
শেষ আপডেট: 14 February 2024 21:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কার-টি সেল থেরাপি একের পর এক ক্যানসার নির্মূল করছে। মারণ রোগ সারানোর নতুন অস্ত্র পেয়েছেন ভারতের বিজ্ঞানীরা। পাশাপাশি আরও একটি থেরাপি সাফল্যের পথে। এটি একধরনের রেডিয়েশন থেরাপি যা অনেক বেশি উন্নত ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন। ক্যানসার রেডিয়েশনের নানা উন্নত পদ্ধতিও আবিষ্কার হয়েছে। যার মধ্যে একটি হল হ্যালসিয়ন রেডিয়েশন থেরাপি সিস্টেম। গতানুগতিক রেডিয়েশনের থেকে অনেক দ্রুত এবং আধুনিক হ্যালসিয়ন রেডিয়েশন সিস্টেম।
ভারতে যেভাবে ক্যানসার রোগীদের সংখ্যা বেড়ে চলেছে তাতে উন্নতমানের থেরাপির প্রয়োগ না হলে এই মারণ রোগকে ঠেকানো খুব মুশকিল। সাধারণ রেডিয়েশন থেরাপিতে যা সম্ভব নয়, সেটাই করতে পারে হ্যালসিয়ন রেডিয়েশন সিস্টেম। সহজ করে বলতে গেলে, ক্যানসার রেডিয়েশন সিস্টেমের অন্যতম আধুনিক পদ্ধতিই হল হ্যালসিয়ন সিস্টেম। অনেক তাড়াতাড়ি এবং সঠিকভাবে এই থেরাপির প্রয়োগ করা যায় ক্যানসার রোগীদের উপর।
এমন এক চিকিৎসা পদ্ধতি যেখানে বাইরে থেকে প্রচণ্ড গতির রশ্মি প্রয়োগ করে শরীরের ক্যানসার আক্রান্ত কোষগুলিকে নষ্ট করে ফেলা হয়। সাধারণত এক্স-রে প্রয়োগ করেন চিকিৎসকরা, তবে ইদানীং অনেক আধুনিক পদ্ধতিও আবিষ্কার হয়েছে যেমন প্রোটন বিম থেরাপি। শরীরে ছড়িয়ে পড়া টিউমার কোষ বা ক্যানসার আক্রান্ত কোষগুলিকে নির্মূল করতে অনেক সময় অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয় না। তখন রেডিয়েশন দিতে হয়। এক্স-রে বা আলোর গতিতে ছুটে চলা প্রটোন কণার আঘাতে ক্যানসার কোষগুলিকে নষ্ট করে ফেলা হয়। রেডিয়েশন থেরাপিতে এমনভাবে টার্গেট স্থির করা হয় যে মেশিন থেকে বের হওয়া রশ্মি বা প্রোটন কণা শুধুমাত্র আক্রান্ত কোষকেই ধ্বংস করবে, আশপাশের সুস্থ কোষে ছোঁয়াও লাগবে না।
কীভাবে কাজ করবে এই থেরাপি?
হ্যালসিয়নকে বলা হয় ‘ইমেজ গাইডেড ইনটেনসিটি-মডুলেটেড রেডিয়েশন থেরাপি’ (IMRT) বা ‘ভলুমেট্রিক আর্ক থেরাপি’ (VMAT) । এর বিশেষত্ব হল কম্পিউটার মডেলের সাহায্য দ্বিমাত্রিক ছবি তুলে সঠিক টার্গেটে ক্যানসার কোষকে রশ্মি ছুড়ে কাবু করতে পারে। এক্ষেত্রে প্রচণ্ড শক্তি এক্স-রে বিম প্রয়োগ করেন অঙ্কোলজিস্টরা। খুব কম সময়ের মধ্যে হ্যালসিয়ন রেডিয়েশন সঠিক নিশানায় ছুটে গিয়ে ক্যানসার আক্রান্ত কোষগুলিকে নষ্ট করে ফেলতে পারে।
হ্যালসিয়ন রেডিয়েশনের আরও একটা বিশেষত্ব হল টিউমার কোষের আকার, তার সঠিক অবস্থান খুব দ্রুত বের করতে পারে এই মেশিন। সেই অনুযায়ী রেডিয়েশন বিমের গতি ও দিক নির্ধারণ করা যায়। প্রায় নিখুঁত এই যন্ত্র ঘুরিয়ে নানা দিকের ক্যানসার বা টিউমার কোষগুলিকে নিশানায় আনা যায়। এমন হিসেব কষে টার্গেট স্থির করা যায়, যাতে সুস্থ কোষগুলিতে কোনও প্রভাব না পড়ে। সংক্রামিত কোষেই পুরো রেডিয়েশন গিয়ে পৌঁছয় এবং কাজও হয় দ্রুত।
দুটো স্তরে এই সিস্টেম কাজ করতে পারে। প্রথমত, এই মেশিনের মাধ্যমে টিউমারের আকার ও আকৃতি অনুযায়ী রেডিয়েশনের রশ্মির গতি, তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বদলে ফেলা যায়। ফলে যে রশ্মিকে তীব্র বেগে শরীরে পাঠানো হয় তা কেবলমাত্র ক্যানসার কোষকেই টার্গেট করে নষ্ট করবে। দ্বিতীয়ত, এই মেশিন অত্যন্ত দ্রুতগতির। ফলে খুব তাড়াতাড়ি অনেকটা রেডিয়েশন রোগীর শরীরে প্রয়োগ করা সম্ভব হয়। আর বেশি রেডিয়েশনে শরীরেরও ক্ষতি হয় না। কারণ অনেকটা জায়গা জুড়ে যদি টিউমার কোষ ছড়িয়ে পড়ে তাহলে একবারে তার বেশিরভাগকেই ধ্বংস করা সম্ভব হয়। টিউমার কোষের বিভাজন এইভাবে থামিয়ে দেওয়া যায় দ্রুত। ফলে রোগীও সেরে ওঠেন খুব তাড়াতাড়ি।