
শেষ আপডেট: 6 February 2024 20:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে ‘মৃত’ এক কৃত্রিম উপগ্রহ। যে কাজে তাকে পাঠানো হয়েছিল, তা শেষ হয়েছে অনেক আগেই। এ বার ফেরার পালা।
ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির ইআরএস-১ ও ইআরএস-২ কে মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল সেই ১৯৯৫ সালে। পৃথিবীর জলবায়ু বদলের গতি্রকৃতি জানতে কাজ করছিল ওই দুই কৃত্রিম উপগ্রহ। এদের মধ্যে ইআরএস-২ ( ERS-2)স্যাটেলাইটের মৃত্যু হয়েছে ১৩ বছর আগে। মৃত স্যাটেলাইটের দেহ পৃথিবীর কক্ষ থেকে খসে পৃথিবীর দিকেই ধেয়ে আসছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢুকলে বায়ুর ঘর্ষণে আগুন ধরে যাবে তাতে। যত মাটির দিকে নামবে ততই আগুনের তেজ বাড়বে। জ্বলন্ত সেই উপগ্রহের মৃতদেহ কোনও শহরের উপর আছড়ে পড়লেই সর্বনাশ। সীমাহীন ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির পাঠানো এই ইআরএস-২ স্যাটেলাইট এতদিন বন্ধুর মতোই কাজ করেছে। ওজন স্তরে কী কী বদল হচ্ছে তার সবটাই দেখে, বিশ্লেষণ করে পৃথিবীতে পাঠাত এই স্যাটেলাইট। এর কাজ ছিল আরও। জলবায়র বদল, স্থানীয় কোনও জায়গার আবহাওয়ায় কী কী বদল হচ্ছে, সমুদ্রের জলস্তরের বাড়া-কমা, পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি সহ মেরুপ্রদেশে হিমবাহের গলন—সবটাই নজর করত সে। কোন এলাকায় হিমবাহ গলছে, কোথায় সমুদ্রপৃষ্ঠের জলস্তরের উচ্চতা বাড়ছে, কোন এলাকায় তাপপ্রবাহ জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছে এসব খবর পাঠানোই ছিল এর কাজ। কিন্তু যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে ১৩ বছর আগেই তার যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে যায়। তারপর থেকেই পৃথিবীর দিকে একটু একটু করে নেমে আসছে সেই মৃত উপগ্রহের নিথর দেহ।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর বুলেট গতিতে ভূপৃষ্ঠে নেমে আসবে। ৩২০ কিলোমিটার উপর থেকে একরকমে নীচের দিকে পড়ে যাবে সেটি। তবে স্যাটেলাইট মাটিতে পড়ার আগেই যাতে ধ্বংস হয়ে যায় সে চেষ্টা শুরু হয়েছে। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির গবেষকরা, স্যাটেলাইটের গতিবিধি নজর করছেন। মহাকাশ গবেষণার দফতর থেকে ভূপৃষ্ঠের ১৫০-১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত স্যাটেলাইটটির গতিবেগ নিয়ন্ত্রণ করা হবে।পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের একাধিক স্তর রয়েছে। সেখানে প্রবেশের পর অধিকাংশ পদার্থতেই আগুন ধরে যায়। ক্ষেত্রেও তেমনটাই হবে বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উচ্চতায় আস্ত স্যাটেলাইটটাই জ্বলেপুড়ে ধ্বংস হয়ে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।