
শেষ আপডেট: 13 January 2024 18:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি সত্যিই ‘কিলার’। পর্দায় সবসময়েই নতুন চমক নিয়ে আসেন। প্রতিবারই আলাদা চরিত্র, আলাদা ব্যক্তিত্ব। যে কোনও চরিত্রেই তিনি একেবারে ফিট। শরীরও যে ঘষেমেজে তৈরি করেছেন তা বলাই বাহুল্য। নিজেকে সুস্থ এবং চাঙ্গা রাখতে অনেক অভিনেতারা নানা নিয়ম মেনে চলেন। মনোজ বাজপেয়ী রীতিমতো কঠোর ডায়েট মেনে চলেন। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, গত ১৪ বছর ধরে সূর্যাস্তের পরে তিনি কিছু খান না। বিকেল ৩টেয় ডিনার। আর তারপর পরিপূর্ণ উপোস।
ছরের শুরুতেই তাক লাগিয়ে দিলেন মনোজ বাজপেয়ী। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল তাঁর সিক্স প্যাক অ্যাবস।
২০২৪ এর প্রথম দিনেই বড় শার্টলেস ছবি পোস্ট করে রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছেন অভিনেতা। তাঁকে পরবর্তীতে "কিলার স্যুপে" দেখা যাবে। সেই সুবাদেই নিজেকে নতুন করে গড়েছেন "দ্য ফ্যামিলি ম্যান"। ছবির সঙ্গে ক্যাপশন দিয়ে মনোজ লিখেছেন, "নতুন বছর নতুন আমি! দেখুন স্যুপ খেয়ে কীরকম শরীর তৈরি করেছি। একদম কিলার তাই না?!" অভিনেতা ও কমেডিয়ান সুনীল গ্রোভার মন্তব্য করেছেন, "আপনি তো ইন্টারনেটে আগুন লাগিয়ে দিলেন।" অন্যদিকে চলচ্চিত্র নির্মাতা অনুরাগ কাশ্যপ তাঁকে বলেছেন ‘ছুপা রুস্তম।"
"স্যার কী বডি! আমি ভাবছি আপনি কী খেয়েছেন," এরকম মন্তব্য করে অনেকেই জানতে চেয়েছেন অভিনেতার স্পেশ্যাল ডায়েট। আর নিজের ডায়েট নিয়ে বরাবরই অকপট মনোজ। তিনি রাখঢাক না করেই জানিয়েছেন, ওই দুপুর-বিকেল অবধিই শেষ খাবার খান তিনি। রাতটা নির্ভেজাল উপোস। পছন্দের খাবার থাকলেও মুখে তোলেন না। গত ১৩-১৪ বছর ধরে এই নিয়মই মেনে আসছেন। এ কথা শোনার পর অনেকেই আঁতকে উঠেছেন। তবে মনোজ অবশ্য জানিয়েছেন, এই রুটিন মেনে চলে তিনি সুস্থ আছেন। ডায়াবিটিস, কোলেস্টেরল কিংবা অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা তাঁর শরীরে এখনও পর্যন্ত বাসা বাঁধেনি।
ওজন কমানোর জন্য লো ক্যালরি ডায়েট মেনে চলতে হবে, এই মিথের পিছনে আমরা সকলেই ছুটি। কিন্তু লো ক্যালরি ডায়েট ঠিক কাকে বলে? ঠিক কতটা ক্যালরি আমাদের প্রয়োজন প্রতি দিন? শরীর সুস্থ রাখতে নিয়ম মেনে খাওয়াদাওয়া করাই দস্তুর। খাওয়াদাওয়ার অনিয়মে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। তেমনটাই বলে থাকেন চিকিৎসকরাও। কিন্তু দীর্ঘ ক্ষণ ধরে না খেয়ে থাকার এই পদ্ধতি কি আদৌ স্বাস্থ্যকর? মনোজ যে ধরনের ডায়েট করছেন তাকে পুষ্টিবিদরা বলেন ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং (Intermittent fasting)।
টেসলা কর্তা ইলন মাস্ক থেকে ভারতের স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান ভারতী সিং, অভিনেত্রী-সাংসদ স্মৃতি ইরানি এরা আচমকাই অনেকটা ওজন একবারে কমিয়ে ফেলেছেন। শোনা গেছে, এঁরা নাকি কঠোরভাবে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং মেনে ওজন ঝরিয়েছেন। তবে পুষ্টিবিদরা বলছেন, অনেক ক্ষণ না খেয়ে থাকলে পাকস্থলী থেকে এক ধরনের অ্যাসিড নিঃসরণ হয়। যা খাবার হজম করতে সাহায্য করে। কিন্তু সেটারও একটা মাত্রা রয়েছে। খালি পেটে দীর্ঘ ক্ষণ থাকলে সেই অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তার ফলে গ্যাস্ট্রাটাইটিসের সমস্যা দেখা যায়। মনোজ বাজপেয়ীর মতো ডায়েট তাঁরাই করতে পারবেন যাঁদের শরীর একদম সুস্থ, কোনও অসুখবিসুখ নেই। কোমর্বিডিটি থাকলে যেমন গ্যাসট্রিকের সমস্যা, হার্ট, লিভার বা কিডনির রোগ, ডায়াবেটিস থাকলে এই ধরনের ডায়েট করা যাবে না।
চিকিৎসকদের কথায়, এক জন মানুষ যদি সূর্যাস্তের পর না খান, সেটা নির্ভর করছে কখন ঘুমোতে যাচ্ছেন তার উপর। আর এটা যে সকলের জন্য প্রযোজ্য এবং সেই কারণেই যে মনোজ বাজপেয়ীর কোনও অসুখ হয়নি, এটা বলা যায় না। কারণ তার জন্য অনেকের উপর এই সমীক্ষাটা করতে হয়। ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’ কিন্তু অনেকে করতে পারেন। ৮, ১০ বা ১৪ ঘণ্টা না খেয়ে থাকার নিয়ম। তবে সকলের জন্য নয়।