
সিজন চেঞ্জে ভোগাচ্ছে স্টমাক ফ্লু।
শেষ আপডেট: 12 May 2024 13:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কখনও ঝেঁপে বৃষ্টি, আবার কখনও গরম। এই সিজন চেঞ্জের সময় যত চিন্তা। আজ জ্বর তো কাল পেটে ব্যথা। নানানটা রোগ। সর্দি-কাশি তেমন নেই। গা-হাত পায়ে ব্যথাও নেই। তাও জ্বর আসছে মাঝে মাঝে। সেই সঙ্গে পেটে অসহ্য যন্ত্রণা। ক্লান্তি, বমিভাব, খিদে নেই। বাচ্চাদের আবার যখন তখন ডায়রিয়া হয়ে যাচ্ছে। কিছু খেলেই বমি। শরীরের তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। ডাক্তারবাবুরা বলছেন, নিছকই পেট গরম থেকে জ্বর নয়। ভাইরাল ইনফেকশন হয়ে থাকতে পারে অন্ত্রে। সংক্রমণ থেকেই ঘন ঘন জ্বর এবং পেটে ব্যথা। ডাক্তারি ভাষায় একে বলে ‘স্টমাক ফ্লু’
অন্ত্র বা ইন্টেসটাইনে ভাইরাসের সংক্রমণ হলে তাকে ভাইরাল গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস (gastroenteritis)বলা হয়। সহজ কথায়, পেটের ভেতর ভাইরাসের সংক্রমণ। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস বলে অনেকে গুলিয়ে ফেলেন, আসলে তা নয়। আমাদের খাদ্যনালীতে অনেক বন্ধু ব্যাকটেরিয়া থাকে যারা খাবারের বিপাকে সাহায্য করে। কিন্তু বাইরে থেকে কোনও সংক্রামক ভাইরাস বা প্যাথোজেন সেখানে ঢুকে পড়লে তীব্র প্রদাহ শুরু হয়। খাবার ঠিকমতো হজম হয় না, পেটে যন্ত্রণা শুরু হয়। পেট খারাপ, বমি এবং তা থেকেই জ্বর চলে আসে।
স্টমাক ফ্লু হলে তার প্রাথমিক লক্ষণ হবে পেটে ক্রমাগত ব্যথা। পরবর্তী লক্ষণ ডায়রিয়া। বমিভাব থাকবে। পেট খারাপ সহজে সারতে চাইবে না। সেই সঙ্গে ঘন ঘন জ্বর আসবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক এক সময় মনে হবে পেটে ব্যথা কামড়ে ধরছে। তীব্র প্রদাহ হবে। পেশির ব্যথাও শুরু হতে পারে। বয়স্ক বা ছোটদের জ্বর, খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। সেই সঙ্গে অসহ্য মাথা যন্ত্রণা।
ডিহাইড্রেশন বা জল শূন্যতাও স্টমাক ফ্লুয়ের বড় উপসর্গ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেটে সংক্রমণ হলে শরীরে জলের পরিমাণ কমতে থাকবে। বারে বারেই গলা শুকিয়ে যাবে। প্রস্রাব কম হবে। চোখ, নাক, মুখের চামড়া শুকিয়ে টানতে থাকবে। প্রচণ্ড ক্লান্ত লাগবে, অল্পেই ঝিমুনি আসবে।
চিকিৎসা কী?
রোগের উপসর্গ দেখলেই মলের নমুনা পরীক্ষা করাতে হবে। এলাইজা বা পিসিআর পরীক্ষার মাধ্যমে এই ভাইরাস চিহ্নিত করা যায়। সাধারণ কোনও অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই এই রোগের। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য স্যালাইন ওয়াটার বা ওআরএস দেওয়া হয়।
পেটের সংক্রমণের জন্য রোটাভাইরাস অনেকক্ষেত্রেই দায়ী। একে ঠেকাতে টিকাই একমাত্র উপায়। শিশুর দেড় মাস, আড়াই মাস ও সাড়ে তিন মাস বয়সে অন্যান্য টিকার সঙ্গে রোটাভাইরাসের টিকাও দিতে হবে।
রাস্তার খাবার একেবারেই নয়। বিশেষ করে রাস্তায় বিক্রি হওয়া আইসক্রিম, বরফের গোলা ইত্যাদি না খাওয়াই ভাল।
রাস্তায় বিক্রি হওয়া কাটা ফল, বা দীর্ঘসময় ফেলে রাখা স্যালাড খাওয়া চলবে না। ফল খাওয়ালে ভাল করে ধুয়ে তবেই বাচ্চাদের দিন।