
সারাদিন ডেস্কে বসে কাজ! শরীর সচল রাখবেন কীভাবে?
শেষ আপডেট: 13 April 2025 20:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘক্ষণ ডেস্কে বসে কাজ (desk job) করা আজকের দিনে ভীষণ স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। কিন্তু এর ফলে শরীরে জাঁকিয়ে বসতে পারে নানা রকম সমস্যা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক জায়গায় বসে থাকলে (sitting for a long time) শরীরের কার্যক্ষমতা কমে যায়, আসতে পারে নানা স্বাস্থ্যসংক্রান্ত জটিলতা (health crisis), যেমন মোটা হয়ে যাওয়া, হৃদরোগ, পেশি ও হাড়ের সমস্যা।
চিকিৎসকদের মতে, একটানা বসে কাজ করার ফলে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সচলতার অভাব দেখা দেয়। আর সেটা থেকেই দেখা দেয় নানা রোগব্যাধি।
সমস্যা যদি থাকে তাহলে তার সমাধানও আছে বটে। কিন্তু কীভাবে?
১) ঘনঘন বিরতি নিন:
প্রতি আধ ঘণ্টা বা এক ঘণ্টা অন্তর উঠে একটু হাঁটুন, হালকা স্ট্রেচিং করুন। দরকার পড়লে নিজের খাবার জল ভরতে নিজেই হেঁটে যান। আবার তা সম্ভব না হলে, ডেস্কে বসে হালকা হাত-পা চালানো আপনাকে সচল রাখবে। সেরকম মনে হলে ঘড়িতে বা ফোনে রিমাইন্ডার সেট করে নিতে পারেন, যাতে এই বিরতিগুলো মনে থাকে।
২) ডেস্ক যেন হয় আরামদায়ক ও স্বাস্থ্যসম্মত:
চেয়ার, ডেস্ক ও মনিটর যেন এমন উচ্চতায় থাকে যাতে কাঁধ, পিঠ বা ঘাড়ে চাপ না পড়ে। একটা ভাল স্ট্যান্ডিং ডেস্ক থাকলে আরও ভাল—এতে আপনি মাঝে মাঝে দাঁড়িয়েও কাজ করতে পারবেন।
৩) ডেস্ক-এক্সারসাইজ করুন:
চেয়ারে বসে করা যায় এমন কিছু হালকা ব্যায়াম—যেমন পায়ের লিফট, চেয়ার স্কোয়াট বা হাতের স্ট্রেচ শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়াবে এবং পেশিকে সচল রাখবে।
৪) হাঁটাহাঁটি করতে করতে ফোন-মিটিং সারুন:
কোনও এক জায়গায় না বসে থেকে হাঁটতে হাঁটতে মিটিং করুন। এতে শুধু শরীরে শুধু নড়াচড়াই হয় না, বরং মস্তিষ্কও সচল হয়। কাজে সৃষ্টিশীলতা আসে, মনোযোগ বাড়ে।
৫) অফিসের বাইরে যতটা সম্ভব যাতায়াত করুন:
সম্ভব হলে হেঁটে বা সাইকেল করে অফিস যান। পাবলিক ট্রান্সপোর্ট নিলে একটা স্টেশন আগে নেমে পড়তে পারেন, হেঁটে যান বাকি রাস্তা। এতে আপনার স্ট্রেস কমবে, শরীরচর্চাও হবে।
৬) সচল থাকতে টেকনোলজির ব্যবহার করুন:
ফিটনেস অ্যাপ বা স্মার্ট ওয়াচের মাধ্যমে নিজেকে মনিটর করুন। এগুলো আপনাকে মনে করবে কখন হাঁটবেন, কতটা সচল ছিলেন। ধীরে ধীরে লক্ষ্য ঠিক করে এগোলে শরীরই জানান দেবে আপনি আগের থেকে ভাল আছেন।
বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: এই সংক্রান্ত কোনও মতামত দ্য ওয়ালের নয়। দ্য ওয়াল স্বাস্থ্য / সাজগোজ সম্পর্কিত কোনও সম্পাদকীয় / সম্পাদক-নিয়ন্ত্রিত তথ্য, পরামর্শ প্রদান করে না। প্রদত্ত পরামর্শ ও তথ্য প্রয়োগের আগে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন। নিজের মতামতকে গুরুত্ব দিন।