
শেষ আপডেট: 2 October 2023 13:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক, অথচ একেবারে টাটকা রসায়ন! তাও আবার হয় না কি? শুরুতে যত নতুনের মোড়ক থাকে, পরে গিয়ে টুকটাক তর্ক-বিতর্ক, মতান্তর, ঝগড়া পেরতে পেরতে সম্পর্কের রসায়নে আর সেই চাকচিক্য থাকে না বলেই বেশির ভাগ মানুষ মনে করেন। দু’জন মানুষের নিজস্ব মত, চিন্তা-ভাবনা, জীবনযাপনের পন্থাই সম্পর্কে দূরত্ব নিয়ে আসে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিজস্ব কিছু অভ্যাস, ভাবনা এবং তার বহিঃপ্রকাশই প্রেম ভেঙে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। বহু বাঁক পেরনো পুরনো সম্পর্কও কিছু ভুল চিন্তাভাবনার কারণে ভেঙে যেতে পারে। অনেক সময়েই আমরা বুঝতে পারিনা ঠিক কী কারণে সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে, টানটান সম্পর্ককেও নষ্ট করছে একরাশ তিক্ততা। মনোবিদরা বলছেন, ঠিক কী কী কারণ ও অভ্যাসের জন্য প্রেম ভেঙে যেতে পারে।
১) কেউই পারফেক্ট নয়, বদলানোর চেষ্টা করবেন না
প্রত্যেক মানুষেরই আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি, ভাবনা ও জীবনদর্শন আছে। কাজেই তাকে নিজের সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে ভুল হবে। জোর করে কাউকে বদলানোর চেষ্টা করা অথবা তাকে একদম পারফেক্ট বানানোর চেষ্টা করা চূড়ান্তরকম ভুল কাজ। প্রেমের সম্পর্কে এটাই ফিরে আসে বারে বারে। সঙ্গীকে নিজেদের মতো করে বদলানোর চেষ্টা করি আমরা, ফলে কম সময়েই সম্পর্কে বিরক্তি ও তিক্ততা চলে আসে। সঙ্গীকে সবসময়ে বিচার করার চেষ্টা করবেন না। এই অভ্যাসও সম্পর্ক ভাঙার জন্য যথেষ্ট।
২) মনের আকাশে এক পশলা সন্দেহ
আকর্ষণ হারানোর ভয়, পুরনো হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাই জন্ম দেয় সম্পর্কের মধ্যে বিঁধে থাকা সন্দেহ নামে বিষ-কাঁটার। পরবর্তী কালে যার বিষবৃক্ষ হওয়ার ভয় প্রবল। যুগটাই নেটিজেনদের। মুঠোয় মোবাইল আর তাতে রংচঙে পৃথিবীর ডাক। প্রতিদিন হাজারটা প্রলোভন দেখায় সোশ্যাল মিডিয়া। আর সেখানেই ঘাপটি মেরে থাকে যত ভুল আর সন্দেহ।
হঠাৎ করেই সঙ্গীর হয়তো বেড়ে গিয়েছে ফোন নিয়ে ব্যস্ততা। জটিল হচ্ছে লক-প্যাটার্ন। ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়ার পিছনেই হয়তো বেশির ভাগ সময় ব্যয় করছেন তিনি। সঙ্গীকে গোপন করে চলছে কথা কিংবা মেসেজ চালাচালিও। এইসব দেখেই সন্দেহপ্রবণতা বাড়ে। পরিসংখ্যান বলছে, ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের সন্দেহপ্রবণতা বেশি। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সন্দেহ প্রবণতার জন্ম অধিকারবোধ থেকে। মনোবিদরা মনে করছেন, অতিরিক্ত অধিকারবোধ বা পজেসিভনেসও আসলে সন্দেহপ্রবণতারই প্রথম ধাপ।
৩) ..কত আলোকবর্ষ দূরে..তুই আর আমি যাই ক্রমে সরে সরে
এখনকার সময়ে এটাই সবচেয়ে বড় সমস্যা। কথোপকথন আর তেমন হয় কোথায়। ভার্চুয়াল দুনিয়ায় সকলেই এত ব্যস্ত যে, ফুরফুরে প্রেমের কথা বলার সময় নেই। নিজের ভাবনা, মতামতের প্রকাশ না হলে দূরত্ব বাড়বেই। সম্পর্কে অনেক ভুল বোঝাবুঝির সমাধান করতে পারে এই পারস্পরিক কথোপকথনই। কিন্তু এখন কথার চেয়ে মেসেজ চালাচালিতেই আটকে থাকছে প্রেম। রাগ, দুঃখ, অভিমান, ভালবাসার সুর আর কানে বাজছে না। কাজেই প্রেম যেন শত সহস্র আলোকবর্ষ দূরে সরে যাচ্ছে।
৪) অতিরিক্ত অধিকারবোধ
অতিরিক্ত অধিকারবোধ অস্বাস্থ্যকর সম্পর্কের অন্যতম লক্ষণ। সঙ্গীর সব ব্যাপারে নিজের মালিকানা ফলানো বা তার ইচ্ছে-অনিচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা আখেরে লাভের থেকে ক্ষতিই বেশি করে।
একাত্মতাবোধ আর অধিকারবোধ এক নয়। প্রথমটি জোর করে তৈরি হয় না। আর হলে জাহির করতে হয় না। মনে রাখবেন প্রত্যেক সম্পর্ক আলাদা, আলাদা তার সমীকরণও। কিন্তু কিছু বিষয় সব ধরনের সম্পর্কের জন্যেই সত্যি। সমস্যা তৈরি হলে ভালবাসার দোহাই দিয়ে এড়িয়ে না গিয়ে সমাধানের উপায় খোঁজাই শ্রেয়।
৫) শারীরিক সম্পর্কে আর আগ্রহী নয় সঙ্গী?
সম্পর্ক গড়তে যতটা সময় লাগে, তার চেয়ে অনেক বেশি যত্ন নিতে হয় সেই সম্পর্ককে সুন্দর করে তুলতে আর বাঁচিয়ে রাখতে। সম্পর্ক যখন অভ্যাসে পরিণত হয়, তখন অনেক সময়ই তা একঘেয়ে হয়ে ওঠে। আর এই একঘেয়েমি থেকেই দূরত্ব বাড়তে থাকে সম্পর্কে। শুধুমাত্র শারীরিক সম্পর্কই সুস্থ প্রেম টিকিয়ে রাখার চাবিকাঠি নয়। অনেকেই ভাবেন সঙ্গী শারীরিক সম্পর্কে আগ্রহ হারাচ্ছে মানে সে অন্যের প্রতি আসক্ত। তখনই কমে যায় কমিউনিকেশন, পরস্পরকে জানা-বোঝার পালাতেও ইতি পড়ে যায়। ফলে সম্পর্কে দূরত্ব বাড়তে থাকে। মনোবিদরা বলছেন, সেক্ষেত্রে কমিউনিকেশন জরুরি। পরস্পরের সঙ্গে কথা বলাই সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ।
৬) ‘আমি তোমার সঙ্গে বেঁধেছি আমার প্রাণ…’
দুই মন যদি বাঁধাই পড়ে তাহলে একে অপরকে বিশ্বাস, ভরসা, পারস্পরিক সম্মান দেওয়াও জরুরি। এই তালিকায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হল স্বচ্ছতা। সঙ্গীকে মন খুলে সব বলতে পারছেন মানেই ধরে নেওয়া যেতে পারে সম্পর্কের ভিত শক্ত হচ্ছে ধীরে ধীরে। সম্পর্ক যদি খোলা পাতার মতো হয়, তার চেয়ে ভাল আর কিছু হয় না। সঙ্গীকে উজাড় করে দেওয়ার মধ্যে ইতিবাচক দিক আছে। কিন্তু যদি সঙ্গীকে গুরুত্ব দেওয়া কমে যায়, তাহলে সেখান থেকেই ভুল বোঝাবুঝি, সন্দেহপ্রবণতা বাড়ে। তিক্ত হয়ে ওঠে প্রেম।
৭) গোপন অভ্যাস
এমন অনেক কিছু থাকে, যা একান্ত প্রিয় মানুষটিকে বলতেও অস্বস্তি হয়। আপনার যদি মনে হয়, যে অভ্যাসটিতে আপনি স্বচ্ছন্দ হলেও প্রকাশ্যে বলতে অস্বস্তি হচ্ছে, তা হলে না বলাই ভাল। জীবনসঙ্গী মানেই সব বলতে হবে, তার কোনও মানে নেই। কিছু কথা নিজের মনে চেপে রাখা দোষের নয়।