.jpeg)
নিজস্ব চিত্র
শেষ আপডেট: 27 November 2024 17:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশে ক্রমশ বাড়ছে টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা। মহামারীর আকার নিতে চলেছে খুব শীঘ্রই। 'সাইলেন্ট এপিডেমিক' বলছেন চিকিৎসকরা। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের গবেষণা বলছে, টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা এভাবে লাফিয়ে বাড়ার কারণ খাবার। এমন কিছু খাবার যা চুপিসারে শরীরে বারোটা বাজাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে আমাদেরই রান্না ঘরে থাকা একাধিক খাবার।
ডায়াবেটিস খুব মিষ্টি খেলে হয় বা টেনশন করলে, এমন কথা প্রচলিত আছে সকলের মধ্যে। কিন্তু পুরোটা ঠিক নয়। ডায়াবেটিসের পিছনে আরও অনেক কারণ থাকতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, রেডি টু ইট খাবার দাবার, আল্ট্রা প্রসেসড খাবার থেকে টাইপ ২ ডায়াবেটিস হয়। এবং আক্রান্তের সংখ্যা এদেশে মারাত্মক হারে রয়েছে।
কী এই আল্ট্রা প্রসেসড ফুড?
কোনও খাবার যখন একাধিক প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে তৈরি হয়, তখন সেই খাবারকে আল্ট্রা প্রসেসড ফুড বলা হয়। এই সব খাবারে মূলত চিনি, নুন, ফুড কালার, ফ্লেভার, ট্রান্স ফ্যাট, প্রিসারভেটিভস ইত্যাদি থাকে। এতে খাবারের পুষ্টিগুণ বিন্দুমাত্র পাওয়া যায় না, উল্টে ক্ষতি হয়।
চিপস, যেকোনও প্যাকেটজাত স্ন্যাকস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, স্যুপ, যেকোনও এনার্জি ড্রিঙ্ক, সফট ড্রিঙ্ক, বেকারির জিনিসপত্র যেমন- কুকিস, কেক, বিস্কুট। এছাড়াও সসেজ, নাগেটস, ফ্রজেন প্যাটি আল্ট্রা প্রসেসড ফুড।
অনেকদিন পর্যন্ত ভাল রাখতে এই সব খাবারে সাধারণত প্রিসারভেটিভস দেওয়া হয়। যার ফলে এই খাবার আদতে শরীরের জন্য বিষাক্ত।
কীভাবে এই সব খাবারের হাত ধরে ডায়াবেটিসের মতো রোগ শরীরে প্রবেশ করে?
আইসিএমআর-এর গবেষণা বলছে, এই ধরনের খাবার ওজন বাড়ায়, ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণে সমস্যা করে, ইনফ্ল্যামেশন তৈরি করে শরীরে। অতঃপর ব্যক্তি টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন।
১. ইনসুলিন রেসিসটেন্স
আল্ট্রা প্রসেসড খাবার দাবারে রিফাইনড কার্বোহাইট্রেড থাকে প্রচুর পরিমাণে। থাকে চিনিও। যা সুগার লেভেল বাড়িয়ে দেয়। একটা সময়ের পর শরীরে ইনসুলিন তৈরি হওয়া কমে যায় এবং রক্তে গ্লুকোসের মাত্রা বেড়ে যায়।
২. ক্রনিক ইনফ্ল্যামেশন
এই সব খাবারের অনেকগুলোতেই অ্যাডভান্স গ্লাইকেশন এন্ড প্রোডাক্ট নামে এক উপকরণ থাকে। ফ্যাট বা প্রোটিনের সঙ্গে চিনির মিশ্রণে এটা শরীরে ইনফ্ল্যামেশন তৈরি করে। যা ইনসুলিন তৈরিতে বাধা দেয় ও মেটিবলিসম কমে যায়।
৩. ওজন বাড়ে, স্থূলতা বৃদ্ধি পায়
এই খাবারে প্রচুর পরিমাণ ক্যালোরি থাকে। যা ওজন বাড়ায় ও স্থূলতা বাড়ায়। এর ফলে আরও খাবার প্রবণতা বাড়ে এবং শরীরে একাধিক রোগ ডেকে আনে।
৪. ভাল খাবার নিমেষেই নষ্ট করে
এই ধরনের খাবারে যা উপাদান থাকে, তার কোনও পুষ্টিগুণই প্রক্রিয়ার শেষ পর্যন্ত থাকে না। যার ফলে এই খাবার আদতে শরীরে কোনও পুষ্টি জোগায় না। বদলে অবশ্যই সবসময় ফল,সবজি সরাসরি খাওয়া উচিত।
কীভাবে ডায়াবেটিসের হাত থেকে বাঁচা যেতে পারে?
১. কার্ব ও চিনির পরিমাণ ডায়েটে কম রাখতে হবে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদায় জানাতে হবে প্যাকেটজাত খাবারকে। বদলে ভাত, কিনোয়া, ডালিয়া, ওটস জাতীয় খাবার বেছে নিচে হবে।
২. ফল-সবজি বেশি খেতে হবে
বাইরের খাবারের সঙ্গে আড়ি করে বাড়িতে তৈরি খাবার খেতে হবে। ফল, সবজি, ডাল, ফাইবার আছে এমন খাবার বেশি করে খেতে হবে।
৩. ব্যায়াম-যোগ অভ্যাসে মন দিতে হবে
দিনে অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা বা হাঁটা উচিত। এতে ইনসুলিন তৈরি হবে শরীরে। ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমবে।
ডায়াবেটিস যদি ইতিমধ্যেই হয়ে যায় বা বাড়িতে কারও থাকে, শরীরে সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।