যদিও কিছু ক্ষতি স্থায়ী, তবে ডাঃ ছাবরা জানাচ্ছেন জীবনযাপনে সামান্য পরিবর্তন আনলেই ফুসফুসের কর্মক্ষমতা অনেকটা ফেরানো সম্ভব।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 20 January 2026 12:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফুসফুস (Lungs) আমাদের শরীরে নিঃশব্দে প্রতিনিয়ত প্রাণবায়ুটুকু সঞ্চার করে চলেছে - কিন্তু ধূমপান, বায়ুদূষণের (smoking and air pollution) মতো পরিস্থিতিতে রীতিমতো বেহাল অবস্থা তার। অনেক সময় এমন ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে যে, তা আর সেরে ওঠার জায়গায় থাকছে না, চিকিৎসকরা বারবার সতর্ক (Doctor's advice) করছেন তা নিয়ে।
ফরিদাবাদের যথার্থ সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের পালমোনোলজি বিভাগের ডিরেক্টর গুরমিত সিং ছাবরা (Pulmonologist) বিস্তারিত জানিয়েছেন, কীভাবে এই সব কারণে ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত (lung damage) হয় এবং কীভাবে জীবনযাপনের কিছু পরিবর্তনেই ফুসফুসের কর্মক্ষমতা কিছুটা হলেও ফিরিয়ে আনা সম্ভব (lung care)।
“জন্মের সময় আমাদের ফুসফুস গোলাপি ও একদম সুস্থ থাকে,” বলেন ডাঃ ছাবরা। “কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সিগারেটের ধোঁয়া ও বায়ুদূষণের সংস্পর্শে থাকলে টক্সিন জমে ফুসফুসে, যার ফলে ক্রনিক শ্বাসযন্ত্রজনিত রোগ দেখা দেয় এবং ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।”
তিনি আরও জানান, “ধূমপানে ফুসফুসের এয়ারওয়ে ও অ্যালভিওলাই (যে ক্ষুদ্র বায়ুথলিগুলি গ্যাস বিনিময়ের কাজ করে) ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ফুসফুস ফুলে যায়, অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড বিনিময় কমে যায়, ফলে ধীরে ধীরে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। শুধু তাই নয়, রক্তনালিকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও অন্যান্য জটিলতা বাড়ে।”
যাঁরা ধূমপান করেন তা, তাঁরাও কি সম্পূর্ণ নিরাপদ? “উচ্চমাত্রায় দূষিত এলাকায় বসবাস করা মানে দিনে ২০–৩০টা সিগারেট খাওয়ার সমান,” সতর্ক করেন ডঃ ছাবরা। “বায়ুবাহিত টক্সিন ফুসফুসের বয়স বাড়িয়ে দেয়, COPD-এর ঝুঁকি বাড়ায় এবং সময়ের সঙ্গে ক্যানসারের সম্ভাবনা তৈরি করে।”
ফুসফুস ক্ষতির প্রধান কারণ
ডাঃ ছাবরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ উল্লেখ করেন -
“এই মূল কারণগুলির সংস্পর্শ কমানোই ফুসফুসের সুস্থতার প্রথম ধাপ,” বলেন তিনি।
ফুসফুসের ক্ষতি সারাতে কী করণীয়?
যদিও কিছু ক্ষতি স্থায়ী, তবে ডাঃ ছাবরা জানাচ্ছেন জীবনযাপনে সামান্য পরিবর্তন আনলেই ফুসফুসের কর্মক্ষমতা অনেকটা ফেরানো সম্ভব।
“অত্যন্ত গুরুতর ক্ষেত্রে ফুসফুস প্রতিস্থাপনই শেষ উপায় হতে পারে,” বলেন ডাঃ ছাবরা। “কিন্তু সময়মতো শনাক্তকরণ ও যত্ন নিলে জীবনের মান অনেকটাই ভাল রাখা যায়।”
প্রতিরোধই সেরা উপায়
“ধূমপান ও দূষণ ফুসফুসের ক্ষতি ক্রমাগত বাড়িয়ে দেয়,” সতর্ক করেন ডাঃ ছাবরা। “এক্ষেত্রে একমাত্র উপায় হল ধূমপান ছেড়ে দেওয়া ও দূষণ থেকে নিজেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখা।”
প্রতিদিনের জন্য তাঁর কিছু সহজ পরামর্শ -
খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত জল খাওয়ার ভূমিকা
“অ্যান্টিঅক্সিডেন্টযুক্ত খাবার, যোগাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা ও পর্যাপ্ত জল খাওয়া - সবকিছুই ফুসফুসকে সুরক্ষিত রাখে,” বলেন ডঃ ছাবরা। “শরীরে জল থাকলে মিউকাস পাতলা হয়, ফলে টক্সিন সহজে বেরিয়ে যায় এবং শ্বাসযন্ত্র আরও কার্যকর হয়।”
নিয়মিত এই পদক্ষেপগুলি মানলে ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়ে, শ্বাসকষ্ট কমে, এবং ভবিষ্যতের জটিলতা অনেকটাই এড়ানো যায়।