ডায়েট শুরু পর ক্লান্ত লাগার বিষয়টি কি স্বাভাবিক? কেনই বা হয়? এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা দিলেন ডায়াবেটোলজিস্ট।

শেষ আপডেট: 3 February 2026 19:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন উদ্যম নিয়ে ডায়েট শুরু করার উত্তেজনাই আলাদা। ফিটনেসের লক্ষ্য সামনে স্থির রেখে খাদ্যাভ্যাসে বদল আনা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা তো বটেই। কিন্তু ঠিক এই সময়েই অনেকে খেয়াল করেন অদ্ভুত এক ক্লান্তি (diet fatigue)। শরীর যেন কাজ করতে চাইছে না। সাধারণ কাজও ভারী মনে হয়, মনখারাপ গ্রাস করে - এমনকী মনে প্রশ্ন জাগে, নতুন এই ডায়েট আদৌ কাজ করছে তো?
এই অবসন্ন লাগার বিষয়টি কি স্বাভাবিক (is diet fatigue normal)? কেনই বা হয় (diet fatigue reasons)? এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা দিলেন থানের কিমস হাসপাতালের ডায়াবেটোলজি বিভাগের প্রধান বিজয় নেগালুর (diabetologist advice)।
ডায়েটের শুরুতেই ক্লান্তি গ্রাস করা কি স্বাভাবিক?
ডা. নেগালুরের মতে, ডায়েটের একেবারে শুরুর দিকে এই অভিজ্ঞতা খুবই সাধারণ, বিশেষ করে যখন ক্যালোরি ইনটেকের খেয়াল রাখতে মেপেজুপে তা কমানো হয়।
তিনি বলেন, “ডায়েটের প্রথম দিকে এটা খুব স্বাভাবিক। কারণ এতদিন পর্যন্ত শরীর নিয়মিত খাবার, বিশেষ করে কার্বোহাইড্রেট থেকে পাওয়া গ্লুকোজের উপর নির্ভর করেই চলতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল।”
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, শরীরের এই বদলের প্রক্রিয়াটি ঠিক কেমন -
“হঠাৎ ক্যালোরি কমানো হলে আগের মতো জ্বালানির যোগানও কমে যায়। তখন শরীরকে জমে থাকা চর্বিকেই (ফ্যাট) প্রধান শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করতে শিখতে হয়। এই বদল হতে সময় লাগে। সেই সময়টুকুতে অনেকেই ঝিমঝিম ভাব, মাথা ঘোরার মতো অনুভূতি বা দুর্বলতা টের পান, যদিও তাঁরা শারীরিকভাবে সুস্থই রয়েছেন।”
ডা. নেগালুর জানান, ক্যালোরি কমানোর সময় শরীর নিজের শক্তির ভারসাম্য রক্ষা করতে চায়। ফলে স্ট্রেস হরমোন বাড়ে এবং থাইরয়েডের কার্যকলাপ সামান্য ধীর হয়, যাতে শক্তি সঞ্চয় করা যায়। এই কারণেই ওজন কমতে শুরু করলেও ক্লান্তি অনুভব হতে পারে।
মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ঘাটতিও কি দায়ী (micronutrient deficiency)?
সবসময় যে ক্লান্তির কারণ কম খাওয়া, তা নয়। বিশেষজ্ঞ জানান, আয়রনের ঘাটতি হলে পেশি ও মস্তিষ্কে অক্সিজেন পৌঁছনো কমে যায়।
এর পাশাপাশি ম্যাগনেসিয়াম ও বিভিন্ন ভিটামিনের ভূমিকার কথাও বলেন তিনি। “ম্যাগনেসিয়াম কম থাকলে পেশির কাজ ও ঘুমের মান খারাপ হতে পারে। ভিটামিন বি খাবারকে শক্তিতে রূপান্তর করতে সাহায্য করে। তাই ডায়েটে কিছু খাবার বাদ দিলে অজান্তেই এই পুষ্টিগুলির ঘাটতি তৈরি হতে পারে, যা মানুষকে ক্লান্ত করে দেয়।”
খাবারের সময় ও কার্বোহাইড্রেট ইনটেক কি সাহায্য করতে পারে?
ডা. নেগালুরের পরামর্শ, নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট বিরতিতে খাবার খাওয়া জরুরি। দিনের শুরুর দিকে কিছুটা কার্বোহাইড্রেট খেলে শক্তির মাত্রা বজায় থাকে। একইসঙ্গে কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট মিলিয়ে খেলে রক্তে শর্করার হঠাৎ ওঠানামা কমে। এতে সারাদিন বেশি চনমনে ও সতর্ক থাকা যায়।
ডায়েট শুরু করেই যদি ক্লান্ত লাগে, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। শরীর নতুন ছন্দে মানিয়ে নিতে সময় নিচ্ছে - এই সময়টুকু পার হলেই অনেকটাই স্বস্তি মিলবে।