
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 4 May 2025 18:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্তমানে ডায়েট নিয়ে যত পরামর্শ শোনা যায়, তার মধ্যে কোলেস্টেরল সবচেয়ে বিভ্রান্তিকর একটি বিষয়। বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন, কোলেস্টেরল মানেই খারাপ কিছু, এটা সরাসরি হার্টের অসুখ ডেকে আনে। কিন্তু বিষয়টা এতটা সরল নয়। ডাক্তারদের কথায়, সব কোলেস্টেরলই কিন্তু খারাপ নয়। বাস্তবে কোলেস্টেরল শরীরে নানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিনের রান্না এবং খাওয়ার অভ্যাসে ছোট কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমেই কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
আমাদের শরীরে কোলেস্টেরল দুই ধরনের- LDL (লো-ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন), যাকে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল বলা হয় এবং HDL (হাই-ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন), যাকে ‘ভাল’ কোলেস্টেরল বলে। LDL রক্তনালিতে জমে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। অন্যদিকে, HDL এই ক্ষতিকর কোলেস্টেরল শরীর থেকে সরিয়ে হার্টকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
রান্নায় কী তেল ব্যবহার হচ্ছে, তা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে তেলে মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট (MUFA) এবং পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট (PUFA) এর সঠিক ভারসাম্য থাকে, তা খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে এবং ভাল কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে।
কোলেস্টেরল নিয়ে চারটি প্রচলিত ভুল ধারণা:
১. বয়স কম হলে কোলেস্টেরল নিয়ে চিন্তা নেই
এটা ভাবা ভুল যে কোলেস্টেরলের সমস্যা শুধু ৪০-এ পৌঁছেই হবে। আজকাল টিনএজ বা বিশের কোঠাতেও এমন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম, অনিয়মিত খাওয়া, দেরি করে ঘুমোনো এবং ফাস্ট ফুডে ভরসা- সবই কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করছে।
২. পরিবারে কারও কোলেস্টেরল নেই, তাহলে আমারও হবে না
জিনগতভাবে কারও রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি না থাকলেও, খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চার অভাব বা ওজন বেড়ে যাওয়া- সবই কোলেস্টেরল বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট। যে তেলে বেশি স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা ট্রান্স ফ্যাট থাকে, তা HDL কমিয়ে LDL বাড়িয়ে দেয়। তাই তেলের গুণগত মান বিচার না করে শুধু স্বাদ বা দাম দেখে তেল বেছে নেওয়া ঠিক নয়।
৩. রোগা হলে কোলেস্টেরলের ভয় নেই
চেহারা দেখে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বোঝা যায় না। রোগা হলেও উচ্চমাত্রায় LDL বা খারাপ কোলেস্টেরল থাকতে পারে। খাদ্যতালিকায় ভাল ফ্যাটের পরিমাণ বাড়ান। মাঝে মাঝে ডিপ ফ্রায়েড কিছু চলতে পারে, তবে তা যেন পরিমিত হয়। নিয়মিত চেকআপে থাকতেই হবে।
৪. তেল মানেই খারাপ
এটা একটা ভুল ধারণা। সব রান্নার তেল এক নয়। ওমেগা ৩ ও ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিড-সমৃদ্ধ তেল আমাদের শরীরের পক্ষে ভীষণ ভাল, কারণ শরীর নিজে থেকে এই ফ্যাট তৈরি করতে পারে না।
ভাল তেল কীভাবে চিনবেন?
এমন তেল বেছে নিন যেটা প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এ ও ডি-সমৃদ্ধ এবং MUFA ও PUFA এর সঠিক মিশ্রণে তৈরি।
রোজকার দিনে কিছু ছোট ছোট পরিবর্তন আনতে পারেন। সঠিক রান্নার তেল বেছে নিন। তাছাড়াও খাবারে পুষ্টির ভারসাম্য, মরশুমি ফল খাওয়া, নুন-চিনি কমানো, আর অবশ্যই শরীরচর্চা- এসব হার্টের জন্য ভীষণ উপকারী। ডাক্তারদের মতে, হার্ট সুস্থ রাখতে সচেতনতা যত তাড়াতাড়ি আসে, তত ভাল।
বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: এই সংক্রান্ত কোনও মতামত দ্য ওয়ালের নয়। দ্য ওয়াল স্বাস্থ্য / সাজগোজ সম্পর্কিত কোনও সম্পাদকীয় / সম্পাদক-নিয়ন্ত্রিত তথ্য, পরামর্শ প্রদান করে না। প্রদত্ত পরামর্শ ও তথ্য প্রয়োগের আগে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন। নিজের মতামতকে গুরুত্ব দিন।