
শেষ আপডেট: 2 February 2024 16:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এইচআইভি বা হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস (HIv) কীভাবে এইডস রোগ ছড়ায় তা এতদিন রহস্যই ছিল বিজ্ঞানীদের কাছে। এডসের জন্য পুরোমাত্রায় দায়ী এই ‘হিউম্যান ইমিউনো ডেফিশিয়েন্সি ভাইরাস’ (এইচআইভি) নামের রেট্রোভাইরাসটি। মানুষের রক্ত ও দেহরসেই একমাত্র বেঁচে থাকে এই ভাইরাস। রোগীর দেহ থেকে অন্যের শরীরে ছড়ায় রক্ত ও বীর্যের মাধ্যমে। বীর্যের মাধ্যমে সংক্রমিত হয় বলেই এই অসুখকে ‘সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ’ বলা হয়। এইচআইভি রেট্রোভাইরাস কীভাবে ‘অ্যাকোয়ার্ড ইমিউনো ডেফিশিয়েন্সি সিনড্রোম’ বা এইডস ছড়ায় সে নিয়ে এতদিন গবেষণা চলছিল। সেই গবেষণাতেই বড় সাফল্য এল।
শিকাগো ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা যুগান্তকারী আবিষ্কার করে ফেলেছেন। গবেষক আরপা হুদাইত ও জর্জি ভথ কম্পিউটার অ্যালগোরিদমের সাহায্যে ভাইরাসের গতিবিধি লক্ষ্য করেছেন। কীভাবে এই ভাইরাস শরীরের কোষে ঢোকে তা জানা গেলেই, এইডসের মতো মারণ রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কার সম্ভব হবে। গবেষকরা বলছেন, ভাইরাস কীভাবে রোগের বীজ শরীরে ছড়িয়ে দিচ্ছে সে কৌশল জানা গেছে। এবার ভাইরাসের দেখানো পথেই তাকে সহজে ঘায়েল করা যাবে।
অধ্যাপক-গবেষক জর্জির কথায়, এইচআইভি ভাইরাসের আকৃতি অনেকটা কোণের মতো। নীচের অংশটা সূঁচালো। ওই অংশ দিয়েই ভাইরাস তার নিউক্লিয়াস দেহকোষের মধ্যে ছে়ড়ে দেয়। এই গোটা প্রক্রিয়াটা পরিচালনা করে ভাইরাসের ক্যাপসিড। ক্যাপসিড হল প্রোটিমের বর্ম যা কেন্দ্রস্থলে থাকা নিউক্লিয়াসকে বেষ্টন করে সুরক্ষা প্রাচীর তৈরি করে। নিউক্লিয়াসের চারদিকে ঘেরাটোপ দিয়ে বেলুনের মতো আকার নেয়। মানব শরীরে ঢুকলে ওই ক্যাপসিড চুপসে গিয়ে রাস্তা তৈরি করে। সেই পথে ভাইরাসের নিউক্লিয়াস বেরিয়ে গিয়ে দেহকোষে ঢুকে পড়ে। নিউক্লিয়াসকে বের করে ভেতর থেকে চাপও দেওয়া হয়। ভাইরাসের নিউক্লিয়াসই হল রোগের বীজ। এতেই থাকে ভাইরাসের আরএনএ। এইচআইভি রেট্রোভাইরাস, কাজেই তার আরএনএ (রাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড) আছে। এই আরএনএ দেহকোষের ঢুকে পড়ে প্রতিলিপি তৈরি করে সংখ্যায় বাড়তে থাকে। তখন খুব দ্রুত রোগ ছড়িয়ে যায় আশপাশের সুস্থ কোষেও।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া এর প্রধান কাজ। দিনের পর দিন এর ফলে দেহে প্রতিরোধহীনতা বাড়তে থাকে। একটা সময় সাধারণ সর্দি-কাশিকেও আটকাতে পারে না শরীর। ফলে মৃত্যু অবধারিত হয়ে ওঠে। সঙ্গমের ক্ষেত্রে সিমেন, প্রি-সেমিনাল ফ্লুইড, ভ্যাজাইনাল ফ্লুইড থেকে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। কোনও এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তির শরীরে ব্যবহার করা অপরিশোধিত সিরিঞ্জ পুনরায় ব্যবহার করলে সংক্রমণ ছড়ায়। ট্যাটু করানোর সময়ও খেয়াল রাখতে হবে যে পরিশোধিত সিরিঞ্জ ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা।
এইচআইভি সংক্রমণের লক্ষণ কী কী?
সংক্রমণের দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে অ্যাকিউট রেট্রো ভাইরাল সিনড্রোম বা এআরএস দেখা দেয়। এই অবস্থাকে বলা হয় ওয়র্স্ট ফ্লু এভার। জ্বর, গলা ব্যথা, শিরা ফুলে ওঠা এর লক্ষণ। চার সপ্তাহ পর্যন্ত জ্বর থাকতে পারে।