
শেষ আপডেট: 10 October 2023 19:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নুন এমনই একটা জিনিস, যা আপনার খাদ্যতালিকা থেকে একেবারে বাদ পড়লে ঘাটতি পড়বে অতি প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থে। আবার যদি বেশি খাওয়ার অভ্যেস আর ব্লাড প্রেশার সংক্রান্ত সমস্যা একসঙ্গে থাকে, তা হলে হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস বা কিডনির প্রবলেম ধেয়ে আসবে তখনই। অনেকেই রোগা হওয়ার জন্য ডায়েট করার সময়ে খাবারে নুনের পরিমাণ কমিয়ে দেন। ঠিক এমনই লো-সল্ট ডায়েট করতে গিয়ে বিপদে পড়েছিলেন শ্রীদেবী। আসলে নুন শরীরে জলধারণ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে অনেকেই মনে করেন যে, এই জলের ওজনই বডিওয়েট বাড়িয়ে দিচ্ছে। এটা আসলে ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সারাদিনে ঠিক কতটুকু নুন মানুষের শরীরের জন্য জরুরি।
সারাদিনে কতটা নুন খাবেন?
একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের প্রত্যেক দিন এক চা চামচ নুন খাওয়া উচিত। পাঁচ-ছ’গ্রাম নুন খাদ্যতালিকায় রাখাই যায়। তবে কাঁচা নুন না খেয়ে রান্নায় নুন দিয়ে খাওয়াই ভাল। অন্যথায় শুকনো খোলায় নুন নেড়ে, তা খেতে পারেন। বিশেষত উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনির সমস্যায় দীর্ঘদিন ভুগলে কাঁচা নুন খাওয়া বন্ধ করতে হবে।
বেশি পরিমাণে সোডিয়াম এবং তুলনায় কম পরিমাণে পটাশিয়াম শরীরে গেলে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা দেয়। প্রত্যেক দিনের সোডিয়ামের পরিমাণে ৫ গ্রামে বেঁধে দিলে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং কিডনির সমস্যা কমে যেতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে রোজকার খাবারে নুনের পরিমাণ কমালে প্রত্যেক বছর প্রায় ২৫ লক্ষ জীবন বাঁচানো সম্ভব।
মনে রাখবেন, আপনি যত প্যাকেটবন্দি প্রক্রিয়াজাত খাবার বা পানীয় খান, তার প্রত্যেকটির মধ্যেই থাকে সোডিয়াম। তাই প্রসেসড খাবার ও বোতলবন্দি পানীয় থেকে দূরে থাকতে না পারলে বাড়তি সোডিয়ামের হাত থেকে কখনওই মুক্তি পাবেন না। রেস্তোরাঁর খাবার, ফাস্ট ফুড ইত্যাদিকেও সুস্বাদু করে তোলার জন্য প্রচুর পরিমাণে নুন মেশানো হয়। বাইরের খাওয়া বন্ধ করলেও বাড়তি নুনের চাপ থাকে না। তা ছাড়া, প্রচুর জল খান, ব্যায়াম করুন, খাদ্যতালিকায় রাখুন ফল ও শাকসবজি।
কী নুন খাবেন?
বাজারে সি সল্ট, পিঙ্ক সল্ট, রক সল্ট, টেবল সল্ট... ইত্যাদি অনেক ধরনের নুন পাওয়া যায়। প্রত্যেকটিতেই সোডিয়াম থাকে। অনেকেই মনে করেন, সি সল্টে মিনারেল বেশি থাকে, তাই টেবল সল্টের চেয়ে তা বেশি ভাল। মেয়েদের জন্য আয়োডাইজ়ড টেবল সল্ট খাওয়া ভাল।
নুনে শতকরা ৯৭-৯৯ ভাগই হল সোডিয়াম ক্লোরাইড। ফলে নুন খাওয়া বন্ধ করলে প্রথমেই সোডিয়ামের অভাব হবে। এর অভাবে নানা রকমের শারীরিক সমস্যা দেখা দেবে। হঠাৎ প্রেশার কমে গিয়ে মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও বিরল নয়। তাই নুন খান তবে পরিমিত, মেপে। তাহলেই শরীর একদম চাঙ্গা থাকবে।