ইউনিভার্সিটি অফ কলোরাডো বোল্ডারের গবেষকরা সম্প্রতি অজগরের রক্তে এমন এক উপাদানের হদিশ পেয়েছেন, যা মানুষের স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় মহৌষধ হয়ে উঠতে পারে। গত ১৯ মার্চ 'ন্যাচারাল মেটাবলিজম' (Natural Metabolism) জার্নালে এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে।

সাপের রক্তে লুকিয়ে ওজন কমানোর মহৌষধি
শেষ আপডেট: 27 March 2026 11:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আস্ত একটা হরিণ গিলে সাবাড় করে দিতে পারে সে। তারপর মাসের পর মাস না খেয়েও দিব্যি চনমনে থাকে শরীর। না কমে পেশির জোর, না বিগড়োয় হার্ট। এমকী চেহারাও টানটান। মেদের লেসমাত্র নেই। এরা পৃথিবীর দীর্ঘতম সাপেদের একটি। এরা বার্মিজ় পাইথন (Burmese Python)। বলা ভাল অজগর সাপ। অজগর সাপের এই অদ্ভুত 'সুপারপাওয়ার' দেখেই তাজ্জব হয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। আর সেই রহস্যের জাল কাটতেই বেরিয়ে এল এক আশ্চর্য তথ্য— অজগরের রক্তেই নাকি লুকিয়ে আছে ওজন কমানোর মোক্ষম ওষুধ!
ইউনিভার্সিটি অফ কলোরাডো বোল্ডারের গবেষকরা সম্প্রতি অজগরের রক্তে এমন এক উপাদানের হদিশ পেয়েছেন, যা মানুষের স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় মহৌষধ হয়ে উঠতে পারে। গত ১৯ মার্চ 'ন্যাচারাল মেটাবলিজম' (Natural Metabolism) জার্নালে এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে।
অজগরের সেই 'ম্যাজিক' রক্ত! কমায় স্থূলতা
বর্তমানে স্থূলতা শিশু থেকে বয়স্ক সকলেরই সমস্যা। ওজন যে হারে বাড়ছে, তাতে জীবনধারার সঙ্গে সম্পর্কিত নানা রোগ, যেমন ডায়াবিটিস, ওবেসিটি, লিভারের অসুখ, পিসিওএস ইত্যাদি বেড়ে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে বাজারে ওজন কমানো ওষুধ নিয়ে বেশ হৈচৈ ও শোনা যায়। স্থূলতা কমানো ওষুধ নিয়ে নানা গবেষণা চলছে। তার মধ্যে এটি অন্যতম।
অধ্যাপক লেসলি লেইনওয়ান্ড দীর্ঘ ২০ বছর ধরে অজগর নিয়ে গবেষণা করছেন। স্ট্যানফোর্ড ও বেলর ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীদের সঙ্গে যৌথভাবে করা এই নতুন গবেষণায় দেখা গেছে:
কেন এটি ওজেম্পিকের (Ozempic) চেয়েও আলাদা?
বর্তমানে ওজন কমানোর জন্য 'ওজেম্পিক' বা 'ওয়েগোভি'-র মতো যে ওষুধগুলো (GLP-1 drugs) জনপ্রিয়, সেগুলির কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। অনেকেরই বমিভাব হয় বা শরীর থেকে পেশি (Muscle loss) কমে যায়। কিন্তু অজগরের রক্ত থেকে পাওয়া এই যৌগে:
১) কোনও বমিভাব বা পেটের সমস্যা দেখা দেয়নি।
২) শরীরের পেশি বা মাসল লস হওয়ার ভয় নেই।
৩) শক্তির মাত্রাও কমছে না।
প্রকৃতি থেকেই আসছে সমাধান
অধ্যাপক লেইনওয়ান্ড জানাচ্ছেন, বর্তমানে বাজারে থাকা ওষুধগুলোও কিন্তু তৈরি হয়েছিল 'গিলা মনস্টার' নামের এক বিষাক্ত টিকটিকির বিষ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে। এবার পালা অজগরের। গবেষকরা ইতিমধ্যেই 'আরকানা থেরাপিউটিকস' (Arkana Therapeutics) নামে একটি সংস্থা গড়ে তুলেছেন। তাঁদের লক্ষ্য হল, অজগরের এই প্রাকৃতিক যৌগকে কৃত্রিমভাবে তৈরি করে মানুষের ব্যবহারের উপযোগী ট্যাবলেট বা ওষুধ হিসেবে বাজারে আনা। তবে সরাসরি মানবদেবে এই ওষুধের প্রয়োগে কী প্রতিক্রিয়া হবে তা এখনও পরীক্ষা করেন নি গবেষকরা।
শুধু ওজন কমানো নয়, বার্ধক্যের কারণে যাদের পেশি শুকিয়ে যায় (Sarcopenia), তাদের জন্যও এই গবেষণা নতুন দিশা দেখাবে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, অজগরের রক্তে আরও অনেক মেটাবোলাইট আছে যা ৫০০ থেকে ৮০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সেগুলোর কাজ নিয়ে ও মানবশরীরে কার্যকারিতা নিয়েও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক। এটি কোনও চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য নানা মিডিয়ায় প্রকাশিত বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে লেখা, যা আলাদা করে দ্য ওয়ালের তরফে যাচাই করা হয়নি।
Note: This report is intended for informational purposes only and is not a substitute for medical advice. It is based on statements published across social media and various other media platforms, which have not been independently verified by The Wall.