএসআই। বিচার ব্যবস্থায় আইএসআইয়ের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে কয়েকজন হাইকোর্টের বিচারপতি লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টে। তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলেও হইচই পড়ে যায়। তার ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রাক্তন এক বিচারপতিকে নিয়ে তদন্ত কমিটি গড়লেও, তিনি ওই তদন্তের দায়িত্বভার গ্রহণ করতে অসম্মত হন। তারপর গত সোমবার সুপ্রিম কোর্ট পাকিস্তানের শীর্ষ আদালত সাত সদস্যের একটি বেঞ্চ গঠন করে বুধবার থেকে শুনানির দিন ধার্য করে। এরপরেই সুপ্রিম কোর্টের ১৭ জন বিচারপতির কাছে এই মারণ রাসায়নিক মিশ্রিত খামবন্দি চিঠি যায়। দেশের পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ এই রহস্যের কিনারা ভেদ করতে তদন্ত শুরু করলেও সন্দেহ আইএসআই এর নেপথ্যে রয়েছে।
অভিযোগ, অজ্ঞাতপরিচয়ের কাছ থেকে এই চিঠিগুলি পাঠানো হয়েছিল রাওয়ালপিন্ডি জিপিও থেকে। প্রতিটি চিঠির ভিতরে আর্সেনিক এবং অ্যানথ্রাক্স জাতীয় রাসায়নিকের গুঁড়ো ছিল। যাতে দেশের শীর্ষ বিচারপতিদের জীবনহানি ঘটতে পারত। কিন্তু, বিষয়টিকে প্রাণহানিকর বলে মনে না করে, একধরনের হুমকি বলে মনে করা হচ্ছে। সিএএন-নিউজ ১৮-র অনুসন্ধানী রিপোর্টে দাবি, বর্তমান ও প্রাক্তন আইএসআই প্রধানদের মধ্যে মতবিরোধের ফলেই এই ঘটনা ঘটেছে।
ফরেনসিক পরীক্ষায় জানা গিয়েছে, লাহোর হাইকোর্ট এবং ইসলামাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতিদের কাছে আর্সেনিক গুঁড়ো ঢোকানো চিঠি পাঠানো হয়েছিল। সেলো টেপ দিয়ে খামগুলির মুখ বন্ধ করা ছিল। ভিতরে একটি করে হুমকি চিঠিতে বিচারপতিদের দেশের চলতি সংকটের জন্য দায়ী বলে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। বিচার ব্যবস্থার প্রতি আক্রমণের জবাবে পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ একটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাকিস্তানের সন্ত্রাস দমন বিভাগ ইসলামাবাদ ও লাহোরে তদন্ত শুরু করেছে বলে শুক্রবার জানিয়েছে দি ডন নামে পাক সংবাদপত্র।
খোদ প্রধানমন্ত্রী গত বৃহস্পতিবার ক্যাবিনেট বৈঠকে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পাকিস্তান সরকার দায়িত্বের সঙ্গে এর রহস্য ভেদ করবে। কিন্তু তাঁর এহেন দাবি ধোপে টিকছে না, কারণ জিপিও-র সামনে কোনও সিসিটিভি না থাকায় চিঠি পোস্ট করা ব্যক্তির হদিশ মিলছে না। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠার কারণ হচ্ছে, একই ধরনের খাম পৌঁছেছে পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি কাজি ফৈজ ইসাসহ অন্যান্য প্রবীণ বিচারপতির অফিসেও।