
প্রতীকী ছবি: শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 23 January 2025 16:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিএমআরআই কলকাতা সম্প্রতি এক জটিল চিকিৎসায় সাফল্য দেখিয়েছে। গর্ভাবস্থায় মেরুদণ্ড যক্ষ্মায় (স্পাইনাল টিবি) আক্রান্ত এক মহিলার সফল অস্ত্রোপচার করে তাঁরা চিকিৎসার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ২৫ বছর বয়সী ওই মহিলা, যিনি তখন দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ছিলেন, কোমর থেকে নিচের অংশ ক্রমশ অবস হয়ে যাচ্ছিল। তারপর ধীরে ধীরে তিনি চলাফেরা এবং মূত্রথলি ও মলাশয়ের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। অবস্থা এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, তিনি শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন এবং পিঠে প্রচণ্ড যন্ত্রণা হতে শুরু করে।
এমআরআই পরীক্ষায় দেখা যায়, তার মেরুদণ্ডের ৫ম ও ৬ষ্ঠ কশেরুকা ধসে গিয়ে মেরুদণ্ডের স্নায়ুতে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে। এই অবস্থায় তাঁর পক্ষাঘাত (প্যারালাইসিস) হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।
গর্ভাবস্থায় এমন জটিল অস্ত্রোপচার করতে হলে অনেক বিষয়ে সতর্ক থাকতে হয়। রক্তক্ষরণ কমানো, এক্স-রে এড়িয়ে যাওয়া, এবং ব্যথা নিয়ন্ত্রণ—সবকিছুই খুব সাবধানে করতে হয়। সিএমআরআই-এর নিউরোসার্জন ডা. রথিজিৎ মিত্র ও তার দল অত্যন্ত যত্নসহকারে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। রোগীকে পাশে শুইয়ে, তার ডান দিক দিয়ে ফুসফুস সরিয়ে মেরুদণ্ডে পৌঁছানো হয়।
রক্তক্ষরণ কমাতে বিশেষ ‘বোন স্ক্যালপেল’ ব্যবহার করা হয়, যা হাড় কাটতে আলট্রাসাউন্ড প্রযুক্তি ব্যবহার করে। ক্ষতিগ্রস্ত কশেরুকা সরিয়ে সেখানে একটি ইমপ্ল্যান্ট বসানো হয় এবং তা স্ক্রু দিয়ে স্থির করা হয়। অস্ত্রোপচারের সময় এবং পরে গর্ভস্থ শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করতে অবস্টেট্রিক্স দল বারবার তার অবস্থার খোঁজ নেয়।
অস্ত্রোপচারের কয়েক দিনের মধ্যেই রোগীর অবস্থা ঠিক হতে শুরু করে। ধীরে ধীরে তার মূত্রথলি ও মলাশয়ের নিয়ন্ত্রণ ফিরে আসে, দুই পায়ের অনুভূতিও স্বাভাবিক হয়। পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়, রোগী মেরুদণ্ড যক্ষ্মায় আক্রান্ত ছিলেন এবং তাঁকে অ্যান্টি-টিবি ওষুধ দেওয়া হয়। বর্তমানে ওই মহিলা স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারছেন এবং তার গর্ভস্থ শিশুও পুরোপুরি সুস্থ।