
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 3 January 2025 18:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যখন নিয়ম মেনে খাওয়া-দাওয়া এবং শরীরচর্চা করেও ওজন বাড়তে শুরু করে, তখন আমাদের মনে নানা প্রশ্ন উঠে আসে। প্রথমে অনেকেই ভাবেন, হয়তো ডায়েটে কিছু ভুল হচ্ছে। কারণ, শরীর যদি প্রয়োজনীয় পুষ্টি না পায়, তাহলে ওজন বাড়াটা স্বাভাবিক। খাবার আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই, শুধুমাত্র ডায়েটই যথেষ্ট নয়, শরীরচর্চাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হঠাৎ করে ওজন বাড়া নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন সাধারণত মেয়েরা। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি বছর গড়ে ০.৫ থেকে ১ কেজি ওজন বেড়ে যায়।
এই অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যাওয়ার ফলে অনেক সমস্যা তৈরি করতে পারে। তবে কিছু সহজ পদ্ধতি অনুসরণ করে এ সমস্যা রোধ করা সম্ভব। তবে তাঁর আগে জেনে নেওয়া প্রয়োজন, কেন হঠাৎ করে ওজন বেড়ে যায়?
কেন ওজন বাড়ে?
শারীরিক কার্যকলাপ কমে যায়। অর্থাৎ কর্মব্যস্ততা ও পরিবারের চাপের কারণে কম চলাফেরা করা। ফলে শরীরে মেদ জমতে থাকে। ক্যালোরি কম খরচ হওয়ার ফলে ওজন বাড়তে থাকে।
খাদ্যাভ্যাসের অবনতিও আরও একটি প্রধাণ কারণ। দ্রুত খাবার ও প্রক্রিয়াজাত খাবারে নির্ভরতা বাড়ে, যা ওজন বাড়ায়। কাজের চাপ ও স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে ঘুম কম হয়, যা খিদে বাড়ায়।
বেশি চাপের কারণে শরীরে হরমোনের পরিবর্তন ঘটে, যার ফলে ফ্যাট জমতে শুরু করে। বয়স বাড়লে বিপাক কমে যায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়, ফলে কম ক্যালরি পোড়ায়।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা কেন জরুরি?
ওজন বাড়লে শরীরের নিজস্ব ওজনের ‘সেট পয়েন্ট’ পরিবর্তিত হয়। অর্থাৎ যে ওজনটা থাকা উচিত, সেটার থেকে বেশি ওজন হয়ে গেলে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। আর তা আবার কমানো খুব কঠিন হয়ে পড়ে। অনেকদিন ধরে অবহেলা করতে থাকলে স্থূলতা, হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস, এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার ৭টি সহজ পদ্ধতি:
১. সকালের খাবারে জোর দিন: সকালের খাবার সবচেয়ে বড় রাখুন এবং রাতের খাবার সবচেয়ে ছোট। সকালে খাবার হজম ২.৫ গুণ বেশি কার্যকর হয়।
২. ধীরে ধীরে খান: খাওয়ার সময় ধীরে ধীরে চিবিয়ে খান। দাঁড়িয়ে খাওয়ার অভ্যাস থাকলে, তা ত্যাগ করতে হবে।
৩. সবজি ও ফল খান: খাদ্যতালিকায় বেশি করে উচ্চ-ফাইবারযুক্ত সবজি ও ফল রাখুন।
৪. ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলুন: প্যাকেজড ফুড বা ফাস্ট ফুডের পরিবর্তে ফল, বাদাম এবং মধু খান।
৫. শারীরিক কার্যকলাপ করুন: লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করুন বা নতুন কোনও ব্যায়াম শুরু করুন। যা শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
৬. পর্যাপ্ত ঘুমোতে হবে: প্রতিদিন কমপক্ষে ৭ ঘণ্টা ঘুমানোর অভ্যাস করুন এবং শোবার সময় মোবাইল স্ক্রিনে বুঁদ হওয়া বন্ধ করুন।
৭. ওজন নিয়মিত মাপতে হবে: প্রতি সপ্তাহে একই সময়ে ওজন মাপুন।