
শেষ আপডেট: 8 November 2023 12:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একজনের দেখাদেখি হাই তোলা খুব সাধারণ একটি ঘটনা। কাজে বসার পর থেকেই দেখবেন ঘন ঘন হাই উঠছে! ক্লান্তিভাব দূর হচ্ছেই না। সাধারণত ঘুম পেলে হাই ওঠে। কখনও কখনও রাত জেগে কাজ করলে, ভাল ঘুম না হলে পরদিন সকালে বার বার হাই তোলা স্বাভাবিক। দেহে অক্সিজেনের অভাব ঘটলে বারবার হাই ওঠে। কিন্তু রাতে গভীর ঘুমের পরও দিনভর ঘন ঘন হাই তোলা মোটেই স্বাভাবিক ব্যাপার নয়।
অতিরিক্ত হাই তোলার পিছনে কয়েকটি গুরুতর কারণ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীর যথেষ্ট বিশ্রাম পাওয়ার পরেও যদি ঘন ঘন হাই উঠতে থাকে তাহলে তা হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণও হতে পারে। হার্ট দুর্বল যাঁদের, প্রতি মুহূর্তে তাঁদের সর্তক থাকতে হয়। হঠাৎ হৃৎপিণ্ডে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে, মাসেল কাজ করা থামিয়ে দেয়। তার থেকেই হার্ট অ্যাটাক হয়। তাই ডাক্তারের পরামর্শ মেনে সাবধানে থাকাটা জরুরি। সাধারণত বুকে হঠাৎ ব্যথা, মাটিতে পড়ে যাওয়া এগুলোকেই অনেকে ধরে নেন হার্ট অ্যাটাকের সিম্পটম। কিন্তু কখনও কখনও শরীরে ছোট ছোট কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা যায়, যা অনেকেই এড়িয়ে যান। সেই কারণেও হতে পারে হার্ট অ্যাটাক। জানেন কি অতিরিক্ত হাই তোলাও হার্ট অ্যাটাকের সিম্পটম হতে পারে?
অনেকে ধরে নেন, শরীর অতিরিক্ত ক্লান্ত থাকলে, ভালভাবে ঘুম না হলে ঘনঘন হাই তোলে মানুষ। কিন্তু যদি দিনে ঠিকমতো বিশ্রাম নেওয়ার পরে, ক্লান্ত না থাকার পরেও ঘনঘন হাই ওঠে, তাহলে বুঝতে হবে শরীরের কোনও গুরুতর সমস্যা রয়েছে। মেডিকেল সায়েন্সে এই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রিসার্চ চললেও হাই তোলার আসল কারণ অনেকেই জানতে পারেননি। তবে অনেকেই বলেন শরীরে ব্লাড অক্সিজেনেশন বাড়িয়ে তোলে এটা। এমনকি মাথাও ঠান্ডা রাখে কখনও কখনও।
ডাক্তাররা বলেন শরীরের স্নায়ু সংক্রান্ত জটিলতা বাড়লে অতিরিক্ত হাই তোলেন অনেকেই। হৃৎপিণ্ডের আশেপাশে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে অনেক সময় হাই ওঠে। এর থেকে স্ট্রোক পর্যন্ত হতে পারে। ডাক্তাররা এও বলছেন স্ট্রোকের আগে এবং পরে দুই সময়ই স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হাই তোলেন অনেকে। কিছুক্ষেত্রে দেখা যায় অতিরিক্ত হাই তোলার কারণে কথা বলাও বন্ধ হয়ে যায় কারও কারও। বোবাও হয়ে যান কেউ কেউ। এক্সারসাইজের সময়, দিনে অতিরিক্ত গরমের মধ্যে দাঁড়িয়ে ঘনঘন হাই তোলাকে অনেক সময় হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা ধরে নেন ডাক্তাররা।
হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ছাড়াও অতিরিক্ত হাই তুললে আরও অনেক শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। যেমন -
ব্রেন টিউমার
এপিলেপ্সি
মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস
লিভার ফেইলিওর
এমনকী এর কারণে শরীর স্বাভাবিক তাপমাত্রা ধরে রাখার ক্ষমতাও হারায়।
একমাত্র বিশেষজ্ঞরাই দেখে জানিয়ে দিতে পারবেন হাই তোলার কারণ। হার্টের অসুখ থাকলে সে বিষয়েও খোলাখুলি আলোচনা করতে হবে। কখনও দেখা যায় স্ট্রেস কমানোর পরামর্শ দেন ডাক্তারবাবু। ঠিকমতো বিশ্রাম নিতে বলেন। এসবের পরেও না কমলে নির্দিষ্ট ওষুধের সহায়তা নিতে বলেন ডাক্তারেরা।