
সর্বজিৎ সিংয়ের হত্যাকারীকে পাকিস্তানে গুলি করে খুন । ছবিঃ আমির সরফরাজ টাম্বা ও সর্বজিতের ভূমিকায় রণদীপ হুডা ।
শেষ আপডেট: 15 April 2024 20:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের মাটিতেই খুন সর্বজিৎ সিং হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত 'লাহোর কা আসলি ডন' আমির সরফরাজ টাম্বা। পাক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তোইবার প্রধান হাফিজ সইদের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সরফরাজকে লাহোরের বুকেই খুন করে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা। পুলিশ জানিয়েছে, ইসলামপুরা এলাকায় দুষ্কৃতীরা মোটরবাইকে করে এসে গুলি করে মেরে দেয় তাকে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি।
তার পরিবারে তরফে জানানো হয়েছে, বাইকে করে দুজন আসে। বাড়িতেই তখন ছিল সরফরাজ। সেখানে তাকে চারটে গুলি করা হয়। দুটি গুলি লাগে বুকে এবং দুটি পায়ে। বাইক আরোহীদের একজন হেলমেট পরে ছিল। অন্যজনের মুখে মাস্ক পরা ছিল। গুলি চালিয়েই তারা পালিয়ে যায়।
আরও পড়ুন > হাড় জিরজিরে চিমসে চেহারা, ঠেলে বেরিয়ে আসা কপাল, এ কোন রণদীপ হুডা!
সরফরাজের মৃত্যুর খবরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভারতীয় অভিনেতা রণদীপ হুডা। সর্বজিতের জীবনী-চরিত্রে অভিনয় করা রণদীপ এক বার্তায় বলেছেন, অজ্ঞাতপরিচয় খুনিদের ধন্যবাদ। সর্বজিৎ নামে ২০১৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ওই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন ঐশ্বর্য রাই বচ্চন, রিচা চাড্ডা এবং দর্শন কুমার। রণদীপ হুডা প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, কর্ম। অপরিচিত খুনিদের ধন্যবাদ। তাঁর কথায়, আমার দিদি দলবীর কৌরকে মনে পড়ছে। স্বপ্নদীপ পুনমের জন্য ভালোবাসা রইল। শহিদ সর্বজিৎ সিং আজ ন্যায়বিচার পেলেন।
লাহোরে ১৯৭৯ সালে জন্ম টাম্বার। সে হাফিজ সইদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিল। সইদই তাকে পাকিস্তানের জেলে সর্বজিৎকে খুনের জন্য পাঠিয়েছিল। লাহোর কা আসলি ডন নামে পরিচিত সরফরাজ ট্রাকওয়ালা গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল। সম্পত্তি জবরদখল এবং মাদক পাচার মূলত পেশা ছিল তার। সম্প্রতি গ্যাংয়েরই এক সদস্যের সঙ্গে অবনিবনার সূত্রপাত হয়। সেখান থেকে একটি গ্যাংওয়ারও হয় দুপক্ষে। পরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ঢুকে একদা সহযোগীকে খুন করে টাম্বা।
জেলে টাম্বাকে সমস্ত রকমের সুযোগসুবিধা দেওয়া হয়েছিল। যেমন, মোবাইল ফোন ইত্যাদি। দুবছর হল সে জেল থেকে বেরিয়ে এসেছে। একটি অতি সুরক্ষিত জায়গায় সে থাকে। গোটা এলাকা সিসিটিভিতে মোড়া।
পাঞ্জাবের বাসিন্দা সর্বজিৎ সিং চাষ করার সময় ভুল করে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের মাটিতে ঢুকে পড়েছিলেন। তখন পাক বাহিনী তাঁকে চর সন্দেহে গ্রেফতার করে। পাকিস্তানে বোমা বিস্ফোরণের মামলায় ফাঁসিয়ে মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করে আদালত। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মোড়া লাহোর সেন্ট্রাল জেলের ভিতরেই কিছু বন্দি সর্বজিৎকে বেদম পেটায় একদিন। মাথায় ইট এবং লোহার ডান্ডা দিয়ে মেরে রক্তাক্ত করা হয়। তাতে তিনি কোমায় চলে যান। ২০১৩ সালের ২ মে লাহোরের জিন্নাহ হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর।
সর্বজিতের দিদি দলবীর কৌর ভাইকে পাক জেল থেকে মুক্ত করতে দীর্ঘ লড়াই চালিয়েছিলেন। কিন্তু, ব্যর্থ হন। ২০২২ সালে অমৃতসরে তিনিও মারা যান।