
শেষ আপডেট: 26 December 2023 17:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রেগে আগুন, তেলে বেগুন....
আপনারও কি এই অবস্থাই হয়? যখন তখন রেগে অগ্নিশর্মা। কথায় কথায় মাথায় দপ করে আগুন জ্বলে ওঠে। তারপরই সর্বনাশ। যাকে যা খুশি বলে দেওয়া, সন্তান দুষ্টুমি করলে বকাবকি, মারধর, আপনজনদের সঙ্গে চেঁচামেচি-অশান্তি। কিছুক্ষণ পরে রাগ কমে গেলেই অনুশোচনা, মন খারাপ।
এই রাগের সঙ্গে কিন্তু খিদের বেশ একটা মাখোমাখো সম্পর্ক আছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, যখন তখন খিদে পেলেই 'আহারে' বসা ঠিক নয়। এই খিদেটা আবার বেশি পায় রাগ হলে ও রাগ কমে যাওয়ার পরে। অনেকেই বলেন, রাগ, দুশ্চিন্তা হলে চনচন করে খিদে পায়। রাগ কমে যাওয়ার পরেও খাই খাই ভাবটা থাকে।
কেন এমন হয়?
বিজ্ঞানীরা বলছেন, খুব আনন্দ হোক বা মনে ব্যথা পান, কেউ প্রশংসা করুক বা বকাঝকা খান, যে কোনও পরিস্থিতিতেই মন কিছু একটা চায়। আর সেটা খাবার হলেই বেশ হয়। অনেক সময়েই এটা হয় মনের খিদে। দুশ্চিন্তা কমে গেলে, মাথা ঠান্ডা হলে তখন খিদেভাবটা চাগাড় দিয়ে ওঠে। ফ্রিজে রাখা চকোলেট থেকে রঙিন আইসক্রিম, চিপস থেকে পেস্ট্রি—এইসব মুখরোচক খাবারের দিকেই মনের যত আকর্ষণ। মনোবিদেরা বলেন, পেট ভরা খাবার নয়, মন ভরা খাবার।
আবার সবসময় যে মনের খিদে পায়, তেমনটাও নয়। অতিরিক্ত চিন্তা, রাগ, টেনশন হলে আমাদের স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে যায়। এই হরমোনই খাই খাই ভাবটা ফিরিয়ে আনে। এই সময় চর্বি জাতীয় খাবার ও মিষ্টি খেতে বেশি ইচ্ছা করে। আর নিয়ম ভেঙে সেসব গোগ্রাসে খেয়ে ফেললে ওজনও বাড়তে থাকে।
অল্পেই রাগ, মাথা গরম, উত্তেজনা হয় যাঁদের তাঁরা নানাবিধ শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভোগেন । অনেকেরই অল্প বয়সে প্রেশার বাড়ে, ইস্কিমিয়া হয়, হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা বেড়ে যায়৷ গবেষণা বলছে, যাঁদের রাগ খুব বেশি তাঁদের মধ্যে ইস্কিমিক হার্ট ডিজিজের আশঙ্কা স্বাভাবিক মানুষের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ও হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা তিন গুণ৷ অল্পসল্প রাগ সকলেরই হয়। রেগে গেলে অনেকেই চেঁচামেচি করেন আবার কিছুক্ষণ পরেই স্বাভাবিক হয়ে যান। কিন্তু রাগ যদি ক্রনিক হতে থাকে, মানে ঘন ঘন মেজাজ বিগড়োতে থাকে তাহলে চিন্তার কারণ আছে।
রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে গেলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হলেও ঘন ঘন খিদে পায়। এই সময় মুড সুয়িংও হতে পারে। মাথা ঘোরা ,ক্লান্তি,ঘাম, বমি বমি ভাব হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণ। লেপটিন নামক একধরনের হরমোন খাওয়ার ইচ্ছে নিয়ন্ত্রণ করে। এই হরমোন ঠিক মতো কাজ না করলে ভরা পেটেও খিদে পায়।
স্ট্রেস কমাতে হবে, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় লাগাম টানতে হবে। আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হবে। মন খাই খাই করলে ফ্রিজ খুলে ক্যাডবেরি বের করে নেবেন নাকি খোলা হাওয়ায় গিয়ে হাঁটাহাঁটি বা শরীরচর্চা করে নেবেন, সেটা একেবারেই আপনার চয়েস! প্রথমটায় মেদ বাড়বে, দ্বিতীয়তে শরীর-মন-মস্তিষ্ক তরতাজা থাকবে।