
বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৩ বছরের শিশুর
শেষ আপডেট: 31 December 2024 17:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাবা-মার সঙ্গে প্রথম বিদেশ ঘুরতে গেছিল ৩ বছরের ছোট্ট ছেলেটা। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে জীবনের প্রথম ট্যুরটাই তার শেষ ট্যুর হয়ে গেল। দক্ষিণ কোরিয়ায় যে বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে তাতেই মারা গেছে সে। আর এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্যাংয়ের বিমানের জানলার ধারে বসা একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। সেই ছবি দেখে শিহরিত হচ্ছেন সকলে, কারণ ওটাই তার জীবনের শেষ ছবি।
ব্যাংকক থেকে দক্ষিণ কোরিয়া ফেরার সময় ল্যান্ডিংয়ের আগে ভেঙে পড়েছিল এই বিমানটি। মৃত্যু হয় বিমানে উপস্থিত ১৮১ জনের মধ্যে ১৭৯ জনের। তাদের মধ্যেই রয়েছে ৩ বছরের শিশুটির। এই দুর্ঘটনায় যাদের মৃত্যু হয়েছে তার মধ্যে সবথেকে কম বয়স তারই। ক্রিসমাসের ছুটি কাটাতে ছেলেকে নিয়ে ব্যাংকক গেছিলেন ক্যাং কো (৪৩), তাঁর স্ত্রী জিন লি (৩৭)। কিন্তু আর ঘরে ফেরা হল না তাঁদের।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই ৩ বছরের শিশুর থেকে কম বয়সি কারও খোঁজ মেলেনি যার এই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে। এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্যাং এবং জিনের ব্যাংকক ভ্রমণের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সেটা দেখে বোঝা যাচ্ছে, নিজেদের ট্রিপের প্রতিটি মুহূর্ত তাঁরা জীবনের জন্য সঞ্চয় করে রাখতে চেয়েছিলেন।
এই দুর্ঘটনায় ১৭৯ জনের মৃত্যু হলেও বেঁচে গেছেন মাত্র ২ জন। ওই দুই বিমান সেবিকা একেবারে পেছনের আসনে বসেছিলেন। এই আসনগুলোকেই বিমানের অন্যতম সুরক্ষিত আসন বলে মনে করা হয়। ২০১৫ সালে টাইম ম্যাগাজিনের করা সমীক্ষার পরিসংখ্যান বলছে, বিমানের একেবারে সামনের আসনে বসা যাত্রীদের দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার ৩৮ শতাংশ। মধ্যিখানে যাঁরা বসেন, তাঁদের সংখ্যাটা ৩৯ শতাংশ এবং পেছনের আসনে বসা যাত্রীদের দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার ৩২ শতাংশ।
জেজু এয়ারলাইন্সের ৭সি ২২১৬ বিমানটি থাইল্যান্ডের ব্যাঙ্কক থেকে ফিরছিল। অবতরণের মুহূর্তে রানওয়ে থেকে সরে গিয়ে দেওয়ালে সজোরে ধাক্কা লেগে বিস্ফোরণ ঘটে। যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তাতে জানা গেছে, দুর্ঘটনার কয়েক মুহূর্ত আগে 'মে-ডে' ঘোষণা করেছিলেন পাইলট। কিন্তু তাতেও কোনও লাভ হয়নি। প্রথমবার ল্যান্ডিং করাতে গিয়ে তিনি ব্যর্থ হন। দ্বিতীয়বার বিমান ল্যান্ড করাতে গিয়েই ঘটে দুর্ঘটনা।