
শেষ আপডেট: 18 November 2023 21:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাচ্চারা খেলাধূলা করতে গিয়ে প্রায়শই পড়ে যায়, হাত-পা কেটে, ছড়ে যায়। মাথাতেও আঘাত লাগতে পারে। বাচ্চা খেলতে গিয়ে কখন পড়ে গিয়ে মাথায় চোট পেয়েছে তা হয়ত অনেকসময়ে বুঝতেই পারেন না বাবা-মায়েরা। স্কুলে গিয়েও এমনটা হতে পারে। তাছাড়া চেয়ার, টেবিল, কিংবা খাট থেকে পড়ে গিয়েও মাথায় আঘাত লাগতে পারে।
সামান্য আঘাত দেখলে অনেক সময়েই গুরুত্ব দেন না অভিভাবকেরা। ব্যথার জায়গায় মলম লাগিয়ে বা হাল্কা ডোজে পেন কিলার খাইয়ে দেন। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আঘাত যেমনই হোক বাচ্চাদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা দরকার । সামান্য চোট থেকেই ভবিষ্যতে অনেক বড় ব্রেনের অসুখের সম্ভাবনা থেকে যেতে পারে। তাছাড়া পরবর্তী সময়ে মানসিক কিছু সমস্য়াও হতে পারে। চোট কতটা গভীর তা জেনে রাখা জরুরি।
কী কী উপসর্গ দেখে সতর্ক হতে হবে
মাথায় চোট লাগলে অত্যধিক যন্ত্রণা, কথা বলার সমস্যা, শরীরের ভার নিতে না পারা, মাথা ঘোরা, বমি ভাব থাকবে বাচ্চার।
বাচ্চার চোখের সমস্যা হতে পারে। দৃষ্টি ঝাপসা হতে পারে।
ঘন ঘন মুড সুয়িং, অবসাদ, ভুলে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বাচ্চা খুব অমনোযোগী হয়ে যাবে, মাথাব্যথা হবে মাঝে মাঝেই।
মাক-মুখ দিয়ে রক্ত বেরতে পারে।
চোখে দেখতে, কানে শুনতে সমস্যা হবে।
শ্বাসের সমস্যা হতে পারে।
শিশু বারে বারে জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারে।
যদি মাথার আঘাত গুরুতর হয়, ভেতরে হেমারেজ হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে স্মৃতিনাশ, ব্রেন ডেথের মতো বড় সমস্যা হতে পারে।
শিশুদের রক্তনালী পাতলা এবং ছোট হয়। তাদের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে আঘাত লাগলে ঝুঁকি অনেকটাই বেশি।
বাবা-মায়েরা কীভাবে সতর্ক হবেন?
মাথায় আঘাত লাগলে ফোলা স্থানে বরফ দিতে হবে। চামড়া কেটে রক্ত বেরোতে থাকলে, রক্তপাত বন্ধ করার জন্য কাটা স্থান পরিষ্কার কাপড় দিয়ে চেপে ধরে রাখতে হবে। নিজে থেকে ডাক্তারি না করে শিশুকে দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে।
চোট যেমনই হোক সিটি স্ক্যান করিয়ে রাখা জরুরি। আঘাত বেশি হলে এমআরআই করিয়ে রাখতে হবে, সেই সঙ্গেি নিউরোলজিস্টকে দেখিয়ে নিলে ভাল হয়। স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে কিছুদিন সতর্ক থাকলে ভবিষ্যতে বড় সমস্যার ঝুঁকি কমবে।