
ফ্যাক্ট চেক
শেষ আপডেট: 29 March 2025 18:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হলুদ নাকি কাঁচা সোনার সমান। পড়ে গেলে চুনের সঙ্গে মিশিয়ে, ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে ফেসপ্যাকে, একটুকরো খালি পেটে- এমন নানাবিধ উপায়ে আমরা হলুদের ব্যবহার করতে দেখে আসছি মা-ঠাকুমাদের। কাঁচা হলুদের (Raw turmeric) অনেক গুণ (benefits) রয়েছে একথা অস্বীকার করার নয়।
কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক কিছুই ভাইরাল হয়। তেমনই একটা ভাইরাল রিল চোখে পড়েছে সবার। সেখানে বলা হচ্ছে, কাঁচা হলুদ অটোইমিউন ডিজিজ (Autoimmune disease) রোধ করে এবং আয়ুবৃদ্ধি করে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত সেবনে নাকি ফ্লু-এর মতো সাধারণ সমস্যা থেকে মুক্তি, বাড়বে শরীরের ইমিউনিটি পাওয়ারও। কাঁচা হলুদের কি সত্যি এমন কোনও গুণ রয়েছে?
অটোইমিউন ডিজিজ (Autoimmune disease) কী?
অটোইমিউন ডিজিজ হল এমন একটি শারীরিক অবস্থা, যেখানে মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা (ইমিউন সিস্টেম) ঠিকভাবে কাজ করে না। অর্থাৎ শরীরে থাকা যাবতীয় কোষ ও টিস্যু ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে। সাধারণত, ইমিউন সিস্টেম দেহকে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক উপাদান থেকে রক্ষা করে। তবে অটোইমিউন ডিজিজের ক্ষেত্রে ইমিউন সিস্টেম ভুল করে সুস্থ কোষকেও ক্ষতিকারক মনে করে এবং তাদের উপর আক্রমণ শুরু করে, যা বিভিন্ন অঙ্গ বা টিস্যুর ক্ষতি করতে পারে। তার পেছনে থাকতে পারে কোনও জিনগত, পারিপার্শ্বিক বা জীবনযাত্রার প্রভাব।
ডাক্তারদের কী মত এই ব্যাপারে?
নভি মুম্বইয়ের ডক্টর আলমাস ফাতমা (জেনারেল ফিজিশিয়ান, পোস্টগ্র্যাজুয়েট ইন ডিজিটআল হেলথ) জানান, ‘নানা গুণাগুণ থাকলেও হলুদ খেলে তা অটোইমিউন ডিজিজ রোধ করে, এই কথার কোনও বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘হলুদে রয়েছে কারকিউমিন, যার অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল প্রপার্টি থাকে। শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এই কারকিউমিন। কিন্তু এই উপাদান শরীরে অ্যাবসর্ব হয় খুব কম। গোলমরিচের (এতে থাকে পিপেরিন থাকে) সঙ্গে খেলে তাও শরীর কিছুটা উপকৃত হয় হলুদ থেকে। তবে যে উপায়েই ব্যবহার করা হয়ে থাকুক না কেন, কোনও কিছুই ডাক্তারের পরামর্শের থেকে বেশি গুরুত্বপুর্ণ নয়। হলুদ বেশি খেলেও তার নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। পেটের সমস্যা, আলসার, গলব্লাডারে পর্যন্ত খারাপ প্রভাব পড়তে পারে।’
ডাক্তারদের মতে, শুধু হলুদ কোনওভাবেই ফ্লু সারিয়ে তুলতে পারে না। আরও অনেক কিছু ফ্যাক্টর কাজ করে সেখানে। ঠিক একইভাবে, হলুদের গুণে আয়ুবৃদ্ধি হবে এমন দাবিও ভুল। এসবের কোনও বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণ কোথাও নেই।
অতএব, ভাইরাল ওই রিলের সব দাবিই ভুল। তবে এটা ঠিক যে শরীরের যত্ন রাখলে, নিয়ম মেনে খাওয়াদাওয়া করলে, ব্যালেন্সড লাইফস্টাইল বজায় রেখে চললে শরীর রোগের সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারে। শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে ফেলে না রেখে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।