Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
TCS Scandal: যৌন হেনস্থা, ধর্মান্তরে চাপ! নাসিকের টিসিএসকাণ্ডে মালয়েশিয়া-যোগে আরও ঘনাল রহস্যক্যান্ডিডেটস জিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে গুকেশের মুখোমুখি সিন্দারভ, ড্র করেও খেতাবের লড়াইয়ে বৈশালীIPL 2026: চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে হেরে টেবিলের তলানিতে কেকেআর! গুরুতর বদলের ইঙ্গিত রাহানের নববর্ষের 'শুভনন্দন'-এও মুখ্যমন্ত্রীর SIR তোপ! বাংলায় পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীরইরানের সব পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে‌ দেওয়া হয়েছে, দাবি আমেরিকার, চিন্তা ইরানি ল্যান্ডমাইনও Poila Baisakh: দক্ষিণেশ্বর থেকে কালীঘাট, নববর্ষে অগণিত ভক্তের ভিড়, পুজো দিতে লম্বা লাইনপয়লা বৈশাখেই কালবৈশাখীর দুর্যোগ! মাটি হতে পারে বেরনোর প্ল্যান, কোন কোন জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাসমেয়েকে শ্বাসরোধ করে মেরে আত্মঘাতী মহিলা! বেঙ্গালুরুর ফ্ল্যাটে জোড়া মৃত্যু ঘিরে ঘনীভূত রহস্য UCL: চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চারে পিএসজি-আতলেতিকো, ছিটকে গেল বার্সা-লিভারপুল‘ইরানকে বিশ্বাস নেই’, যুদ্ধবিরতির মাঝে বিস্ফোরক জেডি ভ্যান্স! তবে কি ভেস্তে যাবে শান্তি আলোচনা?

গ্রেফতার হবেন হামাস নেতৃত্ব ও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী? পরোয়ানা জারি আন্তর্জাতিক আদালতে

আন্তর্জাতিক আদালতে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে হামাসের তিন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করতে চলেছে। একই দোষে দুষ্ট ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইওয়াভ গ্যালান্ট। তাঁদের বিরুদ্ধেও যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে।

গ্রেফতার হবেন হামাস নেতৃত্ব ও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী? পরোয়ানা জারি আন্তর্জাতিক আদালতে

গ্রেফতার হতে পারেন হামাস ও ইজরায়েলের নেতারা? তেমনটাই তোড়জোড় চলছে আন্তর্জাতিক আদালতে।

শেষ আপডেট: 21 May 2024 18:30

দ্য ওয়াল ব্যুরো: যুদ্ধের বিরোধিতা, নিন্দে, সমালোচনা, অনুরোধ, প্রতিবাদ... এই অবধি তাও ঠিক ছিল। এবার আরও তিন ধাপ এগিয়ে সরাসরি ইজরায়েল ও হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার তোড়জোড় শুরু করলেন আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত বা 'ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিন্যাল কোর্ট'-এর প্রধান কৌঁসুলি (চিফ প্রসিকিউটর) করিম আহমেদ খান। 

মঙ্গলবার এক বিবৃতি জারি করে করিম খান জানিয়েছেন, তিনি প্যালেস্তাইন রাষ্ট্রে ঘটা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির জন্য আবেদন জমা করেছেন। রাষ্ট্রপুঞ্জে প্যালেস্তাইনের রাষ্ট্র হিসেবে 'অবজার্ভার' স্বীকৃতি আছে। সেই সূত্রেই করিমের দফতর জানিয়েছে, তারা সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে হামাসের তিন শীর্ষ নেতা ইয়াহিয়া সিনোয়ার, মহম্মদ ইব্রাহিম আল-মাসরি এবং ইসমাইল হানিয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করতে চলেছে। একই দোষে দুষ্ট ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইওয়াভ গ্যালান্ট। তাঁদের বিরুদ্ধেও যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে। অত্যন্ত বিশদে লেখা বিবৃতিতে ইজরায়েলের তরফে গাজা ভূখণ্ডের সবক'টি প্রবেশদ্বার আটকে অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী, বিশেষ করে খাবার ও ওষুধ সরবরাহ বন্ধ করে পরিকল্পনা করে গাজার সাধারণ মানুষকে অনাহারে রাখার কথাও রয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উক্তির উল্লেখ করে বলা হয়েছে, গাজার একাধিক অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে, অন্যান্য অংশেও ভয়াবহ অনাহার দেখা দিতে চলেছে। 

আদতে ব্রিটিশ নাগরিক, ব্যারিস্টার এবং ফৌজদারি আইনে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ করিম পদাধিকার বলে ব্রিটেনের কিংস কাউন্সেল। বিবৃতিতে তাঁর সাফ কথা, 'আমরা আজ এটা আরও একবার বলে দিতে চাই যে, আন্তর্জাতিক আইন পৃথিবীতে সবার ওপর প্রযোজ্য। কোনও সৈন্য, কোনও সেনাকর্তা, কোনও অসামরিক নেতা, অপরাধ করে পার পেয়ে যেতে পারেন না। পরিকল্পিতভাবে, ইচ্ছে করে কেউ সাধারণ মানুষকে জীবনের নূন্যতম প্রয়োজন থেকে বঞ্চিত করবেন, এটা হতে পারে না। সাধারণ মানুষকে টার্গেট করা, অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার কোনও সাফাই থাকতে পারে না।' 

যথারীতি ইজরায়েল ও প্যালেস্তাইনের হামাস নেতাদের একাসনে রাখা নিয়ে চটেছেন দুইপক্ষ। ইজরায়েল এক্ষেত্রে যা করে, সেটাই করেছে, প্রকাশ্যে এই পরোয়ানার তোড়জোড়কে ইহুদিবিদ্বেষ বা 'অ্যান্টিসেমিটিজম'-এর সঙ্গে তুলনা করেছে। বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যেমন বলেছেন, 'ইজরায়েল হামাসের মত একটি গণহত্যাকারী সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের বিরুদ্ধে একটি উচিত যুদ্ধে লড়ছে, যারা হলোকস্টের পরে ইতিহাসে ইহুদিদের ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ আঘাত হেনেছে।' করিমকে একহাত নিয়ে নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি আধুনিক যুগের সবচেয়ে বড় ইহুদিবিদ্বেষী। বলেছেন, এইভাবে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ওপর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আসলে বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ইহুদিবিদ্বেষের আগুনে গ্যাসোলিন ছেটানো হচ্ছে!' ইয়োহাভ গ্যালান্টেরও সাফ কথা, 'এই আদালতে ইজরায়েল কোনও সদস্য নয়। অতএব ইজরায়েল এই আদালতের কোনও কর্তৃত্বকেই মান্যতা দেয় না!' 

এই খবরে মুখ খুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ওয়াশিংটনের তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইজরায়েল ও হামাসের মধ্যে কোনও তুলনাই হয় না। উল্টোদিকে বক্তব্য রেখেছে হামাসও। যে তিন জন নেতার বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখেছেন করিম, তাঁদের দুইজন সিনোয়ার ও আল মাসরি দু'জনের অবস্থান এই মুহূর্তে সম্পূর্ণ অজানা। গোয়েন্দাদের সন্দেহ, দু'জনেই গাজা ভূখণ্ডের কোথাও লুকিয়ে রয়েছেন। তবে তৃতীয়জন, ইসমাইল হানিয়ে রয়েছেন কাতারে। হামাস-ইজরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হানিয়ে কূটনৈতিক দর কষাকষি করতে মধ্যপ্রাচ্যের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত ঘুরছেন। যুদ্ধে লাগাতার শান্তির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কাতার। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতার ও মিশরের মাধ্যমেই যেটুকু যা আলাপ আলোচনা হবার হয়েছে। ঘটনাচক্রে, কাতারও এই আদালতকে মান্যতা দেয় না। ফলে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলেও, তাতে হানিয়ের ওপর খুব একটা প্রভাব পড়বে না। 

এই নিয়ে ইতিমধ্যেই জলঘোলা হতে শুরু করেছে। আমেরিকা, ব্রিটেন, ইতালি ইজরায়েলের পাশে থাকলেও প্রায় তোলপাড় ফেলে এই গ্রেফতারি পরোয়ানার পাশে দাঁড়িয়েছে ফ্রান্স। প্যারিসে বিদেশমন্ত্রকের তরফে একটি বিবৃতি জারি করে বলা হয়েছে, ফ্রান্স এই আদালতকে মান্যতা দেয় এবং এর স্বাধীনতা ও কার্যকলাপকে সমর্থন করে।


```