সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, 'পরিমিত রোদ' আসলে হার্ট থেকে শুরু করে মানসিক স্বাস্থ্য— সবকিছুর জন্যই এক মহৌষধি।

ভাল থাকতে, রোদে থাকুন কিছুক্ষণ
শেষ আপডেট: 21 March 2026 15:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত কয়েক দশক ধরে চিকিৎসকদের মুখে আমরা মূলত একটাই সাবধানবাণী শুনে এসেছি— অতিরিক্ত রোদ ত্বক পুড়িয়ে দেয়, কখনও কখনও ত্বকের সমস্যা বাড়ায় বা ক্যানসারের (Cancer) ঝুঁকিও ডেকে আনে! তাই সানস্ক্রিন (Sunscreen) ছাড়া বাইরে যাওয়া মানেই বিপদ! কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এখন বলছে অন্য কথা। অতিরিক্ত রোদ (Sun exposure) যেমন ক্ষতিকর, তেমনই একেবারেই রোদ না লাগানো শরীরের জন্য হতে পারে মারাত্মক। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, 'পরিমিত রোদ' আসলে হার্ট থেকে শুরু করে মানসিক স্বাস্থ্য— সবকিছুর জন্যই এক মহৌষধি।
সূর্যরশ্মি কি হার্টের বন্ধু?
এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ রিচার্ড ওয়েলারের মতে, সূর্যের আলো ত্বকের সংস্পর্শে এলে শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড (Nitric Oxide) নামক একটি গ্যাস উৎপন্ন হয়। এই গ্যাস রক্তনালীকে শিথিল করে রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত রোদে সময় কাটান, তাদের হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি অনেক কম।
ভিটামিন ডি-র চেয়েও বেশি কিছু
রোদ থেকে শরীর ভিটামিন ডি পায় যা হাড় মজবুত করে— এটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু কয়েক বছর আগের দুটি বড় ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, শুধু ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট বা বড়ি খেয়ে টাইপ-২ ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের ঝুঁকি পুরোপুরি কমানো সম্ভব নয়। অর্থাৎ, সূর্যের আলোর এমন কিছু গুণ আছে যা কেবল ওষুধে খেয়ে পাওয়া যায় না। রোদ সরাসরি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে এবং প্রদাহ (Inflammation) কমায়।
মন ভাল রাখার 'সেরোটোনিন'
রোদে বেরোলে শুধু শরীর নয়, মনও ভাল থাকে। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি রক্তে সেরোটোনিন (Serotonin) নামক হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা আমাদের মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করে এবং অবসাদ কাটাতে সাহায্য করে। এছাড়া একজিমা বা সোরিয়াসিসের মতো চর্মরোগ কমাতেও রোদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।
আমাদের কী করণীয়?
আমাদের রাজ্যে আর্দ্রতা ও গরম বেশি থাকায় অনেকেই রোদ এড়িয়ে চলেন। কিন্তু কলকাতার মতো ঘিঞ্জি শহর বা ফ্ল্যাট কালচারে যারা থাকেন, তাদের শরীরে রোদের ছোঁয়া লাগে খুব কম। এখানকার চিকিৎসকদের মতে, এরাজ্যে কড়া রোদে দুপুর ১২টা থেকে ৩টে পর্যন্ত সরাসরি না থাকাই ভাল। তবে সকালের নরম রোদ (সকাল ৮টা থেকে ১০টা) শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ভারতীয় বা বাঙালি ত্বকের 'মেলানিন' আমাদের প্রাকৃতিকভাবেই কিছুটা সূর্যের তেজ থেকে রক্ষা করে। তাই ইউরোপীয়দের মতো আমাদের সানস্ক্রিন নিয়ে অতটা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, যদি না রোদে টানা কাজ করতে হয়। শুধু রোদ নয়, বাঙালির প্রিয় মাছেও ভিটামিন ডি থাকে। তবে রোদের বিকল্প কিছু নেই। তাই কিছু খাদ্যাভ্যাস মেনে চলার পাশাপাশি রোদ গায়ে মাখুন। তবেই শরীরের একাধিক সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আসবে ও আয়ু বাড়বে।
সতর্কতা কি তবে প্রয়োজন নেই?
ভয়-ভীতি কাটিয়ে পরিমিত রোদের সুফলটুকু গ্রহণ করতে হবে। তবে কিছু বিষয়ে কড়া সতর্কতা জরুরি:
১. সময় নির্বাচন: সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত রোদের তেজ যখন সবচেয়ে বেশি থাকে, তখন সরাসরি রোদে দীর্ঘক্ষণ না থাকাই ভালো।
২. সুরক্ষা: বাইরে বেরোলে ছাতা, টুপি বা সানগ্লাস ব্যবহার করুন।
৩. ব্যক্তিগত ঝুঁকি: যাদের পরিবারে স্কিন ক্যানসারের ইতিহাস আছে, তাদের বেশি সতর্ক থাকতে হবে।
রোদ মানেই শত্রু নয়। সঠিক সময়ে এবং সঠিক মাত্রায় সূর্যের আলো মাখা দীর্ঘ জীবনের চাবিকাঠি হতে পারে।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক। এটি কোনও চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য নানা মিডিয়ায় প্রকাশিত বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে লেখা, যা আলাদা করে দ্য ওয়ালের তরফে যাচাই করা হয়নি।
Note: This report is intended for informational purposes only and is not a substitute for medical advice. It is based on statements published across social media and various other media platforms, which have not been independently verified by The Wall.