
শেষ আপডেট: 22 February 2024 20:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইনভিট্রো ফার্টিলেশন ফেল করলে টেস্ট টিউবে জন্ম নেওয়া ভ্রূণও নষ্ট হয়ে যায়। অথচ মায়ের থেকে নেওয়া ডিম্বাণু ও বাবার থেকে নেওয়া শুক্রাণুর নিষেকেই জন্ম নিয়েছে সেই ভ্রূণ। যেহেতু জরায়ুর বাইরে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয় সেই ভ্রূণকে তাই নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় হিমায়িত (Frozen) করেই রাখা হয় যতক্ষণ না মায়ের গর্ভে প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। আদালত জানাচ্ছে, সেই ভ্রূণ হিমায়িত হলেও তাতে প্রাণ আছে, সেটিও মানবশিশু। কাজেই কারও গাফিলতিতে যদি সেই ভ্রূণ নষ্ট হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা যাবে।
আলাবামার সুপ্রিম কোর্ট এই নির্দেশ দিয়েছে। আলাবামার সবচেয়ে বড় হাসপাতালে চিকিৎসায় গাফিলতির কারণে আইভিএফে জন্ম নেওয়া ভ্রূণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার পরে তা নিয়ে মামলা দায়ের হয়। এই মামলায় আদালতের পর্যবেক্ষণ, মায়ের গর্ভে সেই ভ্রূণ তৈরি হলে তাকে গর্ভস্থ শিশুই বলা হত। কাজেই কৃত্রিমভাবে টেস্ট টিউবে তৈরি করা হলেও হিমায়িত বা ফ্রোজেন ভ্রূণ মানবশিশুই। যদি চিকিৎসায় গাফিলতির কারণে বা হাসপাতালের গাফিলতিতে সেই ভ্রূণ নষ্ট হয়, তাহলে তা অপরাধের পর্যায়তেই পড়ে। হাসপাতালের পরীক্ষাগারে মানবভ্রুণ নষ্ট হলে মামলা করার পূর্ণ অধিকার আছে মা-বাবার। আদালত বলেছেন, দুর্ঘটনাক্রমে হিমায়িত মানবভ্রূণ নষ্ট বা ধ্বংসের জন্য অভিযুক্তকে বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আইনগতভাবে দায়ী করা যাবে।
আদালতের নির্দেশের পরে আলাবামার হাসপাতালগুলিতে আইভিএফের চিকিৎসা স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে ডাক্তাররা বলছেন, মায়ের শরীর থেকে ডিম্বাণু নিয়ে তা সংরক্ষণ করার কাজ চলছে। তবে ভ্রূণ তৈরি করার পদ্ধতি বন্ধ রাখা হয়েছে।
আইভিএফ (IVF) কী?
ভিট্রো কথাটির অর্থ শরীরের বাইরে। এই পদ্ধতিতে শরীরের বাইরে জীবন সৃষ্টি করা হয় বলে পদ্ধতিটিকে ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন বলে। চলতি কথায়, টেস্ট টিউব বেবি। যে মহিলারা ফাইব্রয়েড, এন্ডোমেট্রিয়োসিস বা পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোমে ভুগছেন তাঁদের মধ্যে বন্ধ্যাত্বের সমস্যা বেশি। শুক্রাণুর অস্বাভাবিকতা, ডিম্বাশয়, ডিম্বনালী বা জরায়ুর সমস্যা, ডিম্বাণু নিঃসরণে অসুবিধে, এক্টোপিক প্রেগন্যান্সির ক্ষেত্রেও গর্ভধারণে সমস্যা হয়। প্রথমে ট্যাবলেট বা ইঞ্জেকশন দিয়ে স্ত্রীর ডিম তৈরির চেষ্টা করা হয়। স্বামীর সমস্যা থাকলে তাঁকেও ওষুধ দেওয়া হয়।
ডিম্বাণু আর শুক্রাণুর নিষেক ঘটানো হয় শরীরের বাইরে ল্যাবরেটরিতে। ভ্রূণ তৈরির পরে তা ইনকিউবেটরে রাখা হয়। ২-৫ দিন পরে ভ্রূণ প্রতিস্থাপন করা হয় মায়ের জরায়ুতে। আইভিএফ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে একের বেশি সন্তানের জন্মের সম্ভাবনা মাত্র ২০ শতাংশ, কারণ এতে ভ্রূণের সংখ্যাকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। অনেকে মনে করেন, আইভিএফ পদ্ধতিতে একাধিক ভ্রূণ স্থানান্তরিত করা হলেই একাধিক সন্তানের জন্মের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এই ধারণা ভুল। বরং এমনটা করলে ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। এমনকি, গর্ভপাতের সম্ভাবনাও বেশি। চিকিৎসকরা একটি ভ্রূণ স্থানান্তরিত করার ক্ষেত্রেই বেশি জোর দেন।
ওভারিতে সিস্ট, ফ্যালোপিয়ান টিউবে ব্লক, এন্ডোমেট্রিয়োসিস বা পলিসিস্টিক ওভারি থাকলে অনেক সময়ে ল্যাপরোস্কোপি-হিস্টিরিয়োস্কোপি করা হয়। এই পদ্ধতিগুলিতে সন্তান আসার সম্ভাবনা বাড়ে।