
শেষ আপডেট: 27 October 2023 19:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আচমকাই দুলে উঠল মাথা, চোখের সামনে অন্ধকার (Transient ischemic attack)। হাত-পা যেন অবশ হয়ে গেছে। কথা বলতেই পারছেন না ঠিক করে। এমন অবস্থার মুখোমুখি হয়েছেন কখনও?
কয়েক মিনিট এরকম কথা বলতে না পারা, হাত বা পা অসাড় হয়ে যাওয়া অথবা চোখে অন্ধকার দেখার মতো ঘটনাকে চিকিৎসার পরিভাষায় বলে ‘ট্র্যানসিয়েন্ট ইসকিমিক অ্যাটাক’ বা ‘টিআইএ’। সাধারণ ভাবে একে মিনি স্ট্রোক বলা যায়।
ডাক্তারবাবুরা বলেন, আচমকাই এমন ঘটনা ঘটতে পারে যে কারও সঙ্গেই। যে কোনও বয়সেই মিনি স্ট্রোক হতে পারে। বাড়তে থাকা স্ট্রেস, উদ্বেগ, অতিরিক্ত পরিশ্রম, অনিয়মিত জীবনযাত্রা, অস্বাস্থ্যকর খাওয়ার অভ্যাস–সবকিছুই এর কারণ হতে পারে। মিনি স্ট্রোক ধরতে পারেন না অনেকেই। গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। ফলে এই ছোট ছোট লক্ষণগুলোই বড় আকার নিয়ে পরবর্তী সময়ে ব্রেন স্ট্রোকের কারণ হতে পারে।
ট্রান্সিয়েন্ট ইসকেমিক অ্যাটাক বা টিআইএ-এর লক্ষণ অল্পসময়ের জন্য দেখা দেয়। কিন্তু এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। এমন উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
কী কী লক্ষণ দেখে বুঝবেন মিনি স্ট্রোক হয়েছে?
কিছু সময়ের জন্য যদি মস্তিষ্কে রক্ত পৌঁছনো বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে মিনি স্ট্রোক হতে পারে।
লক্ষণগুলো চিনে নিন
টিআইএ বা স্ট্রোকের ক্ষেত্রে এটা-ওটা করতে গিয়ে সময় নষ্ট করলেই মহা বিপদ। প্রাণে বাঁচার ঝুঁকি ক্রমশ কমে যায় তো বটেই, আর প্রাণে বাঁচলেও বার বার স্ট্রোকের ধাক্কায় শরীরের একদিক অসাড় হয়ে গিয়ে রোগী পঙ্গু হয়ে যেতে পারেন।
স্ট্রোক হওয়ার পর সাড়ে চার ঘণ্টা হল গোল্ডেন আওয়ার। এর মধ্যে ইন্টারভেনশন পদ্ধতির সাহায্যে মস্তিষ্কের রক্তবাহী ধমনীর রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক করে দিতে পারলে রোগীর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন। কিন্তু দেরি হলেই বিপদ। আর এই কারণেই চিকিৎসকরা বলেন,‘টাইম ইজ ব্রেন’। চিকিৎসায় দেরি হলে প্যারালিসিস হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। সুতরাং স্ট্রোকের লক্ষণ দেখলেই হাসপাতালে ভর্তি করে দেওয়া উচিত।