
শেষ আপডেট: 28 December 2023 18:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আপনি কি জানেন প্রোবায়োটিক (Probiotic) কী?
রোজের ডায়েটে অবশ্যই প্রোবায়োটিক রাখতে বলছেন চিকিৎসক ও ডায়াটিশিয়ানরা। কিন্তু এই প্রোবায়োটিক আসলে কী? প্রোবায়োটিক সাপ্লিমেন্টও অনেক সময়ে নেওয়ার দরকার পড়ে।
ডয়েট নিয়ে নানা গবেষণা চলছে এখন। একটা সময় শুধু ব্যালান্সড ডায়েটই করতে বলতেন ডায়েটিশিয়ানরা। এখন মানুষের রোগভোগের বহর দেখে, শারীরিক অবস্থা বিচার করে নানারকম ডায়েট করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ডায়েট একরকম, রক্তচাপ-কোলেস্টেরল কমানোর জন্য নির্দিষ্ট কিছু ডায়েট আছে, ওজন কমানোর ডায়েটেরও রকমফের আছে।
তবে প্রোবায়োটিক ডায়েট কমবেশি সকলের জন্যই প্রযোজ্য। পেটের সমস্যা কমাতে ও শরীরে ভিটামিন-মিনারেলসের পরিমাণ ঠিক রাখতে প্রোবায়োটিক খেতে বলছেন পুষ্টিবিদরা।
প্রোবায়োটিক কী?
আমাদের শরীরে দু’ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে— ভাল ব্যাকটেরিয়া ও খারাপ ব্যাকটেরিয়া। এই ভাল ব্যাকটেরিয়াই হল প্রোবায়োটিক। এখন ভাবছেন, তার মানে কি ব্যাকটেরিয়া খেতে বলা হচ্ছে?
আসলে তা নয়, অন্ত্রে ভাল আর খারাপ ব্যাকটেরিয়ার সর্বক্ষণ যুদ্ধ চলে। ভাল ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়লে হজম ভাল হয়, বিপাক ক্রিয়া দ্রুত হয়, পেটের সমস্যা থাকে না। ভাল ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়াতে হলে আমাদের এমন কিছু খেতে হবে যার মধ্যে প্রোবায়োটিক থাকবে। যাদের পেট ফাঁপে, হজমের গোলমাল হয়, জিভে সাদাটে আস্তরণ পড়ে, তাদের অতি অবশ্যই প্রোবায়োটিক খাওয়া উচিত।
প্রতিদিন আমরা যে সব ফল বা শাকসবজি খাই, তার মাধ্যমে অনেক রাসায়নিক আর প্রিজারভেটিভ ঢোকে শরীরে। ফলে খারাপ ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যাও বাড়ে অন্ত্রে। এই খারাপ ব্যাকটেরিয়াদের নষ্ট করার জন্য ভাল ব্যাকটেরিয়াদেরই দরকার হয়, আর তার জন্যই প্রয়োজন প্রোবায়োটিক ।
কোন কোন খাবারে থাকে প্রোয়াবোটিক?
টক দই প্রোবায়োটিকের সবচেয়ে ভাল উৎস। রোজ টক দই খেলে উপকার হবে। টক দই দিয়ে লস্যি বা ঘোল বানিয়েও খাওয়া যায়। ফার্মেন্টেশনে যেসব খাবার তৈরি হয় তাদের মধ্যেই প্রোবায়োটিক পাওয়া যাবে। কয়েক ধরনের চিজেও প্রোবায়োটিক থাকে।
ইডলি, দোসা, দই, আচার, ঘোলের মতো যে কোনও ফারমেন্টেড খাবারেই প্রোবায়োটিক পাওয়া যাবে। কলার মধ্যে প্রচুর ফাইবার থাকে। দই ও ওটসের মতো হোলগ্রেন সিরিয়ালের সঙ্গে মেশালে এর পুষ্টিগুণ আরও বেড়ে যায়। কাঁচা রসুনের মধ্যে ১৭.৫ শতাংশ প্রোবায়োটিক থাকে। সে কারণে কাঁচা রসুন খেতে বলা হয়। বাটার মিল্কেও থাকে প্রোবায়োটিক। বাড়িতেই বানিয়ে নিতে পারেন। প্রোবায়োটিক সাপ্লিমেন্টও পাওয়া যায় বাজারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাট ব্যাকটেরিয়ার সমতা বজায় রেখে প্রোবায়োটিক ইমিউনিটি বাড়ায়। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। অনেক সময়ে ডায়রিয়া হলে চিকিৎসকেরাও প্রোবায়োটিক সাপ্লিমেন্ট প্রেসক্রাইব করে থাকেন।