
শেষ আপডেট: 14 February 2024 17:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফিরে এল ১৪ শতকের মারণ রোগ বিউবনিক প্লেগ?
চতুর্দশ শতাব্দীতে ৫ কোটিরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এই মারণ রোগে। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল মহামারী।
প্লেগে প্রাণ গিয়েছিল লাখ লাখ ভারতবাসীর। এবার সেই প্লেগই ফিরে এল বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চিন নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই রোগের হদিশ মিলেছে। আমেরিকার ওরিগনে পোষ্য বিড়াল থেকে একজনের শরীরে ছড়িয়েছে রোগ। তাঁর থেকে আরও অনেকের মধ্যে ছড়িয়েছে কিনা তা জানা যায়নি এখনও।
মধ্যযুগে এই মারণ রোগেই ইউরোপের এক তৃতীয়াংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ওই মহামারী ‘ব্ল্যাক ডেথ’ নামেও পরিচিত। অত্যন্ত বিরল এই রোগ। অতীতে এর কোনও চিকিৎসা না থাকলেও, বর্তমানে সঠিক সময়ে সংক্রমণ ধরা পড়লে তা চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময় সম্ভব। তবে চিকিৎসকরাও এই প্লেগকে অত্যন্ত ভয়ঙ্কর বলেই ব্যাখ্যা করেছেন।
মার্কিন প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সংক্রমণ দেহে প্রবেশের আটদিন বাদে, উপসর্গ দেখা দেয়। সাধারণত প্লেগে আক্রান্ত পশু বা মাছি থেকেই সংক্রমণ ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির জ্বর, শ্বাসকষ্ট, মাথাঘোরা, পেশিতে ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিয়েছিল। চিকিৎসকরা বলছেন, সঠিক সময়ে ধরা না পড়লে বিউবনিক প্লেগ সেপ্টিসেমিক প্লেগেও পরিণত হতে পারে।
১৮৫৫ সালে তৃতীয় বারের জন্য যখন প্লেগ মহামারী এল পৃথিবীর বুকে, ভারতে তখন ইংরেজদের শাসন চলছে। ইতিহাস বলে, এই মহামারীরও উৎস ছিল চিন। ১৮৯৬ সালে এই মহামারী ঢুকে পড়ে ভারতে। প্রথমে ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ে মহারাষ্ট্রে। ভারতেই লক্ষাধিক মানুষ মারা যান।
চিকিৎসকরা বলছেন, এই ধরনের প্লেগ পশুদের থেকে মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে। একবার হিউম্যান ট্রান্সমিশন শুরু হয়ে গেলে মহামারীর চেহারা নেবে এই সংক্রমণ। চিনে বছর দুয়েক আগে ফের বিউবনিক প্লেগের মতো সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। ইঁদুর থেকে প্লেগ ছড়াচ্ছে বলে খবর শোনা গিয়েছিল। চিন থেকে সেই সংক্রমণ ছড়িয়েছিল রাশিয়ার কয়েকটি জায়গায়। খবর শোনা গিয়েছিল, কয়েকশো মানুষকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। যদিও প্লেগ নিয়ে সঠিক তথ্য দিতে চায়নি চিন ও রাশিয়া দুই দেশই। চিনের খোলা বাজার থেকে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া ঘটিত সংক্রমণ ছড়াবার বহু ঘটনা সামনে এসেছে। বিশেষত কাঁচা মাংসের দেদাড় বিক্রি, ইঁদুর, কুকুর, বাদুড় খাওয়ার অভ্যাস থেকে বিভিন্ন সময় প্লেগের মহামারী ছড়িয়েছে চিনের নানা প্রদেশে।
কী এই প্লেগ?
ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস নামে একধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে এই রোগ হয়। ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের অন্তত সাতদিন পরে জ্বর, সর্দি-কাশি, পেট খারাপ-বমির মতো উপসর্গ দেখা দিতে থাকে। ত্বকের যেখান দিয়ে ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করে সেখানকার লসিকাগ্রন্থি ফুলে ফেটে যায়। জ্বালাপোড়ার মতো ব্যথা শুরু হয়। এই জাতীয় সংক্রামক রোগ ছড়ায় মূলত ইঁদুর বা ওই জাতীয় প্রাণীর থেকে। মধ্যবর্তী বাহক হল মাছি। প্রাণীর মৃতদেহ, মল-মূত্র থেকে মাছি বাহিত হয়ে এই ব্যাকটেরিয়া মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে।
এই প্লেগকে ‘ব্ল্যাক ডেথ’ বলা হয়। সংক্রমণের চিকিৎসা সঠিক সময় শুরু না হলে রোগীর মৃত্যুও ঘটতে পারে। সংক্রমণ যদি বেশিমাত্রায় ছড়িয়ে পড়ে তাহলে খিঁচুনি, পেশীর সংকোচন এমনকি রক্তবমিও হতে পারে। রোগ কতটা ছড়িয়েছে তার উপর নির্ভর করে এক সপ্তাহ থেকে দশদিনের মধ্যে প্লেগ আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হতে পারে। এই প্লেগ প্রতিরোধের কোনও কার্যকরী টিকা নেই। চিকিৎসার শুরুতে রোগীকে স্ট্রেপটোমাইসিন, জেনটামাইসিন, ডক্সিসাইক্লিন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংক্রামক রোগ বিষয়ক গাইডলাইনে রয়েছে, তিন ধরনের প্লেগ মহামারীর আকার নিতে পারে--সেপটিসেমিক প্লেগ (Septicemic Plague), নিউমোনিক প্লেগ (Pneumonic Plague) ও বিউবনিক প্লেগ (Bubonic Plague)। যার মধ্যে বিউবনিক প্লেগ ছড়াতে পারে ছোট প্রাণীদের থেকেই। করোনার মতো বিউবনিক প্লেগও মারাত্মক ছোঁয়াচে।