জন্মতারিখ বা নামের অক্ষর গুনে নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়, যেটিকে বলা হয় জন্মসংখ্যা বা ভাগ্যসংখ্যা। এর ভিত্তিতে ব্যক্তির চরিত্র, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয় (Numerology vs Science)।

ছবি- এআই
শেষ আপডেট: 13 August 2025 14:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মানুষের ভবিষ্যৎ জানার চেষ্টা নতুন কিছু নয়। প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন পদ্ধতি এ কাজে ব্যবহার হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম সংখ্যাতত্ত্ব—যেখানে বিশ্বাস করা হয়, প্রতিটি সংখ্যার রয়েছে বিশেষ শক্তি, যা মানুষের জীবন, সিদ্ধান্ত ও ভাগ্যে প্রভাব ফেলে। জন্মতারিখ বা নামের অক্ষর গুনে নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়, যেটিকে বলা হয় জন্মসংখ্যা বা ভাগ্যসংখ্যা। এর ভিত্তিতে ব্যক্তির চরিত্র, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয় (Numerology vs Science)।
এই প্রাচীন শাস্ত্র মিশর, ভারত, গ্রিস-সহ বহু সভ্যতায় জনপ্রিয় ছিল। আজও অনেকেই ব্যবসা, বিয়ে, সন্তানের নামকরণ, এমনকি ফোন নম্বর বা গাড়ির নম্বরপ্লেটের ক্ষেত্রেও শুভ সংখ্যার দিকে ঝোঁকেন।
কিন্তু বিজ্ঞানীরা একে ‘ছদ্মবিজ্ঞান’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাঁদের মতে, সংখ্যাতত্ত্ব পরীক্ষাযোগ্য নয় এবং প্রমাণ-ভিত্তিক যুক্তির সঙ্গে এর মিল নেই। বিজ্ঞান সর্বদা নির্ভর করে তথ্য, পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার পুনরাবৃত্তির উপর (Numerology vs Science)। ভবিষ্যদ্বাণীতে বিজ্ঞান সম্ভাবনা, পরিসংখ্যান ও তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবহার করে—যেমন আবহাওয়ার পূর্বাভাস, রোগের বিস্তার বা অর্থনৈতিক প্রবণতা।
বর্তমান বিতর্কের মূল কারণ হল দুই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি। সংখ্যাতত্ত্ববিদরা এটিকে আত্মজ্ঞান ও আত্মউন্নয়নের হাতিয়ার মনে করেন, আর বিজ্ঞানীরা একে মানসিক ভরসা ছাড়া কিছু নয় বলে মনে করেন। সাধারণ মানুষ এই দুই ধারণার মাঝে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন—কেউ বিশ্বাস করেন, কেউ আবার একে নিছক কুসংস্কার ভাবেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত বিশ্বাস মানসিক শক্তি বাড়াতে পারে, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র কুসংস্কারের উপর নির্ভর করে নেওয়া উচিত নয়। ভবিষ্যৎ অনুমানে সঠিক পথ বেছে নিতে দরকার সমালোচনামূলক চিন্তা ও তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস।