লো লিবিডো বা কম যৌন ইচ্ছার কারণ কী? জানুন এর শারীরিক, মানসিক কারণ, প্রভাব এবং কার্যকর সমাধান।

বাস্তব বলছে, এটি এখনকার সময়ের বড় সমস্যা।
শেষ আপডেট: 5 April 2026 13:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লিবিডোর অভাব (Low Libido)। যৌনতার অনিচ্ছে (Low Sex Drive)। বয়স আছে, সঙ্গী আছে, সময় আছে, তবু যেন ইচ্ছেটাই নেই শারীরিক মিলনের (Sexual Desire)। অনেকেই বিষয়টা মুখে আনতে চান না। আনলেও, নিজেদের মধ্যে কানাকানিতেই সীমাবদ্ধ। লজ্জা, সংকোচ, কিংবা অস্বস্তি— সব মিলিয়ে লো লিবিডো বা কম যৌন ইচ্ছা যেন গোপন হাসাহাসির একটা ব্যাপার হয়েই থেকে যায়, সমস্যা (Sexual Health) হিসেবে আলোচিতই হয় না।
অথচ বাস্তব বলছে, এটি এখনকার সময়ের বড় সমস্যা। এবং মোটেও বিরল নয়। জীবনের কোনও না কোনও সময়ে বহু মানুষই যৌন আগ্রহ কমে যাওয়া এবং তার জেরে সম্পর্কে সমস্যা (Sexual Health and Relationship) তৈরি হওয়ার অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যান। কারও ক্ষেত্রে এটি সাময়িক, আবার কারও ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী।
সহজ করে বললে, লো লিবিডো মানে আগের মতো যৌন ইচ্ছা না থাকা। আগ্রহ কমে যাওয়া, সময়ান্তরে স্বাভাবিক ভাবে যৌন চিন্তাই না আসা, কিংবা যৌন সম্পর্কে অনীহা— সবই এর লক্ষণ। কিন্তু বিষয়টি শুধু শারীরিক নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মন, সম্পর্ক এবং জীবনযাত্রার নানা দিকও।
গবেষণা বলছে, প্রতি পাঁচজন পুরুষের একজন জীবনের কোনও সময়ে এই সমস্যায় ভোগেন। মহিলাদের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরও বেশি। অর্থাৎ, এটি একেবারেই কোনও 'অস্বাভাবিক' বিষয় নয়। বয়স, হরমোন, সম্পর্কের পরিবর্তন— সব মিলিয়ে যৌন ইচ্ছা ওঠানামা করতেই পারে।
তবে সমস্যা তখনই, যখন এই পরিবর্তন আপনার মানসিক শান্তি বা সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে শুরু করে।
লো লিবিডোর কারণ একটা বা দুটো নয়। এটি একটি বহু স্তরের। শরীর, মন, ওষুধ, সমাজ, সম্পর্ক-- নানা কারণ এটার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে।
শরীরের ভেতরের নানা অসুখ, যেমন ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, থাইরয়েডের সমস্যা— এসবই যৌন ইচ্ছায় প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু হরমোনের মাত্রা বেড়ে বা কমে গেলে এই পরিবর্তন দেখা যায়।
মানসিক দিকটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। স্ট্রেস, উদ্বেগ, ডিপ্রেশন, আত্মবিশ্বাসের অভাব— এই সবকিছুই ধীরে ধীরে যৌন ইচ্ছাকে কমিয়ে দেয়। সম্পর্কের টানাপড়েন, বিশ্বাসের অভাব বা দূরত্ব তৈরি হলেও একই প্রভাব পড়ে।
এছাড়া কিছু ওষুধ, বিশেষ করে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট বা ব্লাড প্রেশারের ওষুধ, যৌন ইচ্ছা কমিয়ে দিতে পারে। অতিরিক্ত মদ্যপান, ধূমপান বা মাদকাসক্তিও এর পেছনে বড় কারণ।
মহিলাদের ক্ষেত্রে পেরিমেনোপজ বা মেনোপজের সময় ইস্ট্রোজেন কমে যাওয়ায় যৌন ইচ্ছা হ্রাস পেতে পারে। যৌনমিলনের সময় ব্যথা, যোনির শুষ্কতা, কিংবা অর্গাজমে সমস্যা—এসবও আগ্রহ কমিয়ে দেয়। গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্ম এবং স্তন্যপান— এই সময়ের হরমোন পরিবর্তনও প্রভাব ফেলে।
পুরুষদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় কারণ হল টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়া। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে এই হরমোন কমে, ফলে যৌন ইচ্ছাও হ্রাস পায়। এছাড়া ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা যৌন সমস্যার কারণে মানসিক চাপ তৈরি হয়ে আগ্রহ কমে যেতে পারে।
এই লো লিবিডো শুধু ব্যক্তিগত কোনও শারীরিক সমস্যা হয়ে থেকে যায় না। এটি সম্পর্কের উপরেও প্রভাব ফেলে। অনেক সময় সঙ্গীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়, ভুল বোঝাবুঝি বাড়ে। নিজেকে অসম্পূর্ণ মনে হওয়া, হতাশা— এসব অনুভূতিও বাড়তে থাকে।
তাই বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার বদলে বোঝা এবং স্বীকার করা জরুরি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, কারণটা বোঝা। চিকিৎসক সাধারণত রোগীর শারীরিক অবস্থা, মানসিক অবস্থা, সম্পর্ক এবং জীবনযাত্রা— সব দিক খতিয়ে দেখেন। প্রয়োজন হলে রক্তপরীক্ষা বা অন্যান্য টেস্টও করা হয়।
চিকিৎসা নির্ভর করে কারণের ওপর। কারও ক্ষেত্রে ওষুধ বদলানোই যথেষ্ট, আবার কারও ক্ষেত্রে হরমোন থেরাপি দরকার হতে পারে। মানসিক সমস্যা থাকলে কাউন্সেলিং বা থেরাপি খুব কার্যকর।
দাম্পত্য জীবনে খোলামেলা কথা বলা—এটাও বড় সমাধান। অনেক সময় শুধু যোগাযোগ বাড়ালেই সমস্যার অর্ধেক মিটে যায়।
Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্য ও সচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা। এতে উল্লিখিত কোনও পরামর্শ, চিকিৎসা বা উপসর্গের ব্যাখ্যা ব্যক্তিগত চিকিৎসার বিকল্প নয়। যৌনমিলনের সময় বা পরে ব্যথা অনুভব করলে দেরি না করে অভিজ্ঞ চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। নিজে নিজে ওষুধ সেবন বা চিকিৎসা শুরু করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
This article is intended for general information and awareness purposes only. The symptoms, causes, and remedies mentioned here are not a substitute for professional medical advice, diagnosis, or treatment. If you experience pain during or after intercourse, please consult a qualified healthcare professional without delay. Self-medication or ignoring symptoms may lead to complications.