যৌনমিলনের সময় ব্যথা কেন হয়? জানুন এর কারণ, লক্ষণ, ঝুঁকি এবং কার্যকর চিকিৎসা ও সমাধান।

শেষ আপডেট: 5 April 2026 13:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যৌনতা— মানুষের জীবনের এক স্বাভাবিক, অন্তরঙ্গ অংশ। কিন্তু অনেকের কাছে এই অভিজ্ঞতাই হয়ে ওঠে যন্ত্রণার (Pain during Intercourse)। যৌনমিলনের সময় বা পরে ব্যথা—চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ডিসপ্যারিউনিয়া (Dyspareunia) এই নিয়ে নীরবে ভোগেন অসংখ্য মানুষ। লজ্জা, সংকোচ বা অস্বস্তির কারণে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হয় না, ফলে সমস্যাও থেকে যায় অমীমাংসিত।
চিকিৎসকদের মতে, এটি শুধু শারীরিক সমস্যা নয়—এর প্রভাব পড়ে মানসিক স্বাস্থ্যে, এমনকি সম্পর্কেও। তাই ব্যথাকে ‘স্বাভাবিক’ ভেবে এড়িয়ে যাওয়া নয়, বরং কারণ খুঁজে সমাধানের পথেই জোর দেওয়া জরুরি।
এই সমস্যার অভিজ্ঞতা সবার ক্ষেত্রে একরকম নয়। কারও ক্ষেত্রে প্রবেশের সময় তীব্র জ্বালা বা খোঁচা লাগার মতো ব্যথা হয়, আবার কারও ক্ষেত্রে গভীরে চাপ পড়লে ব্যথা বাড়ে। অনেকেই মিলনের পরও দীর্ঘক্ষণ অস্বস্তি, ধুকপুকানি বা ক্র্যাম্পের মতো যন্ত্রণা অনুভব করেন।
মহিলাদের ক্ষেত্রে ব্যথা হতে পারে যোনির মুখে, ভেতরের পেশিতে, এমনকি পেলভিক অঞ্চলেও। পুরুষদের ক্ষেত্রে লিঙ্গ, অণ্ডকোষ বা পেলভিক অংশে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর একটি হল পর্যাপ্ত লুব্রিকেশনের অভাব। অর্থাৎ, যোনি যথেষ্ট আর্দ্র না হলে মিলনের সময় ঘর্ষণ বেড়ে ব্যথা হয়। কিন্তু কারণ এখানেই থেমে থাকে না।
এন্ডোমেট্রিওসিস, পেলভিক ফ্লোর পেশির সমস্যা, অন্ত্র বা মূত্রাশয়ের রোগ— এসব শারীরিক অবস্থাও যৌনমিলনকে বেদনাদায়ক করে তুলতে পারে। হরমোনের পরিবর্তন, বিশেষ করে মেনোপজের সময় ইস্ট্রোজেন কমে গেলে যোনি শুষ্ক হয়ে পড়ে, ফলে ব্যথা বাড়ে।
সংক্রমণও বড় কারণ। ইস্ট ইনফেকশন, ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ বা যৌনবাহিত রোগ—এসব ক্ষেত্রেও মিলনের সময় অস্বস্তি হয়। এছাড়া অস্ত্রোপচারের পর, সন্তান জন্মের পরে বা আঘাত লাগার ফলে তৈরি হওয়া ক্ষত থেকেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
মনস্তাত্ত্বিক কারণও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। ভয়, অতীতের খারাপ অভিজ্ঞতা, সম্পর্কের টানাপড়েন— এসবের প্রভাবেও শরীর অনিচ্ছাকৃতভাবে সঙ্কুচিত হয়ে ব্যথার সৃষ্টি করতে পারে।
যদিও যে কোনও বয়সের মানুষ এই সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন, তবে মহিলাদের মধ্যে এর প্রবণতা বেশি। বিশেষ করে মেনোপজের পর এই সমস্যা বেড়ে যায়। তবে এটিকে বয়সের স্বাভাবিক অংশ বলে মেনে নেওয়া ঠিক নয়—কারণ এর চিকিৎসা সম্ভব।
যৌনমিলনে ব্যথা শুধু শারীরিক কষ্ট নয়, এটি মানসিক চাপও তৈরি করে। ধীরে ধীরে যৌনতার প্রতি ভয় বা অনীহা তৈরি হয়, যা সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেক ক্ষেত্রে সঙ্গীর সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে, ভুল বোঝাবুঝিও তৈরি হয়।
চিকিৎসক সাধারণত রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস জানার পর শারীরিক পরীক্ষা করেন। প্রয়োজনে পেলভিক পরীক্ষা, আল্ট্রাসাউন্ড বা ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে সংক্রমণ বা অন্য কোনও সমস্যা আছে কি না তা দেখা হয়। খুব কম ক্ষেত্রে ল্যাপারোস্কোপির মতো পরীক্ষাও করা হতে পারে।
চিকিৎসা নির্ভর করে সমস্যার মূল কারণের ওপর। যদি শুষ্কতা প্রধান কারণ হয়, তবে জল বা সিলিকন-ভিত্তিক লুব্রিকেন্ট ব্যবহারেই অনেক সময় স্বস্তি মেলে। হরমোনের সমস্যা থাকলে চিকিৎসক ইস্ট্রোজেন থেরাপি দিতে পারেন।
সংক্রমণ থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ দেওয়া হয়। পেলভিক ফ্লোর পেশির সমস্যায় ফিজিওথেরাপি কার্যকর হতে পারে। মানসিক কারণ থাকলে কাউন্সেলিং বা সেক্স থেরাপিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
নিজের দিক থেকেও কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যায়—যেমন ভিন্ন ভিন্ন পজিশন চেষ্টা করা, যেগুলোতে ব্যথা কম হয়; মিলনের আগে শরীর ও মনকে রিল্যাক্স করা; প্রয়োজনে হালকা ব্যথানাশক নেওয়া।
যৌনমিলনে ব্যথা কোনও ‘সহ্য করে নেওয়ার’ বিষয় নয়। এটি শরীরের এক ধরনের সংকেত—যা জানায়, কোথাও না কোথাও সমস্যা আছে। তাই লজ্জা বা ভয় সরিয়ে রেখে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলাই সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। কারণ, সঠিক চিকিৎসা ও সচেতনতায় এই সমস্যা কাটিয়ে উঠে আবার স্বাভাবিক, স্বস্তির জীবনে ফেরা সম্ভব।
Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্য ও সচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা। এতে উল্লিখিত কোনও পরামর্শ, চিকিৎসা বা উপসর্গের ব্যাখ্যা ব্যক্তিগত চিকিৎসার বিকল্প নয়। যৌনমিলনের সময় বা পরে ব্যথা অনুভব করলে দেরি না করে অভিজ্ঞ চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। নিজে নিজে ওষুধ সেবন বা চিকিৎসা শুরু করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
This article is intended for general information and awareness purposes only. The symptoms, causes, and remedies mentioned here are not a substitute for professional medical advice, diagnosis, or treatment. If you experience pain during or after intercourse, please consult a qualified healthcare professional without delay. Self-medication or ignoring symptoms may lead to complications.