
শেষ আপডেট: 2 November 2023 18:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের শহরগুলির মধ্যে নয়, বৈশ্বিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, সবচেয়ে দূষিত বায়ু কলকাতা ও দিল্লি এই দুই শহরেই। বায়ুদূষণ যে-হেতু চোখে দেখা যায় না, ফলে তার ক্ষতির পরিমাণটি বোঝা কঠিন। অ্যারিজোনার ব্যারো নিউরোলজিক্যাল ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বজুড়েই স্নায়ুর রোগ সাঙ্ঘাতিকভাবে বাড়ছে। বাতাসে ভাসমান দূষিত অ্যারোসল কণা শ্বাসের সঙ্গে শরীরে ঢুকে ব্রেনে প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন ঘটাচ্ছে। ক্ষতি হচ্ছে নার্ভের।
স্নায়ুর রোগ বাড়ছে বিশ্বজুড়েই। গত ৩০ বছরে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর রোগ অনেক বেড়েছে। গবেষণা বলছে, এর অন্যতম কারণ বায়ুদূষণ। পার্কিনসন্স এক ধরনের স্নায়ুর অসুখ। প্রাথমিক ভাবে ওষুধের মাধ্যমে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সাধারণত এই রোগ থেকে পুরোপুরি সুস্থ হওয়া সম্ভব নয়। ধীরে ধীরে হাত-পায়ে অনিচ্ছাকৃত কম্পন দেখা দেওয়া, হাঁটাচলা শ্লথ হয়ে যাওয়া, পেশি ক্রমশ শক্ত হয়ে আসা, কথা বলার সময় কথা জড়িয়ে যাওয়া, এসবই হল পার্কিনসন্সের উপসর্গ।
পার্কিনসন্স নড়াচড়া করার ক্ষমতাও কেড়ে নিতে পারে। পার্কিনসন্সে আক্রান্ত হলে হাঁটার সময় শরীর সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এই রোগের শুরুর দিকে শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যেতে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের দু’দিকই অবশ হয়ে যায়।
অ্যারিজোনা ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা বলছেন, শুধু ভাসমান ধূলিকণা (পিএম১০) ও অতিসূক্ষ্ম ধূলিকণাই (পিএম ২.৫) নয়, যানবাহনের সংখ্যা বাড়ায় বাতাসে নাইট্রোজেন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রাও বিপজ্জনক হারে বাড়ছে। বায়ুমণ্ডলে ওই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা (পিএম)-গুলি খুব সহজে মিশে যেতে পারে। কিন্তু যদি পিএম কণাগুলির ব্যাস বেশি হয় তাহলে বায়ুমণ্ডলে মিশে যেতে সময় লাগে বেশি। বিদ্যুৎকেন্দ্র, গাড়ি, ট্রাক, অগ্নিকাণ্ড, ফসল পোড়ানো ও কারখানার চিমনি থেকে এই দূষণ-কণাগুলি বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। পরে বাতাসের ধূলিকণাকে আশ্রয় করে বিষ-বাস্প তৈরি করে। এই বিষাক্ত বাতাস ক্রমাগত শরীরে ঢুকতে থাকলে তা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করে। দুর্বল হয়ে যেতে থাকে নার্ভ। মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন ধীরে ধীরে ব্যাহত হতে থাকে। ফলে নানা দুরারোগ্য স্নায়ুর রোগ বাসা বাঁধে শরীরে।
শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা থেকে ক্যানসার, হার্টের রোগ, বহু প্রাণঘাতী অসুস্থতার জন্য বায়ুদূষণ প্রত্যক্ষ ভাবে দায়ী। নতুন গবেষণা বলছে, বায়ু দূষণের কারণে মানসিক ব্যধিও বাড়ছে। অবসাদ, ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিনাশ, অ্যালঝাইমার্সের মতো রোগের বাড়াবাড়ির পেছনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বায়ু দূষণই দায়ী। বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা, গ্রিন হাউস গ্যাস মিলে যে বিষ-বাষ্প তৈরি করছে, তার প্রভাব মারাত্মকই নয় রীতিমতো প্রাণঘাতী।