
শেষ আপডেট: 26 December 2023 18:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কমবয়সেই ধূসর যৌবন। কারণ মাথাভরা ঢেউ খেলানো কুচকুচে কালো কেশরাশিতে পাক ধরছে। একমাথা কাঁচাপাকা চুল চেহারায় যতই ভারিক্কি ছাপ আনুক না কেন, নবীন মনের তাতে ডুকরে কেঁদে ওঠা ছাড়া গতি নেই। এখানে রবি ঠাকুরের ‘নবীন ও প্রবীণ’ কবিতাটা মনে পড়ে যায়—
“পাকা চুল মোর চেয়ে এত মান্য পায়/কাঁচা চুল সেই দুঃখে করে হায়-হায়/পাকা চুল বলে, মান সব লও বাছা/আমারে কেবল তুমি করে দাও কাঁচা।”
বয়সের চাকা বার্ধক্যের দিকে ছুটবেই। বুড়িয়ে যাওয়া প্রথম ধরা পড়বে চুলের পাকে আর গলার কুঁচকে যাওয়া চামড়ার ভাঁজে। কিন্তু আধুনিক জীবনের গতি এতটাই বেশি যে, বয়স না হলেও ‘বার্ধক্য’ আগাম কড়া নাড়ে। বছর তিরিশের যুবক-যুবতীর মাথার সিঁথির চারপাশে ধবধবে সাদা চুল উঁকি মারে। তারপর দাবানলের মতো মাথার সব কালো চুলকে পুড়িয়ে সবই ধূসর হয়ে যেতে থাকে ধীরে ধীরে।
অকালপক্কতা বা কম বয়সে চুল পেকে যাওয়ার সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। কম বয়সে চুল পেকে যাওয়াকে ডাক্তারি পরিভাষায় বলে, প্রিম্যাচিয়োর ক্যান্যাইটিস। আধুনিক লাইফস্টাইল, খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত নেশা করার অভ্যাস, কম শরীরচর্চা, চুলের যত্ন না নেওয়া—অকালপক্কতার কারণ অনেক। আবার বিশেষজ্ঞরা বলেন, কম বয়সে চুল পেকে যাওয়ার কারণ অনেকটাই জিনগত। সেই সঙ্গে আনুষঙ্গিক বদভ্যাসগুলো তো আছেই।
এখন জেনে নেওয়া যাক চুল ঠিক কী কী কারণে পাকে?
চুল পরিষ্কার করেন তো?
চুলের যত্ন নেন না বেশিরভাগই। এখন দূষণের প্রকোপ এতটাই যে রাস্তায় বেরোলেই ধুলোবালি, নানা রাসায়নিক কণা চুলে ঢুকবেই। ভাল করে শ্যাম্পু না করলেই মুশকিল। তাছাড়া সপ্তাহে অন্তত দুদিন হেয়ার প্যাক ব্যবহার করা উচিত। সেটা করার সময় পান না বেশিরভাগই। সেডেন্টারি লাইফস্টাইলের দৌড়োদৌড়িতে স্নানটা কাকস্নান হয়ে যাচ্ছে দিন দিন। আগে মা-ঠাকুমারা বলতেন তেলে-জলে তরতাজা থাকে চুল। এখন সেসবের পাঠ চুকেছে। গাদা গাদা রাসায়নিক দেওয়া হেয়ার কালার আর কন্ডিশনার ব্যবহার করতে গিয়ে চুলের বারোটা বাজছে।
বেশি সিগারেট-বিড়ি ফুঁকলেই সর্বনাশ
ধূমপানের ক্ষতি নিয়ে যত কম কথা বলা যায় ততই ভালো। সেক্ষেত্রে ধূমপান করলে চুলের গোড়ার রক্তনালি শুকিয়ে যেতে পারে। ফলে চুল শুকিয়ে যায়। খসখসে, রুক্ষ হতে শুরু করে। সেই সঙ্গেই চুলে পাক ধরতে থাকে।
ভাজাভুজি-গ্যাস-অম্বল
অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড খাওয়ার অভ্যাস থাকলে অকালপক্কতা হবেই। যাঁরা বেশি গ্যাস অম্বলের সমস্যায় ভোগেন, তাঁদেরও অকালে চুল পেকে যায়। এছাড়া লিভারের সমস্যা থাকলেও চুল পাকে। এখনকার শিশুরা জাঙ্ক ফুড খেতে অভ্যস্ত। অনেক সময়েই তাদের রোজকার ডায়েটে পর্যাপ্ত পরিমাণে সবুজ শাকপাতা থাকে না। যার ফলে শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের অভাব হয়।
টেনশন-স্ট্রেসে ধূসর হয় চুল
এখনকার সময়ে কমবেশি সকলেই স্ট্রেসে ভুগছেন। ঘরে-বাইরে টেনশন। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে শরীরে হরমোনের ভারসাম্যে গন্ডগোল হয়। তার থেকে চুল পাকে। শরীরে আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, প্যান্টোথেনিক অ্যাসিডের অভাব হতে পারে। যার থেকে চুলে অকালপক্বতা দেখা যেতে পারে।
আবার দেখা যায় চুল পাকার ক্ষেত্রে শতকরা ৯৫ ভাগ ক্ষেত্রে সমস্যা জিনগত। বাবা-মায়ের কোনও একজন বা দু’জনেরই যদি অল্প বয়সে চুল পেকে থাকে, সন্তানদের ক্ষেত্রে সেই সম্ভাবনা থাকবেই।