Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

রাতে দেরিতে ঘুমোচ্ছে দেশবাসী, সতর্ক করে চিকিৎসকরা বলছেন, 'বাড়ছে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস'

সঠিক সময়ে ঘুম না হওয়া যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তা ফের প্রমাণ করল Wakefit-এর ‘গ্রেট ইন্ডিয়ান স্লিপ স্কোরকার্ড ২০২৫’।

রাতে দেরিতে ঘুমোচ্ছে দেশবাসী, সতর্ক করে চিকিৎসকরা বলছেন, 'বাড়ছে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস'

প্রতীকী ছবি

শেষ আপডেট: 10 April 2025 13:35

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সঠিক সময়ে ঘুম না হওয়া যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তা ফের প্রমাণ করল Wakefit-এর ‘গ্রেট ইন্ডিয়ান স্লিপ স্কোরকার্ড ২০২৫’। ভারতের ঘুমসংক্রান্ত অভ্যাস নিয়ে হওয়া এই বিস্তৃত সমীক্ষায় উঠে এসেছে একাধিক উদ্বেগজনক তথ্য। আর সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে কলকাতার চিত্র। সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের মধ্যে সবথেকে বেশি মানুষ কলকাতায় রাত ১১টার পর ঘুমাতে যান—প্রায় ৭২.৮ শতাংশ। অথচ সুস্থ শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য রাত ১০টার মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়া চিকিৎসকেরা ‘আবশ্যিক’ বলে মনে করেন।

সমীক্ষায় অংশ নিয়েছেন দেশের নানা প্রান্তের ৪,৫০০ জন মানুষ, যাঁদের ঘুমের অভ্যাস সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে মার্চ ২০২৪ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর মধ্যে। দেখা যাচ্ছে, ৫৮ শতাংশ ভারতীয়ই নির্ধারিত সময়ের পর ঘুমোতে যাচ্ছেন। তবে কলকাতার চিত্র আরও খারাপ। যেখানে চেন্নাই বা হায়দরাবাদে এই হার ৫৫ শতাংশের কাছাকাছি, সেখানে তা কলকাতায় পৌঁছেছে প্রায় ৭৩ শতাংশে।

রাতজাগার নেপথ্যে আছে ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার, বিনা বিরতিতে ওটিটি-সফরে ডুবে যাওয়া, এবং কাজের পরে কিছুটা ‘নিজের সময়’ ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা—এই অভ্যাসকে বলা হয় "Revenge Bedtime Procrastination"। বিশেষত ২৫-৩০ বছর বয়সি কর্মজীবীরা এই অভ্যাসে বেশি আক্রান্ত, যাঁরা দিনের পর দিন টানা পরিশ্রমের পরে রাতভর বিনোদনে মগ্ন হয়ে ঘুমের সময় পিছিয়ে দিচ্ছেন।

এই প্রেক্ষিতে সতর্কবার্তা দিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ফুসফুসরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অরূপ হালদার, যিনি বর্তমানে CMRI Hospital Kolkata-র কনসালট্যান্ট পালমোনোলজিস্ট। তিনি জানান, “ঘুম কোনও বিলাসিতা নয়, এটা জীবনধারার অপরিহার্য অংশ। ঘুমের অভাব থেকে হাইপারটেনশন, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এমনকি আকস্মিক মৃত্যুও ঘটতে পারে। ঘুমকে অবহেলা করার কোনও অবকাশ নেই।”

তিনি আরও বলেন, “যা সবচেয়ে ভয়ের বিষয়, তা হল ভারতের প্রেক্ষিতে বহু Obstructive Sleep Apnea (OSA) রোগী মোটেই স্থূলকায় নন। অর্থাৎ, জীবনধারা, পরিবেশ ও স্লিপ পলিউশন-ই এখন ঘুমজনিত সমস্যার মূল কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।” একইসঙ্গে Wakefit-এর সমীক্ষায় উঠে এসেছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য—৩৫ শতাংশ ভারতীয় মানুষ ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগে রাতে ঘুমাতে দেরি করেন। মানসিক চাপ থেকে স্লিপ সাইকেলে ছন্দপতন হচ্ছে, যা দিনের পর দিন ঘুমের মান খারাপ করে দিচ্ছে।

সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের ৪৪ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা সকালে উঠে ক্লান্ত অনুভব করেন। ৫৯ শতাংশের অভিযোগ, দিনের বেলায় ঘুম ঘুম ভাব লেগেই থাকে। ফলে কর্মক্ষমতা, একাগ্রতা, মানসিক স্থিতি—সব কিছুতেই প্রভাব পড়ছে। ডা. হালদারের কথায়, এই ঘুম-সংকটের মোকাবিলায় সবচেয়ে জরুরি কাজ হল ‘স্লিপ হাইজিন’ বজায় রাখা। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া, ঘুমানোর আগে ফোন বা স্ক্রিন বন্ধ রাখা, ও ঘুমের আগে মানসিক চাপ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা। এখনই যদি সচেতন না হওয়া যায়, ভবিষ্যতে কলকাতার স্বাস্থ্যচিত্র আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠবে।


```