কর্মব্যস্ত জীবনে অনেক নারী এন্ডোমেট্রিওসিসের লক্ষণ এড়িয়ে যান। দেরিতে ধরা পড়ায় বাড়ছে জটিলতা, জানুন বিস্তারিত।

শেষ আপডেট: 25 March 2026 14:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজকের দিনে চাকরিজীবী মহিলাদের (Working Women) জীবন যেন একটানা দৌড়। অফিস, বাড়ি, পরিবার, নিজের স্বপ্ন— সব সামলাতে সামলাতে দিন কোথায় শুরু আর কোথায় শেষ, অনেক সময় সেটাও বোঝা যায় না। আর এই ব্যস্ততার মাঝেই শরীরের ছোট ছোট সঙ্কেতগুলো চুপচাপ হারিয়ে যায়।
এর পরে যাঁরা চাকরি জীবনে প্রবেশ করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বিষয়টা আরও জটিল হতে থাকে। কাজের চাপ, সময়মতো অফিসে পৌঁছনোর দায়, সব মিলিয়ে শরীর খারাপ থাকলেও তাঁরা সেটা চেপে রাখেন।
সব মিলিয়ে, পেটের ব্যথা, ক্র্যাম্প, ক্লান্তি— এসবকে অনেকেই সাধারণ অস্বস্তি ভেবে এড়িয়ে যান। ব্যথা কমানোর ওষুধ খেয়ে আবার কাজে ফিরে যান।
এভাবেই ধীরে ধীরে ব্যথাটা যেন জীবনের অংশ হয়ে যায়। অথচ এই ব্যথার আড়ালেই লুকিয়ে ছিল এন্ডোমেট্রিওসিসের সঙ্কেত।
কর্মজীবী নারীদের জীবনে সময় যেন সবসময়ই কম। সব কাজ সামলে ওঠাই কঠিন, তার ওপরে নিজের জন্য আলাদা করে সময় বের করাই কঠিন হয়ে পড়ে।
ফলে নিয়মিত চেক-আপ বা ডাক্তারের কাছে যাওয়া বারবার পিছিয়ে যায়। বিশেষ করে যখন মনে হয় সমস্যাটা তেমন গুরুতর নয়।
কিন্তু এন্ডোমেট্রিওসিস এমন একটি রোগ, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও খারাপ হতে থাকে। শুরুতে হালকা থাকলেও পরে তা গুরুতর আকার নিতে পারে। এই কারণেই প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়া কঠিন হয়ে যায়।
এন্ডোমেট্রিওসিসকে অনেক সময় 'ছদ্মবেশী রোগ'ও বলা হয়। কারণ এর লক্ষণগুলো অন্য অনেক সমস্যার সঙ্গে মিলে যায়।
পেট ফাঁপা, কোমর ব্যথা, অতিরিক্ত রক্তপাত, যৌনমিলনের সময় ব্যথা— এসব লক্ষণ অনেক সময় গ্যাস, স্ট্রেস, হরমোনের সমস্যা বা অন্য কোনও সাধারণ কারণে হচ্ছে বলে ধরে নেওয়া হয়। আর যাঁরা সারাক্ষণ কাজের মধ্যে থাকেন, তাঁরা অনেক সময়ই ভাবেন, স্ট্রেস বেশি বা খাওয়া-ঘুম ঠিকমতো হয়নি। এভাবেই আসল সমস্যাটা আড়ালে থেকে যায়।
কর্মক্ষেত্রের পরিবেশও অনেক সময় এই সমস্যাকে বাড়িয়ে তোলে। অনেক জায়গায় এখনও মাসিক বা মেয়েদের সমস্যা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলা 'স্বাভাবিক' নয়। ফলে অনেক মহিলা তাঁদের সমস্যার কথা বলতে অস্বস্তি বোধ করেন।
ছুটি নিলে বা বিষয়টি জানালে কেরিয়ারে প্রভাব পড়তে পারে, এই ভয়ও কাজ করে। ফলে তাঁরা চুপচাপ যন্ত্রণা সহ্য করেন। বাইরে থেকে সব স্বাভাবিক, ভিতরে ভিতরে তীব্র কষ্ট— এই নীরব লড়াই চলতেই থাকে।
এতে শুধু শারীরিক নয়, মানসিক দিক থেকেও প্রভাব পড়ে। উদ্বেগ, হতাশা, সবই ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।
এন্ডোমেট্রিওসিস সময়মতো ধরা না পড়লে তার প্রভাব অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারে। দীর্ঘদিনের ব্যথার পাশাপাশি, এটি বন্ধ্যাত্বের সমস্যা তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি উদ্বেগ, ডিপ্রেশন, কাজের দক্ষতা কমে যাওয়া, এসবও এর সঙ্গে জড়িয়ে যায়।
কিছু ক্ষেত্রে এই রোগ শরীরের অন্য অঙ্গেও প্রভাব ফেলতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। অন্যদিকে, যদি শুরুতেই ধরা পড়ে, তাহলে চিকিৎসার মাধ্যমে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
ফলে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটা দরকার ভাবনায়। আগে বিশ্বাস করতে হবে, শরীর খারাপ মানেই দুর্বলতা নয়। নিজের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখা মানে কোনওভাবেই কাজে অবহেলা করা নয়।
এই জায়গায় কর্মক্ষেত্রেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এমন পরিবেশ দরকার, যেখানে নারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে তাঁদের সমস্যার কথা বলতে পারেন। ফ্লেক্সিবল কাজের সুযোগ, সচেতনতা, এসবে নজর দিতে হবে আলাদা করে।
এত কিছুর মধ্য়েও ভাল খবর হল, সময়মতো ধরা পড়লে এন্ডোমেট্রিওসিসের চিকিৎসা ও নিরাময় সম্ভব। নিয়মিত গাইনোকলজিস্টের কাছে যাওয়া, নিজের শরীরের পরিবর্তনগুলো বোঝা, এবং কোনও লক্ষণ দীর্ঘদিন থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, এই কয়েকটা বিষয়ই সবচেয়ে জরুরি।
আরও জরুরি হল এটা বোঝা, যে এন্ডোমেট্রিওসিস শুধু একটি রোগের গল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সমাজের ধারণা, কাজের চাপ, আর নিজের শরীরকে অবহেলা করার অভ্যাস। এই নীরবতাই ভাঙা দরকার।
কারণ বছরের পর বছর ব্যথা সহ্য করার চেয়ে, একটা সঠিক সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনেক বেশি শক্তিশালী। আধুনিক কর্মজীবী মেয়েদের সেদিকটাও ভাবার সময় এসেছে।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক। এটি কোনও চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য নানা মিডিয়ায় প্রকাশিত বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে লেখা, যা আলাদা করে দ্য ওয়ালের তরফে যাচাই করা হয়নি।
Note: This report is intended for informational purposes only and is not a substitute for medical advice. It is based on statements published across social media and various other media platforms, which have not been independently verified by The Wall.