
শেষ আপডেট: 8 November 2023 21:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী ১২ নভেম্বর কালীপুজো। ঠিক তার আগের দিনই ১১ নভেম্বর, শনিবার হল ভূত চতুদর্শী। ভূত অর্থাৎ অতীত এবং চতুর্দশী অর্থাৎ কৃষ্ণপক্ষের ১৪ তম দিন। পিতৃ এবং মাতৃকুলের সাত পুরুষের উদ্দেশ্যে এদিন গৃহস্থ বাড়িতে জ্বালানো হয় ১৪ প্রদীপ। একইসঙ্গে এইদিনে ১৪ শাক খাওয়ারও রীতি রয়েছে।
পৌরাণিক কথা
পুরাণ মতে, ভূত চতুদর্শীর দিন মা কালী ধীরে ধীরে জাগ্রত হতে শুরু করেন। সেই প্রেক্ষিতে অশুভ শক্তির বিনাশের পূর্বক্ষণই এই ভূত চতুর্দশী। কথিত রয়েছে, চামুণ্ডারূপী চোদ্দ ভূত দিয়ে অশুভ শক্তিকে ভক্তের বাড়ি থেকে তাড়ানোর জন্যে মা কালী মর্তে নেমে আসেন৷
কেন ১৪ শাক খেতে হয়
আশ্বিন মাসের চতুর্দশী তিথিতে অর্থাৎ দীপান্বিতা কালীপুজোর আগের দিন অনেক বাড়িতে চোদ্দ শাক খাওয়ার রীতি রয়েছে। হিন্দুশাস্ত্র মতে, সেই প্রথারই অংশ হিসাবে চোদ্দ শাক খাওয়া হয়। অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটাতে চোদ্দ রকম শাক জলে ধুয়ে, সেই জল বাড়ির চারদিকে ছিটিয়ে দেওয়ারও প্রথা রয়েছে। পূর্বের সাত পুরুষকে উৎসর্গ করে, আগামী সাত পুরুষের জন্য খাওয়া হয় এই চোদ্দ শাক। জয়ন্তী, শাঞ্চে, হিলঞ্চ, ওল, পুঁই, বেতো, সর্ষে, কালকাসুন্দে, নিম, পলতা, শুলকা, গুলঞ্চ, ভাঁটপাতা ও শুষণী-মূলত এই চোদ্দ রকমের শাক রান্না করা হয়।
কেন ১৪ প্রদীপ জ্বালানো হয়
মহালয়ার দিন যেমন পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে জল দান করা হয় তেমনই চৌদ্দপুরুষ-এর উদ্দেশ্যে প্রদীপ জ্বালানো হয়। কথিত রয়েছে, এইদিন বাড়িতে বংশের পুর্বপুরুষরা নাকি তাঁদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের আশীর্বাদ করতে আসেন। তাই বংশের ১৪ পুরুষের উদ্দেশে ১৪টি প্রদীপ জ্বালানো হয়।
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
পৌরাণিক কাহিনির সঙ্গেই যে কোনও বিষয়ের যেমন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা থাকে, এক্ষেত্রেও তেমনটাই রয়েছে। সাধারণত শরতের শেষ এবং হেমন্তের শুরুতে আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়। ফলে এই সময়ে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। বাড়তে থাকে নানা রকম মরশুমি রোগের উপদ্রব । তাই আয়ুর্বেদিক মতে, ভেষজ গুণে সমৃদ্ধ ওই চোদ্দ শাক খেলে আখেরে শরীরের লাভই হয়। আবার হেমন্তের শুরুতে পোকামাকড়ের উপদ্রব থেকে বাঁচতে বাজি পোড়ানো হয়। খাবারে বা চোখ-মুখে পোকা যাতে না হয়, তাই গ্রাম বাংলায় প্রদীপ বা আলো জ্বালানোর রীতি রয়েছে।