
শেষ আপডেট: 19 February 2024 19:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আলেক্সেই নাভালনির দেহ কোথায়?
পুতিন-বিরোধী নেতা আলেক্সেই নাভালনির মৃত্যু ঘিরে ঘনিয়েছে রহস্য। তাঁর পরিজন ও সমর্থকদের প্রশ্ন, কোথায় নাভালনির দেহ? পুলিশ নাকি দেহ খুঁজেই পাচ্ছে না।
আলেক্সেই নাভালনির স্ত্রী জুলিয়া সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে বলেছেন, “তিন দিন আগে আমার স্বামীকে খুন করেছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।”
গত শুক্রবার নাভালনির মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়। কিন্তু এখনও তাঁর দেহ হাতে পাননি পরিবারের সদস্যরা। নাভালনির মৃত্যুর খবর পেয়ে আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে জেলে গিয়েছিলেন তাঁর মা। কিন্তু দেহ দিতে চাননি জেল আধিকারিকরা। তাঁদের দাবি, নাভালনির মৃত্যুর তদন্ত চলছে এখনও। তাই এখনই দেহ হস্তান্তর সম্ভব নয়। কিন্তু এরপরই ঘটনার মোড় ঘুরে যায়। নাভালনির আইনজীবীকে পুলিশ বলে, মর্গে নিহত নেতার দেহ নেই।
নাভালনির অনুগামীদের দাবি, জেল হেফাজতেই খুন করা হয়েছে তাঁদের প্রিয় নেতাকে। আর নাভালনির মৃত্যুর পরেই মুখে কুলুপ এঁটেছে রুশ প্রশাসন। আর তাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন পুতিন-বিরোধীরা। প্রতিবাদের আগুন জ্বলছে দেশে। ইউরোপের বিভিন্ন শহরে রাস্তায় নেমে নাভালনি অনুরাগীরা বিক্ষোভ মিছিল করছেন। কারও কারও হাতে প্ল্যাকার্ডে সরাসরি পুতিনকে খুনি বলে অভিযুক্ত করা হয়েছে। রোম, আমস্টারডাম, বার্সেলোনা, সোফিয়া, জেনিভা, দ্য হেগ, লিসবন ও আমেরিকায় তুমুল প্রতিবাদ হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ১৯ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল পুতিনের সমালোচককে। রাশিয়ার বিরোধী রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ নাভালনি। এর আগেও বহুবার তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। চায়ের সঙ্গে মারাত্মক নোভিচক বিষ খাইয়ে নাভালনিকে এর আগেও খুনের চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। ২০১৭ সালের দুষ্কৃতীরা তাঁর মুখে ক্ষতিকারক রাসায়নিক ছুড়ে মারে। গত বছর অগস্ট মাসে ‘বেআইনি প্রতিবাদ সমাবেশে’ নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে নাভালনি বন্দি হয়েছিলেন। পুলিশ হেফাজতে তাঁর হাতে র্যাশ বেরিয়েছিল। চিকিৎসকরা অবশ্য বলেছিলেন, তাঁর অ্যালার্জি হয়েছে। কিন্তু নাভালনি দাবি করেছিলেন, তাঁর শরীরে বিষক্রিয়া হয়েছে।