
শেষ আপডেট: 17 November 2023 23:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিজন চেঞ্জ মানেই সর্দি-কাশি, জ্বর। তবে এখনকার সময় ব্যাকটেরিয়া-ভাইরাসদের যা দাপট তাতে শুধু সর্দি-কাশির ভাইরাসই যে ছড়াচ্ছে তা নয়, রীতিমতো জাঁকিয়ে বসছে ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া। সাধারণত ব্যাকটেরিয়া কিংবা ভাইরাসের সংক্রমণে নিউমোনিয়া হয়। যেমন, স্ট্রেপ্টোকক্কাস নিউমোনি নামের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ নিউমোনিয়া রোগের একটি অন্যতম প্রধান কারণ। এ ছাড়া, ছত্রাকঘটিত কারণেও অনেক সময় নিউমোনিয়া হতে পারে।
ডাক্তারবাবুরা বলছেন, সাধারণ সর্দি-কাশির সঙ্গে নিউমোনিয়া গুলিয়ে ফেলছেন অনেকে। ফলে সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে না। সর্দি-কাশিও কমতে চাইছে না।
সাধারণ সর্দি-কাশি না নিউমোনিয়া বুঝবেন কী করে?
চিকিৎসকরা বলছেন, শীতকালে তাপমাত্রা কম থাকায় উপযুক্ত আবহাওয়া পেয়ে নিউমোনিয়া সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া কিংবা ভাইরাস আরও বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। সামান্য ঠান্ডা লাগা থেকেও কেউ কেউ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হতে পারেন। তবে সকলেই যে সামান্য ঠান্ডা লাগলেই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হবেন তা নয়। যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক বেশি, তাঁদের ক্ষেত্রে সামান্য ঠান্ডা লাগা থেকে নিউমোনিয়া সাধারণত হয় না। কিন্তু শিশু ও বয়স্কদের ভয় বেশি।
নিউমোনিয়ার প্রাথমিক লক্ষণ হল জ্বর। তার সঙ্গে কাশি। পাশাপাশি, শ্বাসকষ্টও থাকে। সংক্রমণ যত বাড়ে, শ্বাসকষ্টও বাড়তে থাকে। বুকে ব্যথা হতে পারে। বুকের ব্যথার এই ধরন তবে একটু আলাদা। সাধারণত, গভীর শ্বাস নেওয়ার সময়ে এই বুকের ব্যথা হবে। ফুসফুসের প্রদাহের কারণে এই ব্যথা হয়। এ ছাড়া, মাথায় যন্ত্রণা, ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়া, খাওয়ায় অনীহা, সারাক্ষণ বমি বমি ভাবও আনুষঙ্গিক লক্ষণের মধ্যে পড়ে।
নিউমোনিয়ার প্রথম দিকে সাধারণ জ্বর, সর্দি এবং সঙ্গে কাশির উপসর্গই দেখা যায়। তবে কিছু দিন পর থেকেই এই উপসর্গগুলির প্রকোপ বাড়তে থাকে। দেখা যায়, জ্বর কিছুতেই কমছে না। সঙ্গে শ্বাসকষ্ট বাড়ছে। কাশিও একই ভাবে বাড়ছে। বুকের ব্যথাও থাকছে।
আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কাদের বেশি?
যে সব মানুষের শরীরে ইতিমধ্যে অন্য রোগ বাসা বেঁধেছে, সেই সব মানুষের শরীরে নিউমোনিয়ার সংক্রমণ দ্রুত হওয়ার একটা আশঙ্কা থেকেই যায়। যেমন ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস এবং এইচআইভি পজিটিভে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে নিউমোনিয়ার ভাইরাস ঢুকলে দ্রুত সংক্রমণের ভয় বেশি থাকে। বিভিন্ন রোগের কারণে যখন শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, তখন এই অসুখের জীবাণু শরীরের মধ্যে দ্রুত ছড়াতে থাকে। তাই অন্য রোগ থাকলে এ রকম লক্ষণ দেখলে আগেভাগে সাবধান হতে হবে।