নিপা ভাইরাসের মৃত্যুহার সাধারণত খুবই বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, অন্তঃসত্ত্বা মহিলারা এই ভাইরাসে আক্রান্ত (Nipah Virus Symptoms) হলে তার প্রভাব আরও গুরুতর হতে পারে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 19 January 2026 19:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ নতুন করে স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি চিন্তা হবু মায়েদের নিয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থায় শরীরের প্রতিরোধক্ষমতা কিছুটা কমে যায় (Nipah Virus Pregnant Women), আর তখন নিপার মতো প্রাণঘাতী ভাইরাস সহজেই আক্রমণ করতে পারে (Nipah Infection Risks)। ফলে মা এবং গর্ভস্থ শিশু- উভয়ের জন্যই ঝুঁকি বেড়ে যায় অনেকটাই।
গর্ভবতী মহিলাদের জন্য নিপা ভাইরাস কেন এত বিপজ্জনক?
নিপা ভাইরাসের মৃত্যুহার সাধারণত খুবই বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, অন্তঃসত্ত্বা মহিলারা এই ভাইরাসে আক্রান্ত (Nipah Virus Symptoms) হলে তার প্রভাব আরও গুরুতর হতে পারে। এর তিনটি বড় কারণ—
প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়া: গর্ভাবস্থায় রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কিছুটা নরম হয়ে যায়। ফলে ভাইরাস শরীরে ঢুকলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সংক্রমণের মাত্রা বেড়ে যায়।

ভ্রূণের ক্ষতির সম্ভাবনা: নিপা আক্রান্ত হলে জ্বর বাড়ে, শরীরে অক্সিজেন কমে যায়- যা সরাসরি গর্ভস্থ সন্তানের ওপর প্রভাব ফেলে। এতে অকাল প্রসব বা গর্ভপাতের সম্ভাবনা অনেকটা বেশি বেড়ে যায়।
এনসেফালাইটিসের ঝুঁকি: গর্ভবতী মহিলারা নিপায় আক্রান্ত হলে মস্তিষ্কে প্রদাহ বা এনসেফালাইটিস হওয়ার ঘটনা বেশি দেখা গেছে। এই পরিস্থিতি মা এবং শিশুর জন্যই অত্যন্ত বিপজ্জনক। প্রাণের ঝুঁকিও হতে পারে।
কীভাবে সুরক্ষিত থাকবেন? অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের জন্য ৫টি সতর্কতার নিয়ম
নিপা ভাইরাসের এখনও কোনও নির্দিষ্ট ভ্যাকসিন বা ওষুধ নেই (Pregnancy Health Tips)। তাই গর্ভাবস্থায় প্রতিরোধই সবচেয়ে বড় ভরসা (Nipah Virus Prevention)।
ফল খাওয়ার আগে অতিরিক্ত সতর্কতা: ফল অবশ্যই ভালো করে ধুয়ে খাবেন। কোনও দাগ, আঁচড় বা পোকামাকড়ের কামড়ের চিহ্ন থাকলে তা ফেলেই দিন। খোসাযুক্ত ফল যেমন কলা, কমলালেবু- এখন বেশি নিরাপদ।

কাঁচা খেজুরের রস নয়: বাদুড়ের মাধ্যমে নিপা ছড়ানোর প্রধান মাধ্যম এই কাঁচা রস। তাই শীতের এই সময় কাঁচা খেজুরের রস বা তার থেকে তৈরি পানীয় পুরোপুরি এড়িয়ে চলুন।
ভিড় ও হাসপাতাল এড়িয়ে চলা: অপ্রয়োজনে ভিড়ে মধ্যে যাবেন না। চেক-আপের জন্য হাসপাতালে গেলে N95 মাস্ক ব্যবহার করুন এবং নিয়মিত হাত স্যানিটাইজ করুন।
পশুপাখির থেকে দূরে থাকুন: বাদুড় থাকে এমন জায়গা, বা শূকর, গবাদিপশুর সংস্পর্শ- এ সবই ঝুঁকির। তাই এই স্থানগুলো এড়িয়ে চলুন।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মেনে চলা: বাইরে থেকে এলে পোশাক বদলান, স্নান করুন। বাড়িতে কেউ জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত হলে তাকে আলাদা রাখুন।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
হঠাৎ তীব্র জ্বর, মাথা ধরার ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি- এসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি। কারণ গর্ভাবস্থায় শরীরে ছোট ছোট পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হতে পারে।