সাবান ব্যবহার না করলে তো আমাদের স্নানই যেন সম্পূর্ণ হয় না, কিন্তু স্নানের এই বিশেষ অভ্যাস নিয়ে বিজ্ঞান কী বলছে?

অভিনেত্রী বিদ্যা মালভাদে
শেষ আপডেট: 9 October 2025 13:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্নান (Shower ritual) অনেকের কাছে রোজের আরও চারটে কাজের মতো একটা অভ্যাস হলেও কারও কাছে সেটা শরীরের পাশাপাশি মনের শান্তির বিষয়ও বটে।
সম্প্রতি ‘চক দে! ইন্ডিয়া’ সিনেমাখ্যাত অভিনেত্রী বিদ্যা মালভাদে (Vidya Malavade) জানিয়েছেন, তিনি গত দশ বছর ধরে শরীরে কোনও সাবান ব্যবহার (soap-free bathing) করেননি। তার বদলে তিনি মাঝে মাঝে শুধু জল, গোলাপজল অথবা ঘরোয়া বেসনের উপটান (natural ubtan) ব্যবহার করেন (skincare routine)।
শুধু তাই নয়, আরও একটি বিশেষ জিনিস মেনে চলেন বিদ্যা। স্নানের পর একটি ৩০ সেকেন্ড নিজের মনে একটি অ্যাফারমেশন (affirmation) আওড়ে নেন, যার মাধ্যমে যাবতীয় 'নেগেটিভ এনার্জি' ধুয়ে যায় বলে বিশ্বাস করেন। বিদ্যার কাছে স্নানের এই বিশেষ নিয়ম ত্বকের যত্নের পাশাপাশি অনেকটা মেডিটেশনের মতো।
সাবান ব্যবহার না করলে তো আমাদের স্নানই যেন সম্পূর্ণ হয় না, কিন্তু স্নানের এই বিশেষ অভ্যাস নিয়ে বিজ্ঞান (dermatologist advice) কী বলছে?
বেঙ্গালুরুর লেডি কার্জন অ্যান্ড বাওরিং হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক শ্বেতা শ্রীধর বলেন, “প্রতিদিন সাবান ব্যবহার আসলে সবার জন্য জরুরি নয়।”
ডাঃ শ্রীধরের মতে, ২০২৪ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে যে শুধুমাত্র জল দিয়ে স্নান করা ও সাবান ব্যবহারের মধ্যে ত্বকের সংক্রমণের কোনও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়নি। তবে, “যারা প্রচুর ঘামেন, বাইরে কাজ করেন বা পলিউশনের মধ্যে থাকেন, তাঁদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র জল যথেষ্ট নয়। বগল, কুঁচকি, মাথার ত্বক এবং পায়ের পাতার মতো জায়গায় এখনও সাবান প্রয়োজন, কারণ এখানে দুর্গন্ধ, ব্রন বা সংক্রমণের সম্ভাবনা বেশি।”
এখন কেন বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে সাবানবিহীন স্নান?
এই প্রবণতা নতুন নয়। সংবেদনশীল বা একজিমা-প্রবণ ত্বক যাঁদের, তাঁরা এমনিতেই বেশি ফেনা হয় এমন ক্লিনজার এড়িয়ে চলেন। কম ফেনা মানেই ত্বকের কম জ্বালা বা র্যাশের সম্ভাবনা।
ডাঃ শ্রীধর বলেন, “ত্বক নিজেই নিজের সুরক্ষার জন্য প্রাকৃতিক তেল তৈরি করে, যা তাকে নরম ও আর্দ্র রাখে। অতিরিক্ত সাবান ব্যবহারে সেই তেল উঠে যায়, ফলে ত্বক শুষ্ক, টানটান হয়ে পড়ে। ফলে তাতে নানারকম সমস্যা দেখা দেয়।”
এছাড়াও, ত্বকের মাইক্রোবায়োম (microbiome) — যা ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসের একটি প্রাকৃতিক কমিউনিটি — ত্বকের ভারসাম্য রক্ষা করে। অতিরিক্ত সাবান এই ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। ফলে ত্বক কমজোরি, রুক্ষ ও সংবেদনশীল হয়ে পড়ে।
প্রাকৃতিক ঘরোয়া বিকল্পগুলির উপকারিতা কী?
ডাঃ শ্রীধরের মতে, “বিদ্যা যে উপ্টানের কথা বলেছেন সেই বেসন-হলুদের ঘরোয়া প্যাক ঘাম ও ময়লা দূর করে, কিন্তু ত্বকের প্রাকৃতিক তেলও নষ্ট করে না। গোলাপজলও ত্বককে সতেজ রাখে, যদিও এটি মূলত সুগন্ধ ও প্রশান্তির জন্য।”
যাঁরা পুরোপুরি সাবান ছাড়তে চান না, তাঁরা pH-balanced বা অর্গানিক সাবান ব্যবহার করতে পারেন।
এই অভ্যাস কি সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য?
ডার্মাটোলজিস্ট সতর্ক করেছেন, “যাঁদের ব্রন, সোরিয়াসিস, ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যা আছে, তাঁদের জন্য এটি উপযুক্ত নয়।” এছাড়া গরম ও আর্দ্র অঞ্চলে ঘামের পাশাপাশি ব্যাকটেরিয়াও বাসা বাঁধে ত্বকে। তাই সেখানে শুধু জল ব্যবহার করলে দুর্গন্ধ, র্যাশ বা ইনফেকশন হতে পারে। তবে রাতারাতি কোনও পরিবর্তন আনলে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাতে ত্বকে উল্টো প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, প্রথমে শুধু বগল, কুঁচকি, পা ও হাতের মতো অংশে সাবান ব্যবহার করুন, যেখানে বেশি ঘাম জমে। শরীরের বাকি অংশে জল ব্যবহার করুন। তারপরে অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার লাগান। এভাবে আস্তে আস্তে দেখুন ত্বক কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে এবং দরকার মতো ধীরে ধীরে সেই রুটিনে পরিবর্তন আনুন।