Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: পয়লা ওভারেই ৩ উইকেট, স্বপ্নের আইপিএল অভিষেক! কে এই প্রফুল্ল হিঙ্গে?ইরান-মার্কিন বৈঠক ব্যর্থ নেতানিয়াহুর ফোনে! ট্রাম্পের প্রতিনিধিকে কী এমন বলেছিলেন, খোলসা করলেন নিজেইWeather: পয়লা বৈশাখে ঘামঝরা আবহাওয়া! দক্ষিণবঙ্গে তাপপ্রবাহের হলুদ সতর্কতা, আবার কবে বৃষ্টি?হরমুজ ঘিরে ফেলল মার্কিন সেনা! ইরানের 'শ্বাসরোধ' করতে ঝুঁকির মুখে আমেরিকাও, চাপে বিশ্ব অর্থনীতি'ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ করা যাবে না', আইপ্যাক ডিরেক্টরের গ্রেফতারিতে বিজেপিকে হুঁশিয়ারি অভিষেকেরভোটের মুখে ইডির বড় পদক্ষেপ! কয়লা পাচার মামলায় গ্রেফতার আইপ্যাক ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেলমহাকাশে হবে ক্যানসারের চিকিৎসা! ল্যাবের সরঞ্জাম নিয়ে পাড়ি দিল নাসার ‘সিগনাস এক্সএল’সঞ্জু-রোহিতদের পেছনে ফেলে শীর্ষে অভিষেক! রেকর্ড গড়েও কেন মন খারাপ হায়দ্রাবাদ শিবিরের?আইপিএল ২০২৬-এর সূচিতে হঠাৎ বদল! নির্বাচনের কারণে এই ম্যাচের ভেন্যু বদলে দিল বিসিসিআইWest Bengal Election 2026 | হার-জিত ভাবিনা, তামান্না তো ফিরবেনা!

দৃষ্টিশক্তি হারানোর আগেই প্রতিরোধ সম্ভব, কয়েকটি ক্ষেত্রে অবহেলা নয়, জানালেন চক্ষু বিশেষজ্ঞ

অনেকেই চোখের যত্ন মানে শুধু পাওয়ার ঠিক করা বা চোখের অস্বস্তির খেয়াল রাখাই বোঝেন। বয়স বাড়া, স্ক্রিনে কাজ করা বা ক্লান্তি - এসব দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তনের স্বাভাবিক কারণ নাও হতে পারে।

দৃষ্টিশক্তি হারানোর আগেই প্রতিরোধ সম্ভব, কয়েকটি ক্ষেত্রে অবহেলা নয়, জানালেন চক্ষু বিশেষজ্ঞ

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 29 January 2026 16:04

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এখন চোখের রোগ প্রতিরোধ ও প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা আগের থেকে অনেক বেশি কার্যকর। তবু দৃষ্টিশক্তি ক্ষয় এখনও একটি বড় জনস্বাস্থ্য (Preventable vision loss in India) সমস্যা হিসেবেই রয়ে গেছে। কারণ, গ্লুকোমা, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি, ক্যাটার‍্যাক্ট বা বিভিন্ন রেটিনার অসুখ - এসবের বেশিরভাগই শুরুতে প্রায় কোনও উপসর্গ ছাড়াই বাড়তে থাকে। ফলে নিয়মিত চোখ পরীক্ষা (Early eye screening), সময়মতো রোগ নির্ণয়, চিকিৎসার নিয়ম মেনে চলা এবং পর্যায়ক্রমিক ফলো-আপ এসবই হয়ে ওঠে অত্যন্ত জরুরি (Eye Health)।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে হায়দরাবাদের ম্যাক্সভিশন শ্রী মহালক্ষ্মী সুপার স্পেশালিটি আই হাসপাতালের সিনিয়র ক্যাটার‍্যাক্ট ও রিফ্র্যাক্টিভ সার্জন ডা. কে সুব্বা রাও ব্যাখ্যা করেছেন, কেন ভারতে অধিকাংশ দৃষ্টিশক্তি ক্ষয় (Vision Loss) আসলে প্রতিরোধযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও তা ধরা পড়ে অনেক দেরিতে।

দৃষ্টিশক্তি ক্ষয় দেরিতে ধরা পড়ার কারণ কী?

ডা. রাও বলছেন, “যেসব চোখের রোগ দৃষ্টিশক্তির জন্য মারাত্মক, সেগুলির বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যথা বা প্রাথমিক সতর্কবার্তা থাকে না। রোগীরা অনেক সময়ই ভাবেন, তাঁদের দৃষ্টি স্বাভাবিক আছে - এদিকে তখন চোখের ভেতরে স্থায়ী ও অপূরণীয় ক্ষতি ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে।”

তাঁর কথায়, নিয়মিত চোখের সম্পূর্ণ পরীক্ষা (comprehensive eye examination) করলে রোগ অনেক আগেই ধরা সম্ভব। “এই ধরনের পরীক্ষায় চোখের চাপ, অপটিক নার্ভ এবং রেটিনায় সূক্ষ্ম পরিবর্তন ধরা পড়ে, যা রোগী নিজে বুঝতেই পারেন না। সময়মতো ধরা পড়লে এমন পর্যায়েই চিকিৎসা শুরু করা যায়, যখন দৈনন্দিন দৃষ্টিশক্তি ততটাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। এতে দীর্ঘদিন দৃষ্টিশক্তি ঠিকঠাক বজায় রাখা সম্ভব,” বলেন তিনি।

ভারতের প্রেক্ষিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও তুলে ধরেন ডা. রাও। তাঁর মতে, দেশে আনুমানিক ১ কোটি ১৯ লক্ষ মানুষ গ্লুকোমায় আক্রান্ত। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগ ধরা পড়ে না, কারণ শুরুর দিকে এটি ওইভাবে দৃষ্টিশক্তিতে প্রভাব ফেলে না। একইভাবে, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি রেটিনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে অনেক আগেই, যখন রোগী কোনও ঝাপসা দেখার লক্ষণ টেরই পান না। ম্যাকুলার প্রাথমিক পরিবর্তনও সামান্য দৃষ্টিবিভ্রাট তৈরি করে, যা সহজেই এড়িয়ে যায়।

“মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে হওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেয়। ফলে রোগের অগ্রগতি আড়ালেই থেকে যায়,” ব্যাখ্যা করেন তিনি।

কেন অনেকেই চোখ পরীক্ষা নিয়ে অতটা দায়িত্বশীল নন?

ডা. রাওয়ের মতে, অধিকাংশ মানুষ চোখের যত্ন বলতে কেবল চশমার পাওয়ার ঠিক করা বা চোখে দৃশ্যমান অস্বস্তিকে বোঝেন। বয়স বাড়া, বেশি স্ক্রিনে কাজ করা বা ক্লান্তি - এসবকে দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তনের স্বাভাবিক কারণ ধরে নিয়ে অনেকেই চোখের পরীক্ষা এড়িয়ে যান।

“যাঁদের নানারকম শারীরিক সমস্যার কারণে চোখের ক্ষতি হওয়ার হাই রিস্ক রয়েছে, তাঁরা অনেক সময়ই ব্যস্ত জীবনযাত্রা এবং নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ে দেরি করেন। ফলে রোগও দেরিতে ধরা পড়ে,” বলেন তিনি।

তবে চোখের রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে ধরার ক্ষেত্রে আধুনিক ডায়াগনস্টিক প্রযুক্তি বড় বদল এনেছে বলেও জানিয়েছেন ডা. রাও। “Optical Coherence Tomography (OCT)–র মাধ্যমে অপটিক নার্ভ ও রেটিনার অতি সূক্ষ্ম পরিবর্তন দেখা যায়। ডিজিটাল রেটিনাল ইমেজিং ডায়াবেটিক ক্ষতির প্রথম লক্ষণ শনাক্ত করে। আবার automated visual field testing দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব পড়ার আগেই কার্যকর দৃষ্টিশক্তির ঘাটতি ধরে ফেলতে পারে। এই প্রযুক্তিগুলি সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করলে সময়মতো ওষুধ, লেজার বা অস্ত্রোপচার - যা প্রয়োজন, তা করা সম্ভব,” বলেন তিনি।

কারা নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করাবেন?

ডা. রাও বিশেষভাবে পরামর্শ দিচ্ছেন -

  • ৪০ বছরের ঊর্ধ্বে সকল প্রাপ্তবয়স্ক
  • ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে যাঁদের
  • পরিবারে গ্লুকোমার ইতিহাস আছে যাঁদের
  • দীর্ঘদিন স্টেরয়েড ব্যবহার করছেন যাঁরা
  • যাঁদের উচ্চ মায়োপিয়া (high myopia) আছে

তাঁদের নিয়মিত সম্পূর্ণ চোখ পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি।

তাঁর কথায়, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়া শুধু দৃষ্টিশক্তি বাঁচায় না, এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য জটিলতাও এড়াতে সাহায্য করে। যেমন, হাইপার-ম্যাচিউর ক্যাটার্যাক্ট বা ফ্যাকোলাইটিক গ্লুকোমা - যা স্থায়ী অন্ধত্ব এবং দীর্ঘস্থায়ী চোখের যন্ত্রণা তৈরি করতে পারে।

আগেভাগে ধরা পড়লে কীভাবে অপূরণীয় ক্ষতি এড়ানো যায়?

ডা. রাও জানান, ৪০-এর বেশি বয়সে গ্লুকোমা দ্রুত ধরা পড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চোখের ভেতরের চাপ (intraocular pressure) বেড়ে গেলে যে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়, তা আর ফেরানো যায় না। কিন্তু সময়মতো চিকিৎসা পেলে তা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ট্যারা চোখ (squint) দ্রুত শনাক্ত করাও জরুরি। এতে অ্যাম্বলিওপিয়া (lazy eye) এবং স্থায়ী দৃষ্টিবিভ্রাটের ঝুঁকি কমে।

ক্যাটার‍্যাক্টের সময়মতো চিকিৎসা শুধু দৃষ্টিশক্তি ফেরায় না, শরীরের ভারসাম্য ও চলাফেরার ক্ষমতা বাড়িয়ে ফিমার হাড় ভাঙার ঝুঁকিও কমায়। ডা. রাওয়ের তথ্য অনুযায়ী, মাঝারি মাত্রার ক্যাটার‍্যাক্টে এই ঝুঁকি প্রায় ১৬% কমে, আর অ্যাডভান্সড সমস্যার ক্ষেত্রে কমে প্রায় ৩৩%।

এছাড়া, নিয়ন্ত্রণহীন ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি দ্রুত স্ক্রিনিং করে লেজার থেরাপি এবং anti-VEGF ইনজেকশনের মাধ্যমে আংশিক থেকে স্থায়ী দৃষ্টিশক্তি ক্ষয় অনেক ক্ষেত্রেই ঠেকানো যায়।

সবশেষে ডা. রাওয়ের কথায়, “নিয়মিত চোখের পরীক্ষা প্রতিরোধমূলক চোখের যত্নের মূল স্তম্ভ। এটি দৃষ্টিশক্তিকে সুরক্ষিত রাখে এবং দীর্ঘমেয়াদে চোখের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে।”


```