দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকে বাড়িতে পশুপাখী পোষে, পোষ্যকে আদর করে, স্নেহ, ভালবাসা দেয়। পোষ্যরাও ভালবাসে মালিককে। কিন্তু বেলজিয়ামের মহিলা অ্যাডি টিমারম্যানস নাকি একেবারে চিড়িয়াখানার এক শিম্পাঞ্জিকে মন দিয়ে বসেছেন! ওই শিম্পাঞ্জির সঙ্গে অ্যাফেয়ার আছে তাঁর, দাবি করেছেন। এরপরই তাঁর চিড়িয়াখানা ঢোকা বন্ধ করে দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। চিড়িয়াখানায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে তাঁর প্রবেশ। বিষয়টা বোঝার পর আলোড়িত নেটদুনিয়াও।
চার বছর ধরে অ্যাডি প্রতি সপ্তাহে চিড়িয়াখানা যেতেন। চিতা নামে ৩৮ বছরের এক শিম্পাঞ্জির সঙ্গে তাঁর সখ্য গড়ে ওঠে। চিতা কাচের বড় ঘরে থাকে। দেখা যেত, কাচের দুদিকে অ্যাডি আর চিতা পরস্পরের সঙ্গে কথা বলছে, এমনকী পরস্পরকে চুম্বন ছুঁড়ে দিচ্ছে, হাত তুলে ডাকছে। দীর্ঘক্ষণ পরস্পরের সঙ্গে কথা বলছে। সখ্য পরিণত হয় প্রেমে! চিড়িয়াখানার লোকজন ওই বিশেষ শিম্পাঞ্জির প্রতিই অ্যাডির টান দেখে ভাবেন, ব্যাপারটা কী! কেন চিতার সঙ্গে এত সময় কাটান তিনি। জিজ্ঞাসা করা হলে অ্যাডি সাফ বলেন, ওর সঙ্গে অ্যাফেয়ার আছে আমার!
নিষেধাজ্ঞার কথা শুনে অ্যাডির প্রতিক্রিয়া, আমি ওকে ভালবাসি, আমায় ও ভালবাসে। এছাড়া আর কিচ্ছু নেই। কেন ওরা তা কেড়ে নিতে চায়? আমাদের মধ্যে একটা সম্পর্ক আছে। স্পষ্ট বলছি।
অন্যদিকে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, এই প্রেমের জন্য চিতার সঙ্গে অন্য শিম্পাঞ্জিদের স্বাভাবিক সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে না। চিড়িয়াখানার এক কর্তা বলেন, চিতা দর্শকদের দিকে মন দিলেও তাকে অন্য শিম্পাঞ্জিরা পাত্তা দেয় না, তাকে স্বগোত্রের সদস্য বলে মনে করে না, কিন্তু সেটা দরকার। ভিজিটিংয়ের সময় বাদে বাকি সময়টা ও একাকী, নিঃসঙ্গ থাকে। অতঃপর তারা সিদ্ধান্ত নেয়, এই অ্যাফেয়ার বন্ধ করতে হবে।
কিন্তু চিতার সঙ্গে বিচ্ছেদে কাতর অ্যাডি ক্ষোভ জানিয়ে বলেছেন, চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ অন্যায় করছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, অন্য দর্শকদের ওর কাছে যেতে দেওয়া হচ্ছে। তাহলে আমাকে নয় কেন!
.