
শেষ আপডেট: 31 January 2024 13:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্মার্ট না ওভারস্মার্ট?
আপনি কি নিজেকে স্মার্ট ভাবেন নাকি নিজেকে অত্যন্ত বোকা বলেই মনে হয়। আসলে চারপাশে ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা আত্মীয়দের দেখে মনে হয় তারা খুব চটপটে, স্মার্ট। ঝটপট কাজ করে ফেলতে পারে, নিজেকে এখনকার সময়ের সঙ্গে আপ-টু-ডেটও রাখে। মনোবিদরা বলছেন, স্মার্টনেস শুধু স্টাইল স্টেটমেন্ট দিয়ে হয় না। কেতাদুরস্ত পোশাক, ফটাফট কথার পিঠে কথা বললেই স্মার্ট হওয়া যায় না। স্মার্টনেস তখনই আসে যখন বুদ্ধি খোলে ঝটপট, স্মৃতিশক্তি হয় তুখোড়, মেধারও বিকাশ হয় আবার মন থাকে ফুরফুরে। অবসাদগ্রস্ত মন নিয়ে স্মার্ট হওয়া যায় না।
স্মার্টনেসের সংজ্ঞা যাই হোক না কেন, যদি নিজেকে খুব ঝিমিয়ে পড়া, ক্লান্ত বলে মনে হয় তাহলে তা কাটানোর উপায় আছে। মনোবিদরা বলছেন, দৈনন্দির জীবনে এমন কিছু অভ্যাস রপ্ত করতে হয় যাতে মনের সক্রিয়তা বাড়ে। মন যদি তরতাজা থাকে, সব কাজে মন বসে, চিন্তাশক্তি-স্মৃতিশক্তি বাড়ে, যে কোনও কাজ মনোযোগ দিয়ে করা যায় এবং মগজে বুদ্ধির হাওয়া-বাতাস খেলে—তাহলেই বুঝতে হবে আপনি স্মার্ট। যে কোনও পরিস্থিতিতেই আপনি বাজিমাত করতে পারবেন। বুদ্ধি ও চিন্তার স্বচ্ছতা এবং একই সঙ্গে উপস্থিতবুদ্ধি আপনাকে ঝকঝকে, স্মার্ট করে তুলতে বাধ্য।
এখন মনে হতেই পারে এমন নিস্তেজ, ঝিমন্ত জীবনে হঠাৎ করে স্মার্ট হবেন কীভাবে? ‘সাইকোলজি টুডে’ নামক একটি সায়েন্স জার্নালে জাপানের নিউরোসায়েন্টিস্টরা বলছেন, মনকে পজিটিভ ও তরতাজা রাখতে পারে মিউজিক। যদি ৩ মিনিট সঠিক মিউজিক শোনা যায় তাহলে নিমেষে মনের অবসাদ কাটবে, নিজেকে চনমনে মনে হবে। মিউজিকই এমন এক থেরাপি যা মন ও মস্তিষ্ককে সজীব করতে পারে কম সময়ে। আর আপনি যদি নিজের পছন্দের মিউজিক শুনে আনন্দ পান তাহলেই হ্যাপি হরমোনের ক্ষরণ শুরু হয়ে যাবে। নেগেটিভ চিন্তাভাবনা মন থেকে চলে যাবে, ব্রেনের কোষগুলোও চনমনে হয়ে উঠবে।
স্ট্রেসের মোকাবিলা করতে, অবসাদ কাটাতে মিউজিক থেরাপির গুরুত্ব ক্রমশই বাড়ছে। কাউন্সেলিংয়ের পাশাপাশি মিউজিক থেরাপিকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন মনোবিদরা। শুধু বড়দের নয়, ছোটদেরও মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে মিউজিক থেরাপি। মস্তিষ্কে নিউরন থাকে। যা সিন্যাপসিসের মাধ্যমে যুক্ত থাকে। যে কোনও তথ্য মস্তিষ্কে ইলেকট্রিক্যাল ইমপালসে পরিণত হয়ে সিন্যাপসিসের মাধ্যমে বাহিত হয়। গান শোনার সময় মস্তিষ্কে আলফা ও থিটা তরঙ্গ তৈরি হয় যা স্নায়ুগুলোকে সক্রিয় করে তোলে। থিটা তরঙ্গ মস্তিষ্ককে শান্ত ও রিল্যাক্স করে, মনোসংযোগ বাড়ায়। সিন্যাপসিস যত শক্তিশালী হবে স্মৃতিশক্তি ততই বাড়বে। স্ট্রেস বাড়লে তা স্মৃতিশক্তির উপর প্রভাব ফেলে। পড়াশোনা, কাজ, যে কোনও বিষয়ের স্ট্রেস সিন্যাপসিসকে দুর্বল করে দেয়। স্ট্রেস শরীরের ফিল গুড হরমোন ডোপেমাইন ও সিরোটোনিনের মাত্রাও কমিয়ে দেয়। মিউজিক শুনলে ফিল গুড হরমোন বাড়ে যা বুদ্ধি ও স্মৃতিশক্তিকে একইসঙ্গে চাঙ্গা করে তোলে। গবেষকরা দেখিয়েছেন আমাদের মস্তিষ্ক ছন্দে চলে। গানের ছন্দ চিন্তাভাবনার স্বচ্ছতা বাড়াতেও সাহায্য করে। আর গানের ছন্দে ছন্দে যদি ৩ থেকে ৫ মিনিট নাচও করা যায় তাহলে শারীরিক সক্রিয়তাও বাড়ে। যে কোনও কাজে উৎসাহ আসে। তখন আর সকলের মাঝে নিজেকে ক্লান্ত, অবসন্ন, পিছিয়ে পড়া বলে মনে হবে না।