পিরিয়ড সাইকেলের কোন সময় সঙ্গমে গর্ভধারণের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, তা জানলে অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যায় বিষয়টা। ওভুলেশন ও ফার্টাইল উইন্ডো বুঝে নিলেই প্রেগনেন্সি নিয়ে ধোঁয়াশা কাটবে, বলছেন চিকিৎসকরা।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 16 December 2025 18:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পিরিয়ড (Period) মানেই শুধু রক্তপাত নয়। এক মহিলার শরীরে প্রতি মাসে একের পর এক জটিল পরিবর্তনের সাক্ষী থাকে এই পুরো মাসিক চক্র (Menstrual Cycle)। সাধারণত ২৮ থেকে ৩০ দিনের এই সাইকেলের প্রতিটি ধাপে বদলায় হরমোন (Hormone), বদলায় শরীরের সংকেত, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়ে ফার্টিলিটি (Fertility), ওভুলেশন (Ovulation) এবং গর্ভধারণের সম্ভাবনায়। ঠিক কোন দিনে শরীরে কী ঘটে, আর কোন সময়ে মিলন করলে প্রেগন্যান্সির (Pregnancy) সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি-এই প্রশ্ন ঘুরপাক খায় বহু মহিলার মনেই। গোটা সাইকেলের স্পষ্ট ব্যাখ্যা রইল দ্য ওয়ালে।
দিন ১–৫: মাসিকের সময় (Period Phase)
এই সময়েই শুরু হয় নতুন সাইকেল। আগের মাসে তৈরি হওয়া জরায়ুর পুরনো আস্তরণ (Uterine Lining) শরীর থেকে রক্তের সঙ্গে বেরিয়ে যায়। অনেকেরই এই সময়ে পেটব্যথা, শরীর ম্যাজম্যাজে ভাব, ক্লান্তি কিংবা মুড সুইংয়ের সমস্যা দেখা দেয়। হরমোনের মাত্রা তখন একেবারে কমে যায়। শরীর ধীরে ধীরে নিজেকে নতুন সাইকেলের জন্য প্রস্তুত করতে শুরু করে।
দিন ৬–৯: ফোলিকল তৈরির পর্ব (Follicular Phase)
মাসিক শেষ হতেই শরীর একটু চনমনে হতে শুরু করে। ডিম্বাশয়ে (Ovary) নতুন ডিম্বাণু (Egg) বেড়ে ওঠে। ইস্ট্রোজেন (Estrogen) হরমোন ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। ফলে এনার্জি বাড়ে, মন ভাল থাকে। এই পর্যায়েই শরীর গর্ভধারণের জন্য ভিতরে ভিতরে প্রস্তুতি নিতে শুরু করে।
দিন ১০–১৪: সবচেয়ে ভাল সময় (Fertile Window + Ovulation)
এই সময়টাই গোটা সাইকেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাধারণত দিন ১২ থেকে ১৪-এর মধ্যে ওভুলেশন (Ovulation) ঘটে। অর্থাৎ ডিম্বাশয় থেকে পরিণত ডিম্বাণু বেরিয়ে আসে। এই সময় ইস্ট্রোজেন হরমোন সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছয়। সার্ভিকাল মিউকাস (Cervical Mucus) পাতলা হয়ে ডিমের সাদা অংশের মতো হয়, যাতে শুক্রাণু সহজে পৌঁছতে পারে। এই সময় মিলন হলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। চিকিৎসকেরাও একে বলেন ‘ফার্টাইল উইন্ডো’ (Fertile Window)।
দিন ১৫–২১: ওভুলেশনের পরের পর্ব (Post-Ovulation Phase)
ওভুলেশনের পর শরীরে প্রোজেস্টেরন (Progesterone) হরমোন বাড়তে থাকে। যদি ডিম্বাণু নিষিক্ত (Fertilization) হয়, তাহলে জরায়ুর আস্তরণ আরও পুরু হতে শুরু করে, যাতে ভ্রূণ সহজে বসতে পারে। এই সময় বুকে টান, হালকা ক্র্যাম্প বা অস্বস্তি, ক্লান্তি অনুভব করতে পারেন অনেকে। শরীর তখন সম্ভাব্য প্রেগন্যান্সির জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
দিন ২২–২৮: পিরিয়ডের আগের সময় (Pre-Menstrual Phase)
নিষিক্ত না হলে হরমোনের মাত্রা আবার নামতে শুরু করে। মাথা ভার, পেট ফাঁপা, মুড সুইং, খিদের পরিবর্তনের মতো সমস্যা দেখা দেয়-যাকে বলা হয় পিএমএস (PMS)। এই পর্যায়ের শেষেই জরায়ুর আস্তরণ ভেঙে পড়ে এবং নতুন করে মাসিক শুরু হয়।
নিজের শরীরের এই স্বাভাবিক ছন্দটা বুঝে নিলে গর্ভধারণ পরিকল্পনা যেমন সহজ হবে, তেমনই অপ্রয়োজনীয় ভয় বা ভুল ধারণাও দূরে থাকবে, বলছেন চিকিৎসকরা। তাহলে সাইকেল বুঝে গর্ভধারণের প্ল্যান করুন। সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।