
সারা
শেষ আপডেট: 12 December 2024 14:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু'বছর ধরে নিজের মেয়ের ওপর নারকীয় অত্যাচার চালিয়েছিলেন বাবা। 'যোগ্য' সঙ্গ দিয়েছিলেন তাঁর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী। বাবা এবং সৎ মায়ের পাশবিক অত্যাচারে মৃত্যু হয়েছিল ১০ বছরের সারার। পাকিস্তানের এই ঘটনায় অবশেষে দোষী প্রমাণিত হয়েছেন দু'জনই। পুলিশি জেরায় অভিযুক্ত বাবা স্বীকার করে নিয়েছেন, 'মেয়ের সঙ্গে যা যা হয়েছে, সব আমার দোষ।'
সারাকে বেধড়ক মারধর থেকে শুরু করে তার শরীর পোড়ানো হয়েছিল। এমনকী এক এক সময়ে তাঁকে কামড়ে দিতেন বাবা এবং সৎ মা। একাধিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, কখনও ব্যাট আবার কখনও লোহার রড দিয়ে মারা হত সারাকে। দু'বছর ধরে চলা এমন অত্যাচার হলে যে কারও বেঁচে থাকাই দুষ্কর। আর সারার বয়স তো মাত্র ১০ ছিল।
পাকিস্তানের এই শিশু কন্যার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আরও ভয়ানক। সূত্রের খবর, তার শরীরে ৭১টি আঘাতের চিহ্ন মিলেছে! তার মধ্যে রয়েছে কালশিটের দাগ, পোড়ার দাগ, কামড়ের দাগ। একই সঙ্গে তার শরীরের ২৫টি হাড় ভাঙা ছিল। ঘাড় থেকে শুরু করে হাত, পা, পিঠ, কোনও অংশই 'সুস্থ' ছিল না সারার।
বুধবার সারার বাবা উরফান শরিফ (৪৩), সৎ মা বেইনাস বাতুল (৩০) এবং তার কাকা ফয়জল মালিককে (২৯) খুনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। ফয়জলের বিরুদ্ধে খুনে মদত দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনার তদন্তকারী অফিসার রায় শোনার পর জানিয়েছেন, নিজের ৩০ বছরের কেরিয়ারে তিনি এমন ঘটনার কথা শোনেননি।
নিজের বাড়ির বিছানার ট্রাঙ্ক থেকে সারার দেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। তার দেহের পাশে একটি নোট পড়ে ছিল, যাতে লেখা, 'আমি সারার বাবা উরফান, নিজের মেয়েকে খুন করেছি।' যদিও উরফান পরে দাবি করেন, তিনি নয়, বাতুল এই ঘটনায় দোষী। তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশি জেরায় সব দোষ কবুল করে নেন সারার বাবা।
গত বছর অগাস্ট মাসে ইসলামাবাদ বিমানবন্দর থেকে একটি ফোন এসেছিল সাররে পুলিশের কাছে। তখন ফোনের ওপার থেকেই উরফান স্বীকার করেছিলেন যে তিনি তাঁর মেয়েকে খুন করেছেন। যদিও পুরোটাই অনিচ্ছাকৃত বলে দাবি করেছিলেন। কিন্তু শেষমেশ তদন্তে যা উঠে আসে তা ভয়ানক। পুলিশ এও জানতে পারে, মৃত্যুর পরও সারার পেটে দু'বার লাঠি মেরেছিলেন তাঁর বাবা! কারণ তিনি ভেবেছিলেন মেয়ে 'নাটক' করছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের বাসিন্দা ছিলেন উরফানরা। সেই বাড়িরই বেডরুম থেকে উদ্ধার হয়েছিল সারার মৃত দেহ। তার আগে অবশ্য সারার স্কুল মারধরের বিষয়টি নোটিস করেছিল। কখনও তারা দেখত সারার চোখে কালো দাগ, আবার কখনও গায়ে আঘাতের চিহ্ন। পরে বিষয়টি ঢাকতে উরফান তাকে হিজাব পরতে বাধ্য করেন। যদিও একসময়ে সারার স্কুলই ছাড়িয়ে দেন তিনি।