
গরম বেশি বাড়লে কী হতে পারে?
শেষ আপডেট: 27 April 2024 23:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মানুষের শরীরের সাধারণত তাপমাত্রা ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট, অর্থাত্ ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রা ছাড়িয়ে গেলেই তখন বিপত্তি। বলা হবে জ্বর এসেছে। সাধারণত মানব শরীর ৪২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে। এর বেশি তাপমাত্রা হয়ে গেলে শরীরে প্রোটিনের ভারসাম্যতা নষ্ট হতে পারে, মস্তিষ্কের ক্ষতি হতে পারে।
বাংলাজুড়েই অতি তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে। খাস কলকাতাতেই দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রির উপরে। আগামী দুদিনে তাপমাত্রা আরও ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। তাপমাত্রা য়ত বাড়ছে ততই অসুস্থতা বাড়ছে। গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া, চরম আর্দ্রতায় হিটস্ট্রোক হচ্ছে অনেকের, ভয় বেড়েছে হার্ট অ্যাটাকেরও। এমনকী ডিহাইড্রেশন, ডায়ারিয়া, মাইগ্রেনের সমস্যা ভোগাচ্ছে। রোদে তেতেপুড়ে ক্ষতি হচ্ছে চোখেরও। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি রেটিনার দফারফা করছে।
হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, আগামী দুদিনে পশ্চিমের জেলাগুলির তাপমাত্রা ৪৪-৪৫ ডিগ্রিতে পৌঁছে যাবে। এই চরম তাপমাত্রা সহ্য করা তখন আরও মুশকিল হয়ে পড়বে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানব শরীর ৪০ থেকে ৫০ ডিগ্রি অবধি তাপমাত্রা (১০৪-১২২ ডিগ্রি ফারেনহাইট) সহ্য করতে পারে। তাও সেটা নির্ভর করথে শরীরের মেটাবলিক রেট, হার্টরেট ও ইমিউনিটির উপর। শিশু ও বয়স্কদের পক্ষে বা কোনও কোমর্বিডিটি থাকলে এই বিপুল তাপ সহ্য করা মুশকিল। তখন শরীর নানাভাবে অসুস্থ হতে শুরু করবে।
১৯৮৫ সালের একটি রিপোর্টে নাসা জানিয়েছিল, ৪০ ডিগ্রি থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা পর্যন্ত মানব শরীর মোটামুটি সহ্য করে নেয়। কিন্তু আর্দ্রতা যদি ৫০ শতাংশের নীচে থাকে তাহলে বেশি তাপমাত্রাও সহ্য করা যায়। বেশি তাপমাত্রায় ঘাম হয়, তার মাধ্যমেও শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয়। হাইপোথ্যালামাসের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেরও একটা সীমা আছে। বেশি তাপমাত্রা, অস্বাভাবিক আর্দ্রতায় শরীরে হাইপারথার্মিয়া দেখা দেয়। তখন দুর্বল, বমি ভাব, তেষ্টায় বারে বারে গলা শুকিয়ে যাওয়া, ডিহাইড্রেশনের মতো সমস্যা তৈরি হয় শরীরে। সোডিয়াম, পটাশিয়ামের ভারসাম্য বিগড়ে যায়। তখন বিপদের ঝুঁকি বাড়ে। হঠাৎ করে হিটস্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হয়ে যেতে পারে।