
শেষ আপডেট: 21 December 2023 20:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতায় কেক বলতে যে জায়গাটির কথা প্রথম মাথায় আসে, তা হল নিউ মার্কেট চত্বর। মাঝ ডিসেম্বরের মিঠে রোদ গায়ে মেখে পুরনো এই পাড়ার আশপাশ দিয়ে গেলে এখানকার উপচে পড়া ভিড় আর কেকের সুবাস জানান দেয়, বড়দিন আসতে আর বেশি দিন বাকি নেই। ১০০ বছরের পুরনো বেকারি ‘নাহুমস’ বা সাহেবপাড়ার ‘ফ্লুরিজ’ হোক, এখন তো পাড়ায় পাড়ায় পাওয়া যায় রকমারি বেকারি। পছন্দ মতো কেকের বরাত দেওয়া যায় বিভিন্ন হোম বেকারের কাছে। ফ্রুটকেক, পামকেক, চকলেটের ফ্লেভারের কেক - নানা স্বাদ, চেনা জানা কত না ব্র্যান্ড! তার মধ্যেই বাঙালির পছন্দ ডান্ডি কেক।
বড়দিন মানেই ইংলিশ ফ্রুট কেক বা ডান্ডি কেক প্রত্যেক বাড়িতে আসবেই। গোলপানা কেকের উপর বড় বড় আমন্ড, কাজু, ড্রাই ফ্রুটস দিয়ে সাজানো। এখন মনে হতেই পারে কেকের নাম ডান্ডি কেন? এক সঙ্গে কি ক্রিসমাসের কোনও সম্পর্ক আছে?
জানেন তো, ব্রিটিশ শাসনের হাত ধরেই আরও অনেক কিছুর মতো এই কেক নামক খাবারটিও ঢুকে গেছে বাঙালির অন্দরমহলে। সেই ঐতিহ্যের উত্তরসূরী হিসেবে আজও এই শহরের বুকে সদর্পে দাঁড়িয়ে আছে নাহুম’স, সালদানহা কিংবা আজমিরি বেকারির মতো সুপ্রাচীন কেকের দোকানগুলো৷ এখনও বড়দিনের আগে ক্রেতাদের ভিড় উপচে পড়ে সেখানে। কেক শব্দটার উৎপত্তি জড়িয়ে আছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ার ডাকাতদল ভাইকিংদের সঙ্গে। প্রাচীন নোরস শব্দ 'কাকা' থেকেই না কি এসেছে 'কেক' শব্দটি। সুইডিশ ভাষায় আবার 'কাকা' শব্দের অর্থ জমাট মিষ্টি। ইতিহাস বলছে, এখনকার কেকের থেকে স্বাদে আর চেহারায় অনেক আলাদা ছিল সেই প্রাচীন কেক। আজকের কেকের চারপাশে যে ক্রিমের আস্তরণ থাকে, সেসব বাহুল্য আগে একেবারেই ছিল না। মিষ্টির জন্য নানারকম মধুর ব্যবহার হত। মেশানো হত শুকনো ফল আর বাদাম জাতীয় জিনিসপত্র।
স্কটল্যান্ডে এই বড়দিনের সময় বিশেষ চল ছিল 'হুইস্কি ডান্ডি' ক্রিসমাস কেকের। নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে, এই কেক তৈরিতে স্কচ হুইস্কির একটা বড় ভূমিকা ছিল। বেশ হালকা ঝুরঝুরে এই বিশেষ কেকে মেশানো হত চেরি, নানারকম কিশমিশ, এমনকি মিছরির মতো মোরব্বাও। ডান্ডি নামটা এসেছে হুইস্কি ডান্ডি থেকে।
বড়দিনে কেকের মতোই জনপ্রিয় ছিল আরও একটা খাবার, তার নাম 'ব্ল্যাক বান'। পাঁউরুটির মতো দেখতে এই বিশেষ খাবারটিও তৈরি করা হত কেকের উপাদান দিয়ে। আর এতেও মেশানো হত উৎকৃষ্টমানের স্কচ হুইস্কি। ক্যান্ডিড চেরি মেশানো গাঢ় বাদামি রঙের কেক ছাড়াও সবুজ রঙের কিছু বিশেষ কেক পাওয়া যেত এই ক্রিসমাসের মরশুমেই। তাদের নাম ছিল অ্যাঞ্জেলিকা।
ইতিহাস বলছে, ৩৩৬ সালে রোমান সম্রাট কনস্টানটাইনের আমলে প্রথম ক্রিসমাস বড়দিন পালন করা হয়। ক্রিসমাসে কেক খাওয়ার রীতি অবশ্য শুরু হয় তারও অনেক পরে। তবে ক্রিসমাস পালন যখন শুরু হয় তখন কেক ছিল না, ছিল প্লাম পরিজ। সেই সময় ক্রিসমাসের আগের দিন উপবাস করার নিয়ম ছিল। একদিন উপবাসের পরে বড়দিনের ঠিক আগে ইংরেজরা উপবাস ভাঙতেন পরিজ খেয়ে। কারণ বেশ কয়েক ঘন্টা খালি পেটের পর ভারি খাবার পেটে পড়লে শরীর খারাপ হতে পারে। তাই পরিজ কাওয়ার রীতি ছিল। শুকনো ফল, নানা রকম মশলা, মধু মিশিয়ে তৈরি হত সেই পরিজ।
১৬ শতকে ক্রিসমাসের পুডিংএ ময়দা, মাখন, ডিম যোগ হয়। শুকনো ফলের জায়গায় অ্যালমন্ড সুগার পেস্ট ব্যবহার করে ফ্রুট কেক তৈরি হতে শুরু করে। স্কটল্যান্ডে এই সময় স্কচ হুইস্কিতে মেশানো চেরি, অ্যালমন্ড, মিছরি দিয়ে তৈরি হতে শুরু করে ডান্ডি কেক। কাজেই ক্রিসমাসের সঙ্গেও এই কেক তৈরি ও কেক কাটার রীতি জড়িয়ে যায়।