
শেষ আপডেট: 25 November 2023 16:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোলন, স্তন ক্যানসারের মতো প্রস্টেট ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়ে চলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব মানলে ফুসফুসের ক্যানসারের পরেই ভারতীয় পুরুষরা সবচেয়ে বেশি প্রস্টেটের ক্যানসারে আক্রান্ত হন। দেখা গেছে, শহরে থাকেন যাঁরা, সেই পুরুষদের মধ্যে প্রস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি। এমনিতে এই ক্যানসার প্রাথমিক স্তরে ধরা পড়লে মৃত্যু ভয় একেবারেই থাকে না। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রাথমিক পর্যায়ে প্রস্টেট ক্যানসারের লক্ষণগুলি চিনতে পারা যায় না, তখন রোগ বড় আকার নেয়।
প্রস্টেট ক্যানসার কী?
পুরুষদের মূত্রথলির নীচে প্রস্টেট গ্ল্যান্ড রয়েছে। ওই গ্ল্যান্ড থেকে হরমোন বের হয়। হরমোনের সমস্যার জন্য মূত্রনালিতে সমস্যা শুরু হয়। সেখান থেকে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ওই অঞ্চলের কোষগুলির অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি থাকে।
এই ধরনের ক্যানসার পুরুষদের শরীরে নীরবে বাসা বেঁধে থাকে। সাধারণত আগে থেকে এর লক্ষণগুলি বোঝা যায় না। ৫০ পার হওয়া পুরুষদের মধ্যে প্রস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি থাকে। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাবারখাওয়া, শরীরচর্চা না করার অভ্যাস প্রস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
দেখা গেছে, শহরাঞ্চলে জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রবণতা বেশি। এখানে ছেলেরা বেশি সিগারেট ও মদ্যপানে আসক্ত। সেই সঙ্গে রেস্তোরাঁর খাবার, ঝাল তেলমশলা দেওয়া খাবার খাওয়ায় বেশি অভ্যস্ত। জীবনযাপনও অনিয়ন্ত্রিত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রাত জাগা, রাত জেগে টিভি দেখা বা ল্যাপটপে কাজ করা, পার্টি করা ইত্যাদি সেডেন্টারি লাইফস্টাইলের জন্যই এই ধরনের মারণ রোগ বেড়ে চলেছে।
লক্ষণ কী কী?
প্রস্রাবের পথে বাধা তৈরি হবে। পরে ওখানে টিউমার হতে পারে, তখন প্রস্রাব একদম বন্ধ হয়ে যাবে।
প্রস্টেট গ্ল্যান্ড ফুলে বড় হয়ে যাবে।
প্রস্টেট ক্যানসার ক্রমশই ছড়িয়ে পড়তে থাকবে। ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি হয়ে মেরুদণ্ডে এর প্রভাব পড়তে পারে। ফলে সেখানেও ব্যথা হবে।
চিকিৎসা কী?
হিস্টোপ্যাথলজিক্যাল পরীক্ষায় প্রস্টেট ক্যানসার ধরা যায়। এটি একধরনের ইউএসজি গাইডেড বায়োপসি। চিকিৎসার পরিভাষায় যাকে বলে ট্রান-রেক্টাল আন্ডার সাউন্ড (ট্রাস) বায়োপসি বলা হয়। চুম্বক দ্বারা চালিত এক ধরনের মাইক্রোস্কোপিক প্রজেক্টাইল রোগীর রক্তে ঢুকিয়ে দেওয়া হবে বিশেষ উপায়ে। টিউমার কোষ যেখানে মাথা চাড়া দিয়েছে সেই এলাকায় চুম্বক চালিত সেই ক্ষুদ্র জিনিসটি ঢুকে যাবে এবং কোষগুলিকে নষ্ট করতে শুরু করবে।
তাছাড়া শুরুতেই ধরা পড়লে ব়্যাডিক্যাল প্রস্টেক্টমি করে প্রস্টেট বাদ দিয়ে দিলেই ক্যানসার থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যায়। রেডিয়েশন থেরাপির ফলও ভাল। অ্যাডভান্সড স্টেজে পৌঁছে গেলে সবচেয়ে কার্যকর হয় হরমোন থেরাপি। প্রস্টেট ক্যানসারের গতিপ্রকৃতি ভীষন মন্থর। দেরি করে ধরা পড়লেও চিকিৎসা করে প্রস্টেটের ক্যানসার সারিয়ে ফেলা যায়।